menu

শিশু ধর্ষণ ও হত্যা

দুই আসামির খালাসের আদেশ স্থগিত

সংবাদ :
  • আদালত বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ জুলাই ২০২১

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ঝাটিবুনিয়া গ্রামের ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় ফাঁসির দ-প্রাপ্ত দুই আসামিকে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে এ বিষয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামী ১ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানি নিয়ে গতকাল বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের চেম্বর জজ আদালত এ আদেশ দেন।

খালাস স্থগিত হওয়া আসামিরা হলেন নিহত শিশুটির মামাতো ভাই উপজেলার বুখাইতলা বান্ধবপাড়া গ্রামের মেহেদী হাসান ওরফে স্বপন (২২) ও একই গ্রামের সুমন জমাদ্দার (২০)।

আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মমতাজ উদ্দিন ফকির। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ্।

আপিল এবং ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে গত ৩০ জুন হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি এ এসএম আবদুল মবিনের ভার্চুয়াল বেঞ্চ ফাঁসির দ-প্রাপ্ত দু’জনকে খালাস দিয়ে রায় দেন।

এর আগে ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পিরোজপুরের জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক গোলাম কিবরিয়া দুই আসামিকে মৃত্যুদ- দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তাদের এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছিল।

মামলা সূত্রে জানা যায়, শিশুটি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার ঝাটিবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিল। সে একই উপজেলার বুখাইতলা-বান্ধবপাড়ায় নানা বাড়িতে থেকে স্থানীয় হাতেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে লেখাপড়া করত। ২০১৪ সালের ৫ অক্টোবর সকালে গরুকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য ওই বিদ্যালয়ের মাঠে যায় শিশুটি। দুপুরেও ঘরে না ফেরায় স্বজনেরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরদিন দুপুরে বাড়ির পাশের একটি বাগানে শিশুটির বস্ত্রহীন ও ক্ষত-বিক্ষত মৃতদেহ পাওয়া যায়।

খবর পেয়ে মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। তদন্তে দেখা যায়, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস এ ঘটনায় শিশুটির মামাতো ভাই মেহেদী হাসান স্বপনের সংশ্লিষ্টতা পান। পরে মেহেদী ও তার সহযোগী সুমন জমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। সুমন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, তিনি ও মেহেদী মেয়েটিকে বাঘ দেখানোর লোভ দেখিয়ে বাগানে নিয়ে প্রথমে ধর্ষণ করে। বিষয়টি যাতে জানাজানি না হয়, সেজন্য পরে তারা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যা করে।

রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, শিশুটির বড় বোন বিথীকে ভালোবেসে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল মেহেদী। বিথীর পরিবার এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে স্বজনেরা মেহেদীকে অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেয়। কিন্তু তাতেও বিথীর প্রতি আকর্ষণ কমেনি মেহেদীর এবং স্ত্রীর ওপর প্রায়ই নির্যাতন করত সে। একই বাড়িতে থাকায় ওই শিশুটি তাতে বাধা দিত। এ নিয়ে শিশুটির ওপর রাগ ছিল মেহেদীর। একপর্যায়ে মেহেদী তার বন্ধু সুমনকে নিয়ে ফন্দী আঁটেন শিশুটিকে ধর্ষণ করে হত্যা করলে স্বজনেরা এ নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। সে সুযোগে বিথীকে অপহরণ করে পালিয়ে যাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শিশুটিকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়। মামলায় ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন আদালত।