menu

নকল ফুল

গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ ভাষান্তর : মহসীন হাবিব

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ জুন ২০২১
image

শিল্পী : সঞ্জয় দে রিপন

ভোরের আলো তখনো ভালো করে ফোটেনি। মিনা ঘুম থেকে জেগে প্রায় অন্ধকারে বিছানার পাশে রাতে ঝুলিয়ে রাখা নিমাটি হাতরে নিয়ে গায়ে দিল। তারপর উঠে গিয়ে ট্রাঙ্কের ভেতর হাত ঢুকিয়ে জামা খুঁজতে থাকল। ট্রাঙ্কে না পেয়ে দরোজার সঙ্গে পেরেকে ঝোলানো কিনা খুঁজে দেখল। একই রুমে অন্য একটি বিছানায় অন্ধ নানী ঘুমিয়ে আছেন। তিনি যাতে জেগে না উঠেন সে জন্য নিঃশব্দে খুঁজতে চেষ্টা করল। কিন্তু আলো আধারের মধ্যে চোখ সয়ে আসেতই সে লক্ষ্য করল নানী ইতিমধ্যেই বিছানা ছেড়ে উঠে গেছেন। মিনা কিচেনে গেল জামাগুলো কোথায় তা নানীর কাছে জিজ্ঞেস করতে।

অন্ধ মহিলা বললেন, ‘ওগুলো বাথরুমে। কাল বিকেলে ধুয়ে দিয়েছি।’

ডমনা বাথরুমে গিয়ে দেখল কাপড়গুলো দুটো পিন দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। দেখল এখনো সেগুলো ভেজা। সেগুলো নিয়ে কিচেনে ফিরে এসে স্টোভের চুলোর পাথরের উপর রাখল। ওর সামনে অন্ধ নানী কাপে কফি নাড়ছেন। তাঁর নির্লিপ্ত চোখের মনি দুটো করিডোরে তাকের উপর রাখা বনৌষধিগুলোর দিকে স্থির হয়ে আছে।

‘আমার জিনিসগুলো তুমি কখনো ধরবে না,’ মিনা বলল। ‘এইদিনে তুমি সুর্যের আলো আছে কি না বুঝতে পারো না।’

অন্ধ মহিলা কন্ঠের শব্দ যেদিক থেকে এলো সেদিকে মুখ ঘোরালেন। বললেন,‘আমি ভুলে গিয়েছিলাম আজ মাসের প্রথম শুক্রবার।’ কফি ঠিকমতো জাল দেওয়া হয়েছে কিনা লম্বা নিঃশ্বাস টেনে ঘ্রাণ নিয়ে দেখলেন। তারপর কফির পাত্রটি চুলো থেকে নামালেন। বললেন, ‘কাপড় চুলোর পাশে রাখার আগে নিচে একটি পেপার দিয়ে নাও। চুলোর পাথরগুলো ময়লা।’

মিনা আঙুল দিয়ে পাথরের উপর ঘষে দেখল। ঠিকই ধোয়ার কালির স্তর পরে আছে। তবে ঘষা না দিলে ওগুলো জামার সঙ্গে লাগবে না। মিনা বলল, ‘যদি ময়লা ভরে তাহলে তুমি দায়ি।’

অন্ধ নানীর হাতে কফির কাপ। তিনি একটি চেয়ার করিডোরে টেনে নিতে নিতে বললেন, ‘তুমি রেগে গেছ। রাগ হয়ে গির্জার অনুষ্ঠানে যাওয়া ধর্মবিরোধী কাজ।’ তিনি চেয়ার টেনে বসেছেন ঠিক উঠোনের ফুলগুলোর সামনে। গির্জায় তৃতীয়বার ঘন্টা বাজতেই মিনা চুলোর পাশ থেকে জামা সরিয়ে নিল। এখনো ওগুলো খানিকটা ভিজে আছে। তারপরও মিনা জামা গায়ে দিল। হাতাকাটা নিমা গায়ে দিয়ে গির্জায় গেলে ফাদার অ্যাঞ্জেল তাকে গ্রহণ করবে না। মিনা এখনো হাতমুখ ধোয়নি। একটা তোয়ালে নিয়ে সে মুখ মুছে ফেলল। তারপর রুমে ঢুকে প্রর্থনার বই আর মাথার স্কার্ফ নিয়ে বের হয়ে গেল। মিনিট পনেরো পর সে আবার ফিরে এল। অন্ধ নানী তখনো উঠোনের ফুলগাছের সামনে বসে আছেন। বললেন, ‘তুমি যেতে যেতে বাইবেল পাঠ শেষ হয়ে যাবে।’

মিনা সরাসরি বাইরের ঘরের দিকে গেল। বলল,‘আমি গির্জার অনুষ্ঠানে যেতে পারব না। আমার জামাগুলোএখনো ভেজা। কোনো জামা স্ত্রী করা নেই।’ সে বুঝল যে নানী তাঁর দৃষ্টিহীন চোখ নিয়ে তাকে সতর্কভাবে অনুধাবন করছেন। তিনি বললেন, ‘এটা মাসের প্রথম শুক্রবার, আর তুমি গির্জার অনুষ্ঠানে যাচ্ছো না।’

মিনা বাইরের ঘর থেকে বের হয়ে এল। এককাপ কফি নিয়ে দরোজার পাশে অন্ধ নানীর কাছাকাছি গিয়ে বসল। কিন্তু সে কফিতে চুমুক দিল না। চাপা কন্ঠে বিড়বিড় করে নানীকে উদ্দেশ্য করে বলল,‘এ জন্য তুমি দায়ি।’

‘তুমি কাঁদছো,’ অন্ধ নানী বললেন।

তিনি ফুলগাছে পানি দেওয়ার পাত্রটি ওরেগানো গাছের চারার কাছে রেখে উঠোন থেকে চলে যাওয়ার সময় আবার বললেন, ‘তুমি কাঁদছো।’

মিনা উঠে দাঁড়াবার আগে কফির কাপটি হাত থেকে মেঝেতে নামিয়ে রাখল। বলল, ‘আমি রাগের চোটে কাঁদছি। নানীর পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে বলল, ‘তুমি তোমার পাপের কথা স্বীকার করবে। কারণ তোমার কারণেই আমি প্রথম শুক্রবারের গির্জার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারলাম না।’

মিনা বেডরুমে ঢুকে দরোজাটা বন্ধ না করা পর্যন্ত অন্ধ নানী স্থিরভাবে অপেক্ষা করলেন। তিনি উবু হয়ে মিনার ছেড়ে যাওয়া পথে ভরাকফির কাপটি আবিস্কার করলেন। মাটির একটি পাত্রে কফি ঢেলে ফেলতে ফেলতে তিনি বললেন, ‘ঈশ্বর জানেন, আমার মন পরিষ্কার।’

মিনার মা তাঁর রুম থেকে বের হয়ে এলেন। বললেন,‘তুমি কার সঙ্গে কথা বলছ?’

‘কারো সঙ্গে না,’ তিনি বললেন। ‘আগেই তোমাকে বলছি না যে আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি।’

এদিকে দরোজা বন্ধ করেই মিনা গায়ের ব্রার হুক খুলল। হুকের সঙ্গে সেফটিপিন দিয়ে যে তিনটি ছোট চাবি আটকে রাখা হয়েছে সেগুলো খুলে নিল। একটা চাবি দিয়ে কাপড় রাখার আলমারির নিচের একটি ড্রয়ার খুলল। তার ভেতর থেকে কাঠের কারুকাজ করা একটি ক্ষুদ্র বাক্স বের করল। অন্য একটি চাবি দিয়ে আবার সেই ক্ষুদ্র বাক্সটি খুলল। বাক্সটির ভেতর একপ্যাকেট রঙ্গীন কাগজে লেখা চিঠি। একটি রাবার দিয়ে একত্রে পেচিয়ে রাখা। মিনা চিঠিগুলো ব্রা’র ভেতরে লুকিয়ে ফেলল। ছোট বাক্সটি জায়গা মত রেখে তালা লাগিয়ে দিল। তারপর বাইরের ঘরে চলে গেল। সেখানে গিয়ে একটি একটি মাটির গর্তের ভেতর চিঠিগুলো ছুড়ে ফেলল।

‘আমি মনে করেছি তোমরা গির্জার অনুষ্ঠানে চলে গিয়েছো,’ মিনার মা বললেন।

‘ও তো যেতে পারে নি। মিনার নানী বললেন। ‘আমি ভুলে গিয়েছিলাম যে এটাই মাসের প্রথম শুক্রবার। আমি গতকাল বিকেলে ওর জামাগুলো ধুয়ে দিয়েছি।’

মিনা বিড়বিড় করে বলল,‘ওগুলো এখোনো ভেজা।’

অন্ধ নানী বললেন,‘এই সময় তো তোমার অনেক কাজ করার কথা।’

‘ইস্টারের দিন আমাকে কমপক্ষে ১৫০ ডজেন ফুল সরবরাহ করতে হবে।’ মিনা বলল।

সেদিন সকালে সুর্যটা যেন একটু আগেই আকাশে দেখা দিল। সকাল সাতটার সময় মিনা ফুলগুলো

বানোর জন্য সরঞ্জামাদি নিয়ে নিজের রুমে বসে পড়ল। একটি ডালার মধ্যে ফুল তৈরীর পাপড়ি, সুতা, ইলাস্টিক, কাগজের ঝুড়ি, দুটো কেচি, একপাত্র আঠা এসব নিয়ে বসেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ত্রিনিদাদ আসল। ওর বোগলের নিচে একটি কার্ডবোর্ডের বাক্স। সে মুলত এসেছে মিনা গির্জায় কেন যায়নি জানতে।

‘আমার জামা ছিল না,’ মিনা সরাসরি বলল।

‘চাইলে যে কেউ তোমাকে জামা ধার দিতে পারতো,’ ত্রিনিদাদ বলল। সে একটা চেয়ার টেনে নিয়ে পাপড়িগুলোর বাক্সটার কাছে বসল।

‘আমার দেরি হয়ে গেছে,’ মিনা বলল। একটা ফুল সে বানিয়ে ফেলল। তারপর পাপড়ির বাক্সটি টেনে নিয়ে সেগুলো কেটে কুচি দিতে থাকল। ত্রিনিদান কাঠবোর্ডের বাক্সটি পাশে নামিয়ে রেখে নিজেও হাত লাগালো।

মিনা সেটি লক্ষ করল। বলল, ‘তুমি কি নতুন জুতা কিনেছ?’

‘ওটার মধ্যে কতগুলো মরা ইদুর,’ ত্রিনিদাদ বলল।

ত্রিনিদাদ ফুল বানানোর কাজে খুবই ওস্তাদ। মিনা ওকে সবুজ কাগজের উপর ফুলগুলো লাগাতে দিল। ওরা নিঃশব্দে ফুল তৈরীর কাজ করতে থাকল। সুর্য মাথার উপর কতটা উঠেছে, ঘরের ভেতরে পেইনিং এবং পল্লী এলাকার দৃশ্যের উপর দিয়ে কতটা আলো পড়ে তা আরো কতটা সরে গেছে সেদিকে কোনো লক্ষই রইল না। ফুলগুলো আটকানোর কাজ শেষ হলে মিনা মুখ ফিরিয়ে ত্রিনিদাদের দিকে প্রাণহীন চোখে তাকালো। মনে হল তার মনটা অন্য কোথাও পড়ে আছে। ত্রিনিদাদ যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে পাপড়িগুলো তৈরী করেছে। হাতের আঙুলগুলো স্থির রেখে পা দুটো একসঙ্গে চেপে রেখে নিপুনতার সঙ্গে করেছে। মিনা লক্ষ করল সে পুরুষের জুতো পায়ে দিয়ে আছে। ত্রিনিদাদ চোখ সরিয়ে নিল। মাথা উপর দিকে না তুলেই অতি সন্তর্পণে পা দুটো খানিকটা পিছিয়ে নিল। ওরা হঠাৎ কাজ করা থেকে হাত গুটিয়ে নিল। ত্রিনিদাদ বলল, ‘কী হয়েছে?’

মিনা সামান্য একটু সামনের দিকে ঝুকে শান্ত স্বরে বলল, ‘সে চলে গেছে।’

ত্রিনিদাদ কেচিটা হাত থেকে কোলের উপর ছেড়ে দিল,‘না!’

মিনা আবার বলল,‘সে চলে গেছে।’

ত্রিনিদাদ নিস্পলক মিনার দিকে তাকিয়ে থাকল। ভ্রু দুটো কুঞ্চিত রেখা তৈরী করল। জানতে চাইল,‘এখন কী হবে?’

‘কিছুই না,’ বলার সময় মিনার গলা একটুও কাঁপল না।

ত্রিনিদাদ দশটা বাজার আগেই চলে গেল।

নিজের চেপে রাখা গোপন কথা থেকে অনেকটা ভারমুক্ত হয়ে মিনা একটু সময় নিল। তারপর মৃত ইদুরের বাক্সটি নিয়ে বাইরের ঘরের দিকে চলল। যাওয়ার সময় অন্ধ নানীর উদ্দেশে বলল, আমি বাজি ধরে বলতে পারি এই বাক্সটার মধ্যে কী আছে তুমি বলতে পারবে না।’ মিনা বাক্সটি ঝাকি দিল।

অন্ধ নানী কান পেতে শুনে বুঝতে চেষ্টা করলেন। বললেন, ‘আবার ঝাকি দাও।’

মিনা আবারও তাই করল।

আঙুল দিয়ে কানের লতি চেপে ধরে তৃতীয়বার শোনার পর অন্ধ নানী জিনিসটা কী ধরতে পারলেন না।

‘ওগুলো ইদুর। গতরাতে চার্চের পেতে রাখা ফাঁদে ধরা পড়েছে,’ মিনা বলল।

পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মিনা কোনো কথা বলল না। কিন্তু অন্ধ নানী তাকে অনুসরণ করল। মিনা ঘওে ঢুকে জানালাগুলো বন্ধ করে তারপর বাকী ফুলগুলোর কাজ শেষ করতে বসল।

‘মিনা,’ অন্ধ নানী বললেন। ‘যদি জীবনে সুখী হতে চাও, তবে মানুষ না চিনে কাউকে হিসাবে রেখ না।’

মিনা কিছু না বলে তার দিকে ফিরে তাকালো। অন্ধ নানী ওর সামনে এসে বসলেন এবং মিনার সঙ্গে কাজে হাত লাগাতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু মিনা তাকে থামিয়ে দিল।

‘তুমি এখন স্থির নেই,’ অন্ধ নানী বললেন।

‘সেটা তোমার কারণে,’ মিনা বলল।

নানী জানতে চাইলেন, ‘কেন তুমি গির্জায় গেলে না?’

‘সেটা যে কারো চাইতে তুমি ভালো জানো।’

অন্ধ নানী বললেন, ‘সেটা যদি জামার কারণে হতো তাহলে তুমি ঘর থেকেই বের হতে না। কেউ একজন তোমার জন্য পথে অপেক্ষা করেছে। এবং সে তোমাকে এমন কিছু বলেছে যা শুনতে তুমি প্রস্তুত ছিলে না।’

মিনা ওর হাত দুটো অন্ধ নারীর চোখের সামনে এমনভাবে নাড়ল যেন অদৃশ্যে জানালার কাঁচ মুছছে। বলল, তুমি হলে একজন সাইকিক।’

অন্ধ নানী বললেন, ‘তুমি আজ সকালে দুবার বারির বাইরে গিয়েছে। এর আগে কখনো তুমি একবারের বেশি যাওনি।’

মিনার কথার কোনো উত্তর না দিয়ে ফুলগুলো বানাতে থাকল।

‘তুমি কী আমাকে দেখাবে যে কাপড়ের ড্রয়ারের ভেতর কী রেখেছ?’ নানী জানতে চাইলেন।

তাড়াহুড়া না করে মিনা ধীরে জানালার ফ্রেমের সঙ্গে ফুল লাগালো। তারপর নিজের গায়ের ব্রা’র ভেতর থেকে ছোট চাবি বের করে অন্ধ নানীর দুই হাতের মধ্যে রেখে নিজেই নানীর আঙুলগুলো ভাঁজ করে দিল। বলল, ‘যাও, খুলে নিজের চোখে দেখ।’

অন্ধ নানী হাতের আঙুলগুলো দিয়ে টিপেটিপে চাবিগুলো দেখলেন। তারপর বললেন,‘আমার চোখ দুটো তো আর বাইরের ঘরের নীচে দেখতে পায় না।’

মিনা অবাক হয়ে মুখ তুলে তাকালো। অদ্ভুত একটা অনুভূতি হল। তারমানে বৃদ্ধ মহিলা জানতেন যে আমি তাকে লক্ষ করছিলাম! এুখে বলল, ‘আমার বিষয়ে যদি তোমার খুবই আগ্রহ হয় তাহলে বাইরের ঘরের নিচে দেখে আসো।’

অন্ধ নানী মিনার মন্তব্য গায়ে মাখলেন না। বললেন,‘তুমি প্রতিদিন ভোর রাত পর্যন্ত বিছানায় শুয়ে শুয়ে লেখ।’

‘তুমি তো নিজের হাতেই প্রতিদিন বাতি নিভিয়ে দাও,’ মিনা বলল।

‘এবং সঙ্গে সঙ্গে তুমি ছোট আলোটি জ্বালিয়ে দাও। তোমার নিঃশ্বাসের শব্দে আমি বলে দিতে পারি তুমি কী লিখছ।’

মিনা স্থির হয়ে থাকতে চেষ্টা করল। মাথা না তুলেই ও বলল,‘ঠিকাছে। ধরে নিলাম এটা ঘটে, তাতে অবাক হওয়ার কী আছে!’

‘কিছুই নেই,’ অন্ধ নানী বললেন। ‘শুধু সেকারণেই তুমি প্রথম শুক্রবার গির্জায় যাওয়া মিস করলে।’

মিনা সুতা, কেচি, হাত ভরে অসম্পূর্ণ ফুল সব নিয়ে ঝুড়িতে রাখল। বলল,‘ তারমানে তুমি জানতে চাচ্ছ আমার কাছে যে আমি বাইরের ঘরে কী জন্য গিয়েছিলাম?’

দুজনেই খানিক সময় চুপ হয়ে থাকল। তারপর মিনাই নিজের প্রশ্নের উত্তর নিজে দিল। বলল, ‘আমি বাথরুম করতে গিয়েছিলাম।’

অন্ধ নানী ছোট্ট চাবিগুলো ছূড়ে ঝুড়ির মধ্যে ফেলল। কিচেনের দিকে যেতে যেতে বিড় বিড় করে বলল, ‘এটা একটা ভালো যুক্তি হতে পারতো। তুমি আমাকে বিশ্বাস করাতে পারতে যদি তোমাকে আমি জীবনে এই প্রথম কটুকাটব্য করতে না দেখতাম।’

উল্টো দিক থেকে মিনার মা করিডোর দিয়ে আসলেন। বললেন, ‘কী হচ্ছে তোমাদের?’

‘অন্ধ মহিলা বললেন, আমি পাগল হয়ে গেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমি বলতে পারি যে তারা আমাকে পাগলা গারদে পাঠাবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত আমি পাথর তুলে ছুড়তে শুরু না করি।’