menu

সুন্দরবনে ফের আগুন

সংবাদ :
  • এমাদুল হক (শামীম), শরণখোলা (বাগেরহাট)
  • ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ মে ২০২১
image

পূর্ব-সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ২৪নং কম্পার্টমেন্টের আওতাধীন দাসের ভাড়ানী টহল ফাঁড়ির মাঝেরচর এলাকায় গহিন সুন্দরবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকাল অনুমান পৌনে দশটার দিকে স্থানীয়রা শরণখোলা-চাঁদপাই রেঞ্জের মধ্যবর্তী এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলি উড়তে দেখে প্রথমে সংশ্লিষ্ট দাসের ভাড়ানী ক্যাম্পের বনরক্ষীদের খবর দেন। খবর পেয়ে শরণখোলা রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা আ. মান্নানের নেতৃত্বে দাসের ভাড়ানী, ভোলা ও নাংলী টহল ফাঁড়ির একদল বনরক্ষীসহ স্থানীয় (সিপিজির) সদস্যরা বনের ওই এলাকায় যান।

পাশাপাশি শরণখোলা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট একই দিন দুপুরে ক্যাম্প এলাকায় পৌঁছালেও লোকালয় হতে অগ্নিকাণ্ডের এলাকা দুর্গম হওয়ায় বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত তারা ঘটনাস্থলে পানি সরবরাহ করতে পারেননি। তবে, বনবিভাগ জানায়, অতিরিক্ত দাবদাহের কারণে মাটির নিচে বিভিন্ন প্রজাতির জমে থাকা গাছের পাতা গরম হয়ে প্রাকৃতিকভাবে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। অপরদিকে, স্থানীয়দের মতে, বনের মধুসহ নানা প্রকার সম্পদ চোরাইপথে যারা আহরণ করেন তাদের অসাবধানতার কারণে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।

এছাড়া, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে বন-বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন, শরণখোলা রেঞ্জের (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মিজানুর রহমান. শরণখোলা থানার ওসি মো. সাইদুর রহমান শরণখোলা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. এমাদুল হক (শামীম)সহ নানা শ্রেণীপেশার মানুষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তাছাড়া নাম গোপন রাখার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বনরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু অসাধু মানুষ গভীর জঙ্গলে ঢুকে মাছ, কাঁকড়া ও মধুসহ নানা সম্পদ সংগ্রহ করে। তাদের অসচেতনতার কারণে এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে সুন্দরবনে। এ অগ্নিকাণ্ডের কারণে বন্যপ্রাণীদের ক্ষতি হতে পারে। তাই সুন্দরবন সুরক্ষায় সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।

এ ব্যাপারে শরণখোলা রেঞ্জের (এস.ও) আ. মান্নান জানান, বাতাসের তীব্রতার কারণে আগুন বনের প্রায় দেড় থেকে দুই একর এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তবে লতাপাতা ছাড়া বড় গাছগুলোর যাতে কোন ক্ষতি না হয়, সে জন্য চারদিক থেকে ইতোমধ্যে নালা কাটা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পানি সরবরাহ শুরু করলে আর কোন বিপদ থাকবে না। তাছাড়া বন-বিভাগ ছাড়াও আগুন নেভানোর কাজে স্থানীয় বাসিন্দারা সহযোগিতা করেন।