menu

সবাই বলে টিকা দেবে কিন্তু ...

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , শুক্রবার, ১১ জুন ২০২১
image

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বলেছেন, যাদের কাছে টিকা আছে, তারা সবাই বলে দেবে। কিন্তু কখন দেবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলে না।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে আমাদের টিকা দেবে, তবে কবে দেবে সেটি এখনও বলেনি। তারা অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও অন্যান্য টিকা কোভ্যাক্সের অধীনে দেবে।’

গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্যালেস্টাইনকে অনুদান হিসেবে মেডিকেল সামগ্রী প্রদান উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আবদুল মোমেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রথম থেকে বলে আসছেন, ‘টিকা যেন সার্বজনীন পণ্য হয় এবং সব দেশের লোকের বৈষম্যহীনভাবে পাওয়া উচিত।’ এ বিষয়ে আমরা জোরালো বক্তব্য দিয়েছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে মোট টিকার ৯৯.৭ শতাংশ আছে ধনী দেশের কাছে। মাত্র ০.৩ শতাংশ গরিব দেশগুলোর কাছে। এজন্য হাহাকার এবং কেউ পাচ্ছে না।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে একটি রিপোর্ট আছে, অস্ট্রেলিয়ার মোট লোক সংখ্যা হচ্ছে ২৫ মিলিয়ন। তারা টিকা সংগ্রহ করেছে ৯৩.৮ মিলিয়ন। আমরা তাদের কাছে চেয়েছি। তাদের টিকা দেয়ার জন্য বলেছি। তারা বলেছে দেবে। সবাই বলে দেবে, কিন্তু হাতে আসছে না।’

যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা আনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে টিকার জন্য অনুরোধ করেছি। আমাদের দেশে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ প্রথম ডোজ নিয়েছেন। টিকা না পেলে তারা দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারছেন না। আমরা জরুরি ভিত্তিতে তাদের কাছে টিকা চেয়েছি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে এক হাজার ৬৫৪ জন বাংলাদেশি-আমেরিকান হোয়াইট হাউজে একটি পিটিশন করেছেন বাংলাদেশের সমস্যার বিষয়ে। আমেরিকানদের বক্তব্য হলো, বাংলাদেশে এই রোগের প্রভাব কম এবং সেজন্য তারা আমাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করছে না।

অনুষ্ঠানে প্যালেস্টাইনের জনগণের জন্য বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির প্রায় ৪০ লাখ টাকার ১৪৩০ কেজি ওজনের ১৪৮ কার্টুন চিকিৎসাসামগ্রী গ্রহণ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান, ঔষধ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক এসএম সফিউজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।

এদিকে নিপীড়নের মুখে মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিয়ে জাতিসংঘের এক সভায় যোগ দিতে আগামী রোববার যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন। ওই সভার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অন্য কয়েকটি আয়োজনে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

গতকাল অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘আমার যাওয়া হচ্ছে জাতিসংঘে। দুটি বড় ইভেন্ট আছে। একটা রোহিঙ্গাদের ওপরে। ’

‘নতুন রোহিঙ্গারা কী অবস্থায় আছে, এটা নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ও অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) যৌথভাবে একটি বড় আয়োজন করেছে। সেখানে আমাকে দাওয়াত দিয়েছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে।’

সফরে নিউ ইয়র্কে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) পঞ্চম শীর্ষ সম্মেলনেও যোগ দেয়ার কথাও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা এলডিসি থেকে উত্তরণ করছি। উত্তরণের সময় আমাদের কোভিডের কারণে কিছু সমস্যাও আছে। আমরা মোটামুটিভাবে সিপিডিকে জানিয়েছি, আরও দুই বছর অতিরিক্ত আমাদের এলডিসি থেকে উত্তরণে সাহায্য করবে। এবং ২০৩৩ সাল পর্যন্ত ওষুধ রপ্তানিতে সুবিধা আমরা চেয়েছি।

‘সেগুলো যাতে সব সদস্য গ্রহণ করে, সেসব একাধিক ইস্যু নিয়ে আমার যাওয়া।’ ‘সুযোগ হলে’ ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি বিলংকেনের সঙ্গেও বৈঠকও হতে পারে বলে জানান মোমেন। ‘সেক্রেটারি অব স্টেট তখন সফরে থাকবেন। ওরা আমাদের বলেছে, যদি শিডিউল চেইঞ্জ করতে পারেন, ডেট যদি ফ্লেক্সিবল হয়, তাহলে আমরা দেখব।’