menu

সৌদি আরব-ওমান বিশেষ ফ্লাইটের যাত্রা

বাতিল ফ্লাইটের টিকিট পাওয়া নিয়ে দুর্ভোগ প্রবাসীদের

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১
image

রাজধানীর সোনারগাঁওয়ে সৌদি এয়ারলাইন্স কার্যালয়ের সামনে টিকিটের জন্য প্রবাসী কর্মীদের উপচেপড়া ভিড় -সংবাদ

সৌদি প্রবাসীদের বাতিল হওয়া ফ্লাইটের টিকিট পাওয়া নিয়ে প্রবাসী কর্মীদের দুর্ভোগ কাটছেই না। ভুক্তভোগী প্রবাসী কর্মীদের অনেকের ভিসার মেয়াদ কিংবা ফ্লাইটের নির্ধারিত দিনক্ষণ শেষ হতে চললেও অধিকাংশের কপালে টিকিট জুটেনি। এদিকে, গতকাল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও এয়ার অ্যারাবিয়ার বিশেষ ফ্লাইটযোগে ৪৭৬ জন প্রবাসীকর্মী সৌদি আরব ও ওমান গেছেন। তাদের মধ্যে বিমানে ২৭১ জন ও এয়ার অ্যারাবিয়ায় ২০৫ জন।

অন্যদিকে, আরও নয়টি ফ্লাইটে দেড় সহস্রাধিক যাত্রীর বিভিন্ন দেশে যাওয়ার সিডিউল রয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা থেকে টিকিট কনফার্ম করতে প্রবাসী কর্মীরা রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের অফিসের সামনে এবং মতিঝিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অফিসের সামনে ভিড় জমাচ্ছেন। তবে কবে তাদের টিকিট দেয়া হবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। ফলে দুর্ভোগ যেন কাটছেই না প্রবাসীদের।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সর্বাত্মক লকডাউনের কারণে চার দিনের সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) মধ্যপ্রাচ্যের চারটি ও সিঙ্গাপুরের একটিসহ মোট পাঁচটি দেশে বিশেষ ফ্লাইটে প্রবাসী কর্মীদের পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। গত শনিবার থেকে এসব ফ্লাইট চালু হওয়ার কথা থাকলেও কোন ফ্লাইট পরিচালনা করেনি সৌদি এয়ারলাইন্স। ল্যান্ডিং পারমিশন না হওয়ায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সেরও একাধিক ফ্লাইট বাতিল হয়। এ কারণে তিনদিন ধরে সৌদি প্রবাসীরা (শুক্রবার, শনিবার ও রোববার) কারওয়ান বাজারে সৌদিয়ার অফিস এবং মতিঝিলের বিমান অফিসে দৌড়ঝাঁপ করছেন।

গতকাল সকাল থেকে সৌদি প্রবাসীরা সৌদিয়ার অফিসের সামনে টিকিটের জন্য ভিড় করতে থাকেন। সৌদিয়া থেকে জানানো হয়, বাতিল হওয়া ১৪ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ফ্লাইটের টিকিট ১৮ এপ্রিলে দেয়ার কথা ছিল। সে হিসাবে প্রথমে ১৪ তারিখের টিকিট দেয়া শুরু হয়। কিন্তু সকালে টিকিট দেয়া শুরুর পাঁচ মিনিট পরেই প্রবাসীদের মধ্যে হইচই শুরু হয়। বিভিন্ন দেশে ফিরতি টিকেট রি- ইস্যু করতে রাজধানীর মতিঝিলে বিমানের অফিসে এবং হোটেল সোনারগাঁওয়ে সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্সের অফিসে দ্বিতীয় দিনের মতো ভিড় করেন প্রবাসী কর্মীরা।

সাউদিয়ার সামনে অপেক্ষমান বেশ কয়েকজন প্রবাসী শ্রমিক জানান, সৌদি আরব ফিরতে না পারলে আগামী তিন চার দিনের মধ্যে তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।

এদিকে মতিঝিলে বিমানের অফিসের সামনে ভিড়ের চাপে পড়ে এক প্রবাসী কর্মীর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে থাকা অনেকেই জানিয়েছেন, লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যে নানা ঝামেলা সয়ে তারা বিভিন্ন জেলা থেকে অনেক খরচ করে ঢাকায় এসেছেন। ‘কিন্তু এখানে এসে আমরা বিমানের কর্মকর্তাদের কাছে জানতে পারছি না কবে আমাদের ফিরতি টিকেট রি-ইস্যু করা হবে’ বলছিলেন সিলেটের কানাইঘাট থেকে আসা প্রবাসী কর্মী তাজউদ্দিন আহমেদ।

সৌদি আরবের টিকিট পেতে এসেছেন আমিনউদ্দিন নামের আরেকজন, তিনি বলেন, গত ১৬ এপ্রিল তার কর্মস্থলে ফেরার তারিখ ছিল। লকডাউন এবং উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তিনি তা পারেননি।’

আমিনউদ্দিন বলেন, ‘আগামী ২১ এপ্রিল ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। যদি তার আগে পৌঁছাতে না পারি তাহলে বড় ঝামেলায় পড়ে যাব।’ শনিবার ঢাকা থেকে আটটি ফ্লাইট বাতিলের কারণে বাংলাদেশি কয়েক হাজার প্রবাসী কর্মীর কর্মস্থলে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সরকার গত ১৪ এপ্রিল এক সপ্তাহের জন্য বাংলাদেশে সব ধরনের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের আসা যাওয়া বন্ধ ঘোষণা করে। একদিন পরই প্রবাসী কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরার সুবিধার্থে কর্তৃপক্ষ সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং সিঙ্গাপুরের জন্য ১০০ বিশেষ ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দেয়।

গতকাল নির্ধারিত ১২টি বিশেষ ফ্লাইটের মধ্যে বিকেল তিনটা পর্যন্ত ৪টি ফ্লাইট ঢাকা ছেড়ে গেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ উল আহসান জানান, এই চারটি ফ্লাইটের মধ্যে ঢাকা-দাম্মাম এবং ঢাকা-রিয়াদ রুটের দুটি ফ্লাইট বাংলাদেশ বিমান পরিচালনা করেছে। তিনি আরও বলেন, ঢাকা-মাস্কাট রুটে ওমান এয়ার একটি এবং ঢাকা দুবাই রুটে এমিরেটস একটি ফ্লাইট পরিচালনা করে। এয়ারপোর্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, করোনাভা?ইরাসের প্রকোপ কমাতে দেশব্যাপী চলমান এক সপ্তাহের লকডাউনের কারণে দেশে আটকা এক হাজারের মতো প্রবাসী শ্রমিক এই চারটি ফ্লাইটে সৌদি আরব, ওমান ও আরব আমিরাতে তাদের কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন। বিমানবন্দরের পরিচালক জানিয়েছেন, নির্ধারিত ১২টি ফ্লাইটের কোনটি এখন পর্যন্ত বাতিল হয়নি।