menu

ঝালকাঠিতে বোরোর বাম্পার ফলন

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশক, ঝালকাঠি
  • ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ মে ২০২১
image

ঝালকাঠি জেলায় এ বছর প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না থাকা বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে, এতে কৃষক ঘরে এখন আনন্দের বন্যা বইছে। তবে করোনা পরিস্থিতিজনিত কারণে এ বছর ঝালকাঠি জেলায় অনাড়ম্বরভাবে বোরো ধান কর্তন শুরু হয়েছে। এ বছর জেলায় আবাদের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে সাড়ে ১১ হাজার হেক্টরে আবাদ হয়েছে। জেলার ৪টি উপজেলার সিংহভাগ বোরো আবাদ হয়েছে ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলায়। জেলায় এ বছর প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ বা দুর্বিপাক না থাকায় কৃষকরা বাম্পার ফলন ঘরে তুলছে। এ পর্যন্ত কর্তন থেকে উচ্চ ফলনশীল জাতের আবাদ থেকে হেক্টর প্রতি সর্বাধিক ৭ মেট্রিকটন এবং হাইব্রিড জাত থেকে সর্বাধিক ৮ মেট্রিকটন ধানের ফলন হয়েছে। জানুয়ারি মাসের ১ম সপ্তাহ থেকে বীজ রোপণ করে এপ্রিল মাসের শেষে এসে ধান কর্তন করছে কৃষকরা। জেলায় বিনা-১০, ব্রি-২৮,ব্রি-২৯, ব্রি-৪৭,ব্রি-৫৮, ব্রি-৬৭, ব্রি-৬৯, বি-৭৪, ব্রি-৮৪ ও ব্রি-৮৯ এবং হাইব্রিড জাতের মধ্যে ব্রি-৩ ও ৫, দুর্বার, তেজগোল্ড, সাথী, ময়না ও এসিআই এর রাজকুমার জাতের আবাদ হয়েছে। এ বছর করোনা পরিস্থিতিজনিত কারণে বড় বড় শহর থেকে কাজ হারিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসা অনেকেই নতুন করে বোরো আবাদে নেমেছে। বাজারে এ বছর এখন পর্যন্ত ধানের দাম ভাল থাকায় বাম্পার ফলন পেয়ে কৃষকদের মধ্যে রয়েছে আনন্দ। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে এই চাষাবাদে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও কৃষকদের সঙ্গে থেকে জেলায় আবাদ সম্প্রসারণ ও বাম্পার ফলন পেয়ে তাদের আত্মতৃপ্ত হয়েছেন। 

ঝালকাঠি সদর উপজেলায় কেওরা ইউনিয়নের সংগ্রামনীল গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান তালুকদার ৬ বছর পূর্বে রেলওয়ে বিভাগ থেকে চাকুরি থেকে অবসর নিয়েছেন। তিনি তার এই গ্রামে নিজ বাড়িতে এসে ১ একর জমিতে ১ম বারের মত বিনা-১০ জাতের বোরো ধানের আবাদ করেছেন। ধানের ফলন বাম্পার ফলন পেয়ে তিনি। একই গ্রামের কৃষক মনির হাওলাদার কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ১ বিঘায় কৃষি প্রদর্শনী সহায়তাসহ সাড়ে ৩ একরে বি-১০ জাতের বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তিনি জানান, এ বছর চাষাবাদে কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল না। ধান কর্তনকালে এই এলাকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুন্নাহারসহ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রিফাত সিকদার উপস্থিত ছিলেন। কৃষিবিদ রিফাত সিকদার জানান, এ বছর ধানের ফলন ভাল হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল জাত থেকে হেক্টর প্রতি ৬-৭ মেট্রিকটন এবং হাইব্রিড জাত থেকে সাড়ে ৭ থেকে ৮ মেট্রিকটন পর্যন্ত ধানের ফলন হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলাই আবাদ সম্প্রসারিত হয়ে এ বছর ৫ হাজার ২শ ৫৫ হেক্টরে বোরো আবাদ হয়েছে। 

ধান কেটে ঘরে তুলে দিয়েছে যুবলীগ

করোনা মহামারীতে শ্রমিক সঙ্কটে দিশেহারা ঝালকাঠির এক কৃষকের দুই বিঘা জমির বোরো ধান কেটে আঁটি বেঁধে মারাই করে ঘরে তুলে দিয়েছে জেলা যুবলীগের নেতাকর্মীরা। আজ শনিবার সকালে সদর উপজেলার আগলপাশা গ্রামের কৃষক সাইফুল তালুকদারের জমির ধান কাটেন তারা।