menu

আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে

ভারতে একদিনে ৬ হাজারের বেশি মৃত্যু

করোনায় ১ সিংহীর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯

  • ঢাকা , শুক্রবার, ১১ জুন ২০২১
image

করোনায় আক্রান্ত মৃত্যু ব্যক্তির শেষ কৃত্বের জন্য প্রস্তুত করছে কর্তব্যরত কর্মকর্তারা -রয়টার্স

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে রীতিমতো বিপর্যস্ত ভারত। এর মধ্যেই একদিনে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর রেকর্ড হলো দেশটিতে। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতের তালিকায় যোগ হয়েছে ৬ হাজার ১৩৮ জনের নাম, মহামারীর দেড় বছরে যা সর্বোচ্চ।

বিহার রাজ্য সরকার মহামারীতে প্রাণহানির সংশোধিত তালিকা প্রকাশের ফলে এক দিনে মৃত্যুর রেকর্ড হলো ভারতে। গতকাল ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৯৪ হাজার ৫২ জন। একই সময়ে মারা গেছে ৬ হাজার ১৪৮ জন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিহারে মঙ্গলবার পর্যন্ত করোনায় মৃতের সংখ্যা ছিল সাড়ে ৫ হাজার। এরপর সংশোধনী প্রকাশের এক দিনের ব্যবধানে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ হাজার ৪২৯ জনে। মৃতের তালিকায় নতুন করে যোগ হয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ জনের নাম। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে আগের ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ২১৯ জনের মৃত্যু হয়। এর সঙ্গে বিহারের সংখ্যাটি যুক্ত হয়ে এক দিনে মৃত্যু ৬ হাজার ছাড়ায়। দীর্ঘ মহামারীতে ভারতে এ পর্যন্ত প্রাণহানি ৩ লাখ ৬০ হাজারের কাছাকাছি। আর করোনা শনাক্ত হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৯২ লাখ মানুষের দেহে। ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ৯৪ হাজার।

করোনায় প্রাণহানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় এবং শনাক্তের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ ভারত।

মহামারীর দ্বিতীয় ধাক্কায় এপ্রিল-মে মাসে বিপর্যয়ের চরমে পৌঁছে যায় ভারত। দিনে ৪ হাজারের বেশি মৃত্যু আর কয়েক লাখ মানুষের দেহে ভাইরাস শনাক্ত হচ্ছিল তখন।

মে মাসের শেষ সপ্তাহে দৈনিক মৃত্যু ও সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা কমতে শুরু করে। এ ধারা জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহেও নি¤œমুখী।

এমন পরিস্থিতিতে ভারতে মহামারীর তৃতীয় ধাক্কার শঙ্কা জোরালো হতে থাকায় এবার আগাম ব্যবস্থা নিচ্ছে দেশটির সরকার।

এর মধ্যে অন্যতম হলো আগামী ৬ থেকে ৭ মাসের মধ্যে ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহের লক্ষ্যে দিনে ৫ হাজার টন অক্সিজেন উৎপাদন করা। রোগ প্রতিরোধে টিকা কার্যক্রমের গতি বাড়িয়েছে সরকার। দেশটিতে টিকা নিয়েছেন প্রায় ৩৪ লাখ ভারতীয়। এর মাধ্যমে ১৩৩ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে এ পর্যন্ত টিকার আওতায় আসা মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল সোয়া ২৪ কোটিতে। এদের মধ্যে ৪ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষ দুই ডোজই নিয়েছেন। বাকিরা নিয়েছেন শুধু প্রথম ডোজ। সর্বোচ্চ টিকা দানকারী দেশের তালিকায় চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পর তৃতীয় অবস্থানে ভারত।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, টিকা কার্যক্রমের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার কমছে।

শনাক্তের হার বুধবার নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশে। টানা তৃতীয় দিনের মতো এ হার ৫ শতাংশের নিচে ছিল। দিনের সর্বোচ্চ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে তামিলনাড়ু, কেরালা, মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকে। এদিকে, ভারতের চেন্নাইয়ে একটি চিড়িয়াখানায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক সিংহীর। সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে আরও ৯টি সিংহ। এরপরেই কোয়মবত্তুর ও নীলগিরি জেলার বন দপ্তরের ৫৬টি হাতির করোনা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, কোঝিমুরি ক্যাম্পে ২৮টি হাতির নমুনা সংগ্রহ করার সময় তামিলনাড়ুর বনমন্ত্রী কে রামচন্দ্র নিজে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ১৮টি পুরুষ ও ১০টি স্ত্রী হাতি রয়েছে। তাদের মধ্যে ৩টি কুনকি হাতি, ৫টি সাফারি হাতি ও ৪টি বয়স্ক হাতি রয়েছে। সেই ক্যাম্পের ৬০ জন মাহুত ও তাদের পরিবারকে ইতোমধ্যেই টিকা দেয়া হয়েছে। মাদুমালাইয়ের থেপ্পাকাদু ক্যাম্পের ২৮টি হাতির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখানকার ৫২ জন মাহুত, ২৭ জন সহকারী মাহুত ও তাদের পরিবারকেও টিকা দেয়া হয়েছে।

হাতির নমুনাগুলো উত্তরপ্রদেশের ইন্ডিয়ান ভেটেরনারি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যেই সেই রিপোর্ট এসে পৌঁছাবে তামিলনাড়ুর বন দপ্তরের হাতে।