menu

সরকারের জবাবদিহিতা

জিয়াউদ্দীন আহমেদ

  • ঢাকা , রবিবার, ১১ আগস্ট ২০১৯

শুধু প্রিয়া সাহা নয়, বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে অগণিত অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। প্রিয়া সাহার অভিযোগের জবাবদিহিতা করতে হয়েছে বলে এখনও শোনা যায়নি; ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন উত্তর কোরিয়া, ইরান, ভেনিজুয়েলা নিয়ে অস্থির। খাশোগীকে টুকরো টুকরো করে হত্যার করার জন্য সৌদি যুবরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হলেও ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, আমেরিকা সৌদি আরবে হাজার হাজার কোটি টাকার অস্ত্র বিক্রির স্বার্থ দেখবে, যুবরাজের বিচার নয়। বাংলাদেশের সঙ্গে আমেরিকার সুসম্পর্ক বিরাজ করছে, তাই ট্রাম্প নিজে ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে প্রিয়া সাহার অভিযোগ নিয়ে মাথা ঘামাবে বলে মনে হয় না। কিন্তু প্রিয়া সাহা পিরোজপুরে সংখ্যালঘুদের জমি দখলের যে অভিযোগ করেছেন তার তদন্ত হয়েছে কী না এবং দেশে ফিরলে তাকে কোনো ধরনের হয়রানি করা হবে কী না জাতিসংঘের নির্যাতন বিরোধী কমিটি Committee Against Torture জানতে চেয়েছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দফতরে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের শুনানি হয়েছে অতি সম্প্রতি; এই শুনানিতে ১৯ সদস্যের নেতৃত্বে ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

১৯৯৮ সনে বাংলাদেশ ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অ্যাগেইনস্ট টর্চার অ্যান্ড আদার ক্রুয়েল, ইনহিউম্যান অর ডিগ্রেডিং ট্রিটমেন্ট অর পানিশমেন্ট (আনক্যাট)-এ অন্তর্ভুক্ত হয়। অ্যানক্যাটের নীতি, নির্দেশনা পরিপালনে প্রতিটি সদস্য দেশকে প্রতি চার বছর অন্তর একটি রিপোর্ট দাখিল করতে হয়; কিন্তু বাংলাদেশ কোন রিপোর্ট দাখিল করেনি। কোন রিপোর্ট ছাড়াই জাতিসংঘের কমিটি অ্যাগেইনস্ট টর্চার (ক্যাট) বাংলাদেশে মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্তের কথা ৯ মাস পূর্বে জানালেও বাংলাদেশ সরকার প্রথমবারের মতো রিপোর্ট পাঠিয়েছে পর্যালাচনা সভার মাত্র ৯ দিন পূর্বে ২৩ জুলাই, ২০১৯ তারিখে। বাংলাদেশ সরকারের এমন আচরণকে কমিটি দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছে। ১০ জন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে ক্যাট গঠিত; এ কমিটির প্রত্যেক সদস্যকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নির্বাচিত হতে হয়। দুই দিনব্যাপী এ পর্যালোচনা সভায়ে র‌্যাবের দায়মুক্তি দেয়া, পুলিশ হেফাজত ও রিমান্ডে নির্যাতন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, অঘোষিত আটক রাখা, কারাগারের দুরবস্থা, বিচারকদের স্বাধীনতা, নির্বাচনী সহিংসতা, ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নাকি প্রায় ১০০টি প্রশ্ন করা হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই পর্যালোচনা সভায় যাওয়ার কথা ছিল ২৬ জন প্রতিনিধি, গেলেন ১৯ জন। কম গেলেন কেন তার কোন ব্যাখ্যা কোথাও পাইনি। দুই জন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিও গেছেন; তবে তারা কোন গোয়েন্দা সংস্থার অথবা তাদের পরিচয়ও কোথাও দেখিনি। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গি সচরাচর বেশি হয়ে থাকে; ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা ও বিভিন্ন প্রটোকল স্বাক্ষরের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অধিকসংখ্যক লোকের সফরসঙ্গি হওয়া স্বাভাবিক; কিন্তু কোন মন্ত্রীর নেতৃত্বে সাধারণত অধিক লোকের বিদেশ সফর পরিলক্ষিত হয় না। আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে এত বড় বহরের গমন থেকেই বোঝা যায়, সরকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ জবাব দেয়া কত জরুরি ছিল।

কমিটি অ্যাগেইনস্ট টর্চার (ক্যাট) নিজস্ব উদ্যোগে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। বাংলাদেশের অবস্থা নিয়ে বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর জোট ‘মানবাধিকার ফোরাম’ ক্যাট-এ রিপোর্ট পেশ করেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্ট, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও মহিলা পরিষদসহ ২১টি সংগঠন মানবাধিকার ফোরামের সদস্য। এদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহী মামলা করার জন্য ব্যারিস্টার সুমনের মতো কোন লোকের হুঙ্কার এখনও শুনিনি। বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে ওয়ার্ল্ড কোয়ালিশন এগেইনস্ট ডেথ পেনাল্টি, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটস, ওডিআরআই ইন্টারন্যাশনাল রাইটসও আলাদা আলাদা প্রতিবেদন পেশ করেছে। ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অ্যাগেইনস্ট টর্চার, ওএমসিটি, এশিয়ান ফেডারেশন অ্যাগেইনস্ট ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সসহ পাঁচটি সংগঠন বাংলাদেশের অপর একটি মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সঙ্গে যৌথভাবে আরেকটি প্রতিবেদন দিয়েছে। এইসব প্রতিবেদনে শুধু বাংলাদেশে বিরাজমান নির্যাতন নিয়ে কথা বলেনি, নির্যাতন বহাল রাখার জন্য অনুকূল আইন-কানুন নিয়েও প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। প্রথম অভিযোগ হচ্ছে, বাংলাদেশের আইনে ‘টর্চার’-এর যে সংজ্ঞা তা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ফলে নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের কার্যকর সুরক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

আটক ব্যক্তির অপরাধের স্বীকারোক্তি আদায়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু স্বীকারোক্তি আদায় নয়, ঘুষ আদায়ের জন্যও এসব বাহিনীর সদস্যরা নির্যাতনের পথ অনুসরণ করছেন বলে কমিটির এক সদস্য মিস এফ গায়ের উল্লেখ করেন। অভিযুক্ত আসামিদের নির্যাতন করার ব্যাপারে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় তাদের ওপর নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতার প্রামাণ্য বিবরণ জাতিসংঘের এই কমিটির কাছে তুলে ধরেছে মানবাধিকার ফোরাম বাংলাদেশ। নির্যাতনে যেসব পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় তারও বর্ণনা দেয়া হয়েছে- লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটানো, হাত-পা বেঁধে দুই টেবিলের মাঝখানে শুইয়ে পায়ের তলায় পেটানো, ছাদে ঝুলিয়ে নির্বিচারে পেটানো, মাটিতে ফেলে মুখে ভেজা কাপড় ঢুকিয়ে নাক-মুখে পানি ঢালা, পুরুষাঙ্গে ইট বেঁধে ঝুলিয়ে দিয়ে হাঁটতে বলা এবং ধাতুর তৈরি আংটিতে আঙুল ঢুকিয়ে বৈদ্যুতিক শক দেয়া ইত্যাদি। কারাগারে বন্দী প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নেই এবং মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী ৯ জন কারাবন্দি নারীর মধ্যে আটজনের কোনো ঠিকানা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে নেই মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। মানবাধিকার ফোরামের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৮৮ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন এবং একই সময়ে ৫২৬ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে গুম হয়েছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যার দিন-তারিখ উল্লেখ করে উদাহরণ হিসেবে কয়েকটি কথিত বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারের কথাও বলা হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে ২৬টি বহুল আলোচিত ঘটনার মধ্যে টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের বিচারবহির্ভূত হত্যার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি অধ্যাপক জেন্স মডভিচ নাকি প্রশ্ন করেছেন, ‘পুলিশ কি এতটাই স্বাধীন যাতে মনে হয় রাষ্ট্রের ভেতরে তারা আরেকটি রাষ্ট্র’। র‌্যাবের মতো পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য স্বাধীন বেসামরিক তদন্ত সংস্থা গঠনের কথা বলেন কমিটির সভাপতি হ্যান্স মরডিচ। ২০১৩ থেকে ২০১৭ সন পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৭ হাজার নারী ধর্ষণের শিকার হলেও মাত্র ৭০০ মামলায় বিচার সম্পন্ন হওয়ায় কমিটি হতাশা ব্যক্ত করেছে। বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করা হলেও তা এখনও স্বাধীন হয়নি; ফলে অধস্তন আদালতের ক্ষেত্রে বিচারক এবং ম্যাজিস্ট্রেটরা পরিপূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করতে না পারার কারণে তারা নির্বাহী বিভাগের অভিপ্রায় পূরণে দায়িত্ব পালন করে থাকেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এই পর্যালোচনায় প্রায় ১০০টি অভিযোগ উত্থাপিত হলেও মিস গায়েরের মতে তা একটি হিমশৈলের শীর্ষ মাত্র। মানবাধিকার কমিশনের তরফ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ১৮৫টি চিঠি দিয়ে তার উত্তর না পাওয়ার অভিযোগ সম্পর্কেও কমিটি জানতে চেয়েছে। ২০১৮ সনের নির্বাচনে ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা, ভয়ভীতি দেখানো, কেন্দ্র দখল, বিরোধীদের গ্রেফতার এবং সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাগুলো নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে।

জবাবদিহিতায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্সে নীতি অবলম্বন করে যাচ্ছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে সুসংহত ও মানবাধিকার রক্ষায় শেখ হাসিনার সরকার কাজ করছে, দরিদ্র অসহায় নাগরিকদের বিনা মূল্যে আইনগত সহায়তা দেয়া হচ্ছে, কারও প্রতি নিষ্ঠুর, অমানবিক আচরণ না করার জন্য এ বছর পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী পুলিশদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও র‌্যাব সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার, শিশু ও নারী নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে, মানবাধিকার রক্ষায় কারাগারগুলোতে সংস্কার করা হয়েছে, ২০১৩ সনে নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন পাস করা হয়েছে, ব্লগারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাধীনভাবে তাদের মত প্রকাশের সুযোগ রয়েছে, হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। এছাড়া বাংলাদেশ নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন করার অঙ্গীকারও তিনি করেছেন। বিবিসিতে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে কোন ধরনের নির্যাতনের মানসিকতা তার সরকারের নেই।

স্বাধীন, স্বার্বভৌমত্বের অহঙ্কারে কোন দেশ ইচ্ছে করলেই অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে যা ইচ্ছে তাই করতে পারে না। মায়ানমার রোহিঙ্গাদের নির্যাতন করে তাড়িয়ে দিয়ে একেবারে নির্বিঘ্নে থাকতে পারছে না; অং সান সূচির বহু আন্তর্জাতিক পদবী ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে, এই রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়ে নাগরিকত্ব দেয়ার ব্যাপারে মায়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক চাপ অস্বীকার করতে পারছে না। উত্তর কোরিয়া অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা ইচ্ছে মতো চালাতে পারছে না। উত্তর কোরিয়া যতদিন পর্যন্ত পারমাণবিক ও ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ইতি না টানবে ততদিন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রাখা হবে। ইরানকেও পারমাণবিক বোমার অধিকারী হতে দেয়া হচ্ছে না। ১৯৯৪ সনে রুয়ান্ডার তুতসি ও হুতু সম্প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গায় প্রায় ৮ লাখ নাগরিকের মৃত্যু হয়। ক্ষমতাসীন হুতু সেনা ও কর্মকর্তারা তুতসিদের দেখা মাত্র হত্যা করতে হুতু সম্প্রদায়ের লোকজনকে জোটবদ্ধ হতে রেডিওতে ঘোষণা দিয়ে আহ্বান জানিয়েছিল। এমন একটি গণহত্যা রোধে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে না পারায় জাতিসংঘসহ শক্তিধর দেশগুলোকে আজও দোষারোপ করা হয়ে থাকে। তবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ তানজানিয়ায় একটি আদালত স্থাপন করে হত্যাযজ্ঞে দায়ী শীর্ষ ব্যক্তিদের বিচার করেছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম স্বার্থ দেখা না হলে গার্মেন্ট আমদানি বন্ধের হুমকি ইউরোপ থেকে আমাদের বহুবার দেয়া হয়েছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমেরিকার মানবধিকারবিষয়ক আচরণ নিষ্ঠুর হলেও তারা আবার বিশ্বের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট প্রকাশ করে বিভিন্ন দেশকে মানবধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে থাকে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ছাড়াও বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা বিভিন্ন দেশের মানবধিকার অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে থাকে। আমেরিকা নিজের স্বার্থে কোথাও কোথাও সামরিক শাসনের পক্ষে থাকলেও শামরিক শাসন পরিবর্তন করে শীঘ্রই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের একটা অলিখিত চাপ দিয়ে থাকে। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন হলে তার জন্যও সরকারকে জবাবদিহি হতে হয়। জবাবদিহিতা করতে অস্বীকার করলে একঘরে হয়ে যেতে হয়; আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়, দেশের অর্থনীতিতে ধস নামে।

[লেখক : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক]

eauddinahmed@gmail.com