menu

শিকলবন্দী সত্তরোর্ধ জহুরুল স্ত্রী অচল পাশে নেই কেউ

সংবাদ :
  • মনিরুজাজামান সরকার, লালমনিরহাট
  • ঢাকা , শনিবার, ০৮ মে ২০২১
image

সত্তরোর্ধ জহরুল ইসলাম। গত তিনবছর আগে আকস্মিক মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটে। এ অবস্থায় কয়েকবার নিখোঁজও হন। এক বছর ধরে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয় ওই বৃদ্ধকে। অর্থের অভাবে চিকিৎসাও হচ্ছে না তার। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ৯নং সিংঙ্গীমারী গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ জহরুল ইসলাম। অতি কষ্টে দিনমজুরি করে দুই ছেলে ও তিন মেয়েকে বড় করেছেন। তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেন। দুই ছেলেও বিয়ে করে বউ নিয়ে অন্যত্র বসবাস করছেন। ছোট ছেলে শহিদুল ইসলাম রাজমিস্ত্রির কাজ করে অসুস্থ বাবা-মা ও তার স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে অতিকষ্টে সংসার চালান। চার বছর আগে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে জহুরুলের স্ত্রী শরীফা বেগমের এক হাত ও এক পা অচল হয়ে পড়ে। অর্থের অভাবে স্ত্রীর চিকিৎসা করতে পারেননি। এসব চিন্তায় একসময় জহুরুলের মস্তিষ্কে বিকৃতি ঘটে। এরপর শুরু হয় পরিবারে সীমাহীন দুর্ভোগ। নিরুপায় হয়ে পড়েন বৃদ্ধ অসুস্থ্য স্বামী-স্ত্রী। তাদের ছোট ছেলে শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দিনমজুরি করে ঠিকমতো দুইবেলা খাবার জুটে না। অর্থের অভাবে মায়ের চিকিৎসা করাতে পারিনি। এ চিন্তায় বাবা দুবছর ধরে পাগল প্রায়। কয়েকবার নিখোঁজও হন। তাই দিনের বেলা বাবাকে গাছের সঙ্গে শিকলে বেঁধে রাখা হয়। বৃদ্ধ জহরুল ইসলামের স্ত্রী শরীফা বেগম বলেন, ‘অভাবের সংসারে একটা ছেলের উপার্জনে পাঁচজনে খাই। আমি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার পর স্বামীর মাথার সমস্যা দেখা দেয়। টাকার অভাবে দুজনই চিকিৎসা করতে পারি নাই। অসুস্থ্য অবস্থায় ঘরে দুজনেই পড়ে আছি।’ প্রতিবেশী আবেদ আলী বলেন, ‘বৃদ্ধ জহরুল ইসলাম মানসিক রোগী,সবাইকে ভয় দেখায়। কোথাও গেলে আর বাড়ি ফিরতে পারে না। তাই আমরা তার পায়ে শিকল দিয়ে গাছে বেঁধে রেখেছি।’ এ বিষয়ে সিংঙ্গীমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন দুলু জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ওই পরিবারকে সাহায্য করা হবে। এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন বলেন, ‘শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে ওই পরিবারকে সাহায্য করা হবে।’