menu

সর্বোচ্চ অবস্থানে শেয়ারবাজার

ছয় হাজার ৪০০ পয়েন্ট ছাড়াল ডিএসইএক্স

সংবাদ :
  • অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ জুলাই ২০২১
image

করোনা মহামারীর মধ্যেও রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছে শেয়ারবাজার। ঈদুল আজহার আগের শেষ কার্যদিবসে গতকাল দেশের প্রধান শেয়ারবাজারের সার্বিক মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৬ হাজার ৪০০ পয়েন্ট অতিক্রম করেছে। এরই মাধ্যমে শেয়ারবাজার আবারও সর্বোচ্চ অবস্থানে স্থিতি পেয়েছে। এদিকে, গতকাল শেয়ারবাজারে বিক্রয় চাপ অব্যাহত থাকলেও বাজার মূলধনও নতুন করে রেকর্ড গড়েছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক সিএসসিএক্স ১১৭ পয়েন্ট বাড়লেও আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে। তবে, বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরের উত্থানে সিএসই’র বাজার মূলধনও রেকর্ড গড়েছে। গতকাল লেনদেন শেষে ডিএসই ও সিএসই’র বাজার পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল লেনদেন শুরুর পর একপর্যায়ে ১৩ পয়েন্ট পড়ে গেলেও পরে ব্যাংক ও বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর দাম বাড়তে থাকায় সূচকে যোগ হতে থাকে পয়েন্ট। বেলা ১টা ৩৩ মিনিটে সূচক ৬ হাজার ৪০২ পয়েন্টে পৌঁছে। দিন শেষে সূচকের অবস্থান ছিল ৬ হাজার ৪০৫ পয়েন্ট। এরই ধারবাহিকতায় ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি চালু হওয়া নতুন সূচক ডিএসইএক্স সর্বোচ্চ অবস্থানের রেকর্ড আবারও ভেঙেছে। এদিকে, ১ বছরের ব্যবধানে ডিএসইএক্স সূচক ২৩৫৪.৩৯ পয়েন্ট বা ৫৮ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ ২০২০ সালের ১৯ জুলাই ডিএসইএক্স ছিল ৪০৫০.৬৫ পয়েন্টে। যা গতকাল (১৯ জুলাই ২০২১) তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪০৫.০৪ পয়েন্টে।

ডিএসই’র প্রধান সূচকের পাশাপাশি গতকাল ব্লু-চিপ খ্যাত ৩০ কোম্পানির মূল্যসূচক ডিএসই-৩০ সূচক ১৬.৩৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৩২২.৩৭ পয়েন্টে, যা ডিএসইর ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আর ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ৮.৩৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩৮৭.৭৬ পয়েন্টে।

এদিন ডিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৬৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকার। যা আগের দিনের চেয়ে ৫২৮ টাকা কম। এছাড়া ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩৫ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা, যা ডিএসইর ইতিহাসে সর্বোচ্চ। দিন শেষে ডিএসইতে ৩৭২টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। দর বেড়েছে ১৫৯টির, কমেছে ১৭৯টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪টির।

লেনদেনের ভিত্তিতে (টাকায়) শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো- সাইফ পাওয়ার, বিএটিবিসি, ফু-ওয়াং সিরামিক, পাওয়ার গ্রিড, বিকন ফার্মা, স্কয়ার ফার্মা, রবি আজিয়াটা, জেনেক্স ইনফোসিস, লাফার্জহোলসিম ও এসএস স্টিল মিলস লিমিটেড।

দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো- বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার, গ্লোবাল ইন্সুরেন্স, বিকন ফার্মা, সেন্ট্রাল ইন্সুরেন্স, ইসলামী ইন্সুরেন্স বাংলাদেশ, পূরবী জে. ইন্সুরেন্স, রিপাবলিক ইন্সুরেন্স, রিলায়েন্স ইন্সুরেন্স, নর্দান ইসলামী ইন্সুরেন্স ও সন্ধানী লাইফ ইন্সুরেন্স।

অন্যদিকে দর কমার শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো- পাইওনিয়ার ইন্সুরেন্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মি. ফা., জাহিন স্পিনিং, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, শাইনপুকুর সিরামিক্স, এএফসি এগ্রো, বিবিএস, ইবিএল ফার্স্ট মি. ফা., বিডি ল্যাম্পস ও সিএপিএম আইবিবিএল মি. ফা.।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর প্রধান সূচক সিএসইএক্স ১২৩.৮১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১১ হাজার ১৫৩.৪৫ পয়েন্টে। আর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২০১.৩৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৮ হাজার ৫৮০.৯১ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে ৩১৩টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪২টির, কমেছে ১৫০টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির। দিন শেষে সিএসইতে ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিনের চেয়ে ২৭ কোটি টাকা কম।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বেক্সিমকো সিনথেটিকস লিমিটেডের শেয়ার লেনদেন বন্ধের সময় ২০ দফায় বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী কোম্পানিটির লেনদেন বন্ধের মেয়াদ আরও ১৫ দিন বাড়ানো হয়েছে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই জানায়, পরবর্তী ১৫ দিন কোম্পানিটির লেনদেন বন্ধ থাকবে। গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর বিএসইসি কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করে। কোম্পানিটি স্বেচ্ছায় তালিকাচ্যুত হতে চাই। এ খবরে শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে কিংবা কমলে বিনিয়োগকারী কিংবা কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানা গেছে, বিএসইসি এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দিয়েছে। ১৯৬৯ এর সেকশন ৯ এর ৭ ধারা অনুযায়ী লেনদেন স্থগিত করার নির্দেশনা দেয়া হয়। অন্যদিকে স্টক এক্সচেঞ্জ ১৯৬৯ এর সেকশন ৯ এর ৮ ধারা অনুযায়ী প্রথম পর্যায়ে ৩০ দিনের জন্য লেনদেন স্থগিত করতে পারে। পরবর্তীতে এটি ১৪ দিন করে বৃদ্ধি করতে পারে।

পুঁজিবাজারের বস্ত্র খাতের তালিকাভুক্ত সায়হাম কটন মিলস লিমিটেড কারখানায় অগ্নিকা-ের ক্ষয়ক্ষতির বিমা দাবির ১৫ কোটি টাকা পেয়েছে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সায়হাম কটনের আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৫ কোটি ২৯ লাখ ৩৫ হাজার ১৬১ টাকা, যা আগের বছরের একই সময় ছিল ১ কোটি ৬৬ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৬ টাকা। সে হিসাবে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ৩ কোটি ৬২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৪৫ টাকা বা ২১৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

চলতি হিসাব বছরের নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১০ কোটি ৭২ লাখ ৫৫ হাজার ৯৯৯ টাকা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ৮ কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৯১৪ টাকা। সে হিসাবে কোম্পানটির মুনাফা বেড়েছে ২ কোটি ৩৫ লাখ ৭২ হাজার ৮৫ টাকা বা ২৮ শতাংশ। নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭২ পয়সা, যা আগের বছর একই সময় ছিল ৫৬ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২১ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৬ টাকা ৬৫ পয়সা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল কোম্পানিটি সর্বশেষ ১৮ টাকা ৪০ পয়সায় লেনদেন হয়। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বনি¤œ ও সর্বোচ্চ ১১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১৯ টাকা ৮০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।