menu

উৎসের সন্ধানে

সত্যিই কী পৃথিবী বাসযোগ্যতা হারাতে বসেছে?

শামছুজ্জামান সেলিম

  • ঢাকা , বুধবার, ১৬ মে ২০১৮
image

তেরো চৌদ্দ কোটি বছর আগের ‘ডাউনোসোর’ যুগের অবসানের মত কী পৃথিবী থেকে ‘মানব যুগের’ অবসান হতে চলেছে! ১৩ এপ্রিল রাতে এ ধরনের এক স্নায়ুচাপ আমাকে পেয়ে বসেছিল। ১৪ এপ্রিল সকালে রমনা বটমূল থেকে ফিরে এ ধরনের দুঃসংবাদই পেলাম। বিবিসি এবং আলজাজিরায় দেখলাম আমেরিকা, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দৃশ্য। সিরিয়ার দামেস্ক এবং হোম এর তিন লক্ষ্য বস্তুতে তিন দিক থেকে হামলা চালানো হয়েছিল। ট্রাম্প এই হামলার নাম দিয়েছেন ‘টার্গেটেড অ্যাটাক’ বা ‘লক্ষ্য ভেদি হামলা’। পশ্চিমা দুনিয়ার মিডিয়াগুলোতে আক্রমণকারী তিন দেশের সরকার প্রধানদের বক্তব্য ‘লাইভ’ দেখানো হচ্ছিল।

এই হামলা যে হবে তার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল এক সপ্তাহ আগে থেকেই। ১২ এপ্রিল সিরিয়ার দুমাতে ইসলামী জঙ্গি গোষ্ঠী ‘আল্ নুসরাফ্রন্টের’ লজ্জাজনক পরাজয় ঘটে। দুমা ঘৌতারই একটি শহর, আর ‘নুসরাফ্রন্ট’ হলো ‘আলকায়দা এবং আইএসের’ নতুন নাম। সাত বছর পর এই এলাকায় সিরিয়ার পতাকা ওড়ে। সাত বছর ধরে আমেরিকা এবং ইসরাইলের মদতপুষ্ট ইসলামী বিদ্রোহী জঙ্গি গোষ্ঠীর দখলে ছিল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের নিকটবর্তী অঞ্চল ঘৌতা।

সিরিয়া নিয়ে ‘গ্লোবাল টেনশন’ বা বিশ^ উত্তেজনার গোড়ার কারণটা একটু ফিরে দেখা যায় আজকের প্রেক্ষিতে। পাঠক সমাজের নিশ্চয়ই মনে আছে ‘আরব বসন্তের’ ঘটনা প্রবাহ এবং তার পরিণতির কথা। ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ উপকূল (যা কিনা উত্তর আফ্রিকার মরোক্ক থেকে মিসর পর্যন্ত বিস্তৃত) এবং পশ্চিম এশিয়ার সিরিয়া জর্ডান সৌদি আরব ইয়েমেনসহ কয়েকটি দেশে গণতন্ত্রের দাবিতে গণবিক্ষোভের ভয়াবহ সাইক্লোন বয়ে যায় সাত আট বছর পূর্বে। পরবর্তীতে যাকে বলা হয়েছিল ‘আরব বসন্ত’। তিউনেসিয়া থেকে শুরু হয় এই গণবিস্ফোরণ। তিউনেসিয়ার শিক্ষিত বেকার যুব সমাজ শুরু করেছিলেন আন্দোলনের এই ঝড়। ২০১০ সালের শেষ ’১১ সালের শুরুতে উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্য এশিয়ার আরব অঞ্চল লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল এই গণবিদ্রোহ। এই ঝড়ের চালিকাশক্তি ছিল শিক্ষিত তরুণ সমাজ। কোন রাজনৈতিক দল শুরু করেনি এই রাজনৈতিক আন্দোলন।

তিউনেসিয়ার রাজধানী তিউনিসের রাস্তায় ‘বুয়াজ্জি’ নামের উচ্চশিক্ষিত এক বেকার যুবক ভ্যান গাড়িতে তরিতরকারি বিক্রি করতেন। রাজধানীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির(!) নামে পুলিশ একদিন (২০১০ সালের শেষ দিকে) বুয়াজ্জির ভ্যানগাড়িটি ভেঙে ফেললো। রাগে দুঃখে অপমানে বুয়াজ্জি তিউনিসের রাস্তায় নিজের শরীরে আগুন দিয়ে নিজেকে পুড়িয়ে মেরেছিলেন। ‘বুয়াজ্জির’ এই আগুন উত্তর আফ্রিকা এবং পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে একসঙ্গে দপ্ করে জ¦লে উঠেছিল ২০১১ সালের শুরুতে। পতন ঘটেছিল তিউনেসিয়া লিবিয়া মিশর ইয়েমেনের সরকার সমূহের। সিরিয়াতেও বাশার আল আসাদের সরকার ফেলে দেয়ার জন্য আন্দোলন শুরু হয়েছিল। কিন্তু বাশারের সরকার আরব বসন্তের ঢেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিলেন।

গণবিক্ষোভে বাশার সরকারের পতন যখন ঘটলো না তখন আমেরিকা এবং ইসরাইল সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করতে অস্ত্র গোলাবারুদ অর্থ প্রশিক্ষণ দিয়ে ইসলামী বিদ্রোহী গোষ্ঠী তৈরি করল। ‘আরব বসন্ত’ আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর জন্য সোনায় সোহাগা হয়ে দাঁড়ায়। মূলত আমেরিকা এবং ইসরাইল আইএস এবং আল কায়েদা সহ ইসলামী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর জন্মদাতা, আজকে তা বিশ^বাসীর সম্মুখে খুবই স্পষ্ট হয়ে গেছে। উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্য এশিয়ার দেশ সমূহের তেল সম্পদের প্রতি ললুপ দৃষ্টি ছিল মার্কিণ সাম্রাজ্যবাদ এবং পশ্চিম ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংকটগ্রস্ত অর্থনীতি যুদ্ধ ছাড়া টিকে থাকার পথ পাচ্ছে না।

তথাকথিত ‘রেজিম চেঞ্জের’ নামে ইরাক দখল করে সাদ্দাম হোসেনকে খুন করে বুশ-ব্লেয়ার। সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ তুলে ইরাক দখল করে আমেরিকা এবং যুক্তরাজ্য। ‘আরব বসন্তের’ সুযোগ নিয়ে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে লিবিয়ার গাদ্দাফিকে। বর্তমানে ইরাক এবং লিবিয়ার তেল ক্ষেত্রসমূহ থেকে মার্কিন ব্রিটিশ তেল কোম্পানিগুলো আক্ষরিক অর্থে অবাধে লুটে নিচ্ছে তেল সম্পদ। বাশার আল আসাদকে হত্যা করতে পারলে উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্য এশিয়ার তেলক্ষেত্রগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারতো সাম্রাজ্যবাদী দুনিয়া। আমেরিকা এবং ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ মদতে ইসলামী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো সিরিয়ার বিরাট অঞ্চল দখল করে বাশার সরকারকে কোণঠাসা করে রেখেছিল প্রায় সাত বছর এবং একই সঙ্গে সিরিয়ার তেল খনি সমূহের একটা বড় অংশ তাদের দখলে ছিল। রাশিয়ার প্রত্যক্ষ সহায়তায় ‘আল নুসরা ফ্রন্টের’ পরাজয় নিশ্চিত হওয়ায় সাম্রাজ্যবাদী দুনিয়া ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়। রাশিয়া থেকে ‘কম শক্তিশালী নই’ দেখানোর জন্য ১৩ এপ্রিল’১৮ ভোরে আমেরিকা ফ্রান্স এবং ব্রিটেন একযোগে হামলা করে সিরিয়ায়। একই সঙ্গে বিশ^বাসীকে একটা ‘মেসেজ’ দিতে চায় তারা যে, ‘আমরা এখনো’ পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখি।

সিরিয়ায় হামলা চালানোর পূর্বে পশ্চিমা গণমাধ্যম সমূহ হতে মানবিক অনুভূতিতে পীড়া দেয় এমনসব ছবি প্রকাশ করা হতে থাকে। বলা হয় সিরিয়া বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে, যার ফলে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার একটা বড় অংশ শিশু। এমন সব ছবি প্রকাশ করা হয় যা বিবেকবান মানুষকে সহজেই বিক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে।

যখন বিদ্রোহীদের পরাজয় নিশ্চিত হয়ে গেছে তখন কেন সিরিয়া রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করতে যাবে? পরবর্তী সময়ে আসল সত্য প্রকাশ হতে থাকে। ওই সব ছবি ফটোসপ থেকে বানানো এবং অনেক পুরোনো। তা ছাড়া সীমিত ক্ষমতা সম্পন্ন রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করে থাকতে পারে বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিজেরাই সিরিয়াকে বেকায়দায় ফেলার জন্য। এর নেপথ্যে রয়েছে সিআইএ এবং ইসরাইলের মোসাদ। সিরিয়ায় ‘টার্গেটেড অ্যাটাকের’ অজুহাত এভাবেই তৈরি করা হয়। তাছাড়া ইসলামী জঙ্গিরা ইসলামের নামে কতটা হিংস্র এবং নিষ্ঠুর হতে পারে তার প্রমাণ তারা সৃষ্টি করেছে ভূরিভূরি। ইসলামের নামে জন্মদাত্রী মা’কে এক আইএস জঙ্গি শিরñেদ করছে তার ছবি কিছুদিন পূর্বে ভাইরাল হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

সাম্রাজ্যবাদী প্রচার মাধ্যমের প্রভাব আমাদের দেশের অনেক বাম প্রগতিশীলদের প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এইসব ব্যক্তিরা সিরিয়ার মুন্ডুপাত করেছিলেন! এখন হয়তো তাদের ভুল ভাঙতে পারে। ‘ভুল ভাঙ্গা’! সে তো পশ্চিমা দুনিয়া এবং খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই দেখা যাচ্ছে। ব্রিটেনের বিরোধী দল তেরেসা মে’কে পার্লামেন্টে অপদস্থ করে ছাড়লো! মে যখন ট্রাম্পের সঙ্গে বৃটেনের একযোগে হামলা চালানোর কোন সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারছিলেন না তখন তার হাতে একটা অস্ত্রই ছিল, তাহলো তথাকথিত ‘জাতীয় স্বার্থ’। এটাই হলো বুর্জোয়াদের শেষ অস্ত্র। ফ্রান্সে মাঁখোও কোন যুৎসই উত্তর দিতে পারেননি দেশবাসীকে। ব্লেয়ারও জাতীয় স্বার্থের ধুয়া তুলে ইরাক আক্রমণে বুশের আজ্ঞাবহ হয়েছিলেন। অবশ্য বিরোধীরা বলছিলেন তেরেছা মে ট্রাম্পের নির্দেশই পালন করেছেন! যারা বিবিসিতে লাইভ দেখেছেন তারা আমার সঙ্গে একমত হবেন বলে আশা করি।

রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ে গালগল্পো শুরু করেছিল ব্রিটেনসহ সাম্রাজ্যবাদী দুনিয়া সম্ভবত গত ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাস থেকে। স্বপক্ষ ত্যাগী এক রাশিয়ান গুপ্তচর এবং তার মেয়ের ওপর ‘নভিচক’ নামের এক নার্ভ ধ্বংসকারী রাসায়নিক এজেন্ট ব্যবহার করেছে রাশিয়া, এই অভিযোগ তুলে পৃথিবীব্যাপী হইচই ফেলে দিল ব্রিটেন এবং আমেরিকা। কোন প্রমাণ ছাড়াই এই অভিযোগের ভিত্তিতে ব্রিটেন এবং আমেরিকার নেতৃত্বে ইউরোপের ঊনচল্লিশটি দেশ থেকে রাশান কূটনীতিকদের বহিষ্কার করা হয়েছিল। কিছুদিন পরেই জানা গেল ‘নভিচকের’ আসল কাহিনী।

‘নভিচক’ নামের নার্ভ এজেন্ট আবিষ্কার হয়েছিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে। সম্ভবত ওই বিজ্ঞানীর নামেই নার্ভ এজেন্টটির নামকরণ হয় ‘নভিচক’। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর নার্ভ এজেন্ট ‘নভিচক’ এবং ওই বিজ্ঞানীকে সিআইএ পাচার করে নিয়ে গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। বর্তমানে ‘নভিচকের’ পূর্ণ দখলদারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। তা হলে তথাকথিত ‘নভিচক’ রাশিয়ানরা পেল কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাছাড়া আন্তর্জাতিক রাসায়নিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞ দল নিজ পক্ষ ত্যাগী গোয়েন্দা স্ক্রিপাল ও তার মেয়ের ওপর ‘নভিচক’ প্রয়োগের কোন প্রমাণ খুঁজে পায়নি!

আজকের পৃথিবী নামক গ্রহের সাড়ে সাতশ কোটি মানুষের মাথার ওপর ছড়ি ঘোরাচ্ছে মিথ্যুক ধাপ্পাবাজ ভ- নারীলোভী চরিত্রহীন মাতাল জুয়া বোর্ডের মাস্তান ট্রাম্প এবং তার ইউরোপীয় সাঙ্গোপাঙ্গরা। অথচ তথাকথিত সভ্য গণতান্ত্রিক (!) দুনিয়া ‘বাহ্ বেশ বেশ’ বলে হাততালি দিয়ে নেচে চলেছে এদেরই সঙ্গে!

ফিলিস্তিনের দিকে তাকিয়ে নিভৃতে নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করি, কি অপরাধ ছিল ১২ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি বালক ইব্রাহিমের! ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে নিয়ে গাজায় তথাকথিত ইসরাইল সীমানার দিকে এগিয়ে চলেছিল ইব্রাহিম। এই শিশুটিকে পাখির মতো গুলি করে মারলো ইসরাইলি স্নাইপাররা। এভাবে আজ পর্যন্ত ৪৪ জন নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিকে ইসরাইলি স্নাইপাররা গুলি করে হত্যা করেছে এবং ২০০০ জনকে আহত করেছে।

মিথ্যা রাসায়নিক অস্ত্রের অভিযোগ তুলে যদি সিরিয়ার দামেস্কে ‘টার্গেটেট অ্যাটাক’ হতে পারে তাহলে সঠিক অভিযোগের ভিত্তিতে জেরুজালেমে কেন ‘টার্গেটেট অ্যাটাক’ হবে না? ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় শত শত শিশু নিহত হয়, আহত হয়ে হাজার শিশু যখন হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরায়, তখন রিয়াদে কেন ‘টার্গেটেট অ্যাটাক’ হবে না? জানি এ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার মুরোদ তথাকথিত সভ্য দুনিয়ার নেই, নেই মেরুদন্ডহীন জাতি সংঘের।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর পৃথিবীর কর্তৃত্ব চলে গেছে মুনাফালোভী নিকৃষ্ট এবং ইতর প্রকৃতির লুটেরা গোষ্ঠীর হাতে। যেটুকু ভারসাম্য এখনো বজায় আছে তা সম্ভব হচ্ছে রাশিয়া এবং গণচিনের কারণে। আর ‘গণতন্ত্র সংবিধান রাষ্ট্রের ওপর জনগণের নিয়ন্ত্রণ মানবাধিকার ব্যক্তি স্বাধীনতা’ এসবই আজ সোনার পাথরে বাটি ছাড়া অন্য কিছুই নয়। ট্রাম্পের মত (‘মত’ বলেছি এ জন্য যে, আরও অনেক লম্পট আছে দুনিয়াটাতে) লম্পটকে রুখবে কারা? দেখে শুনে মনে হয় যে কোন মুহূর্তে দুনিয়াব্যাপী একটা সংঘর্ষ বেধে যেতে পারে। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি হিটলার মুসোলিনি তোজোর চাইতেও ভয়াবহ। একতরফাভাবে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি বাতিল করার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ইসরাইল সিরিয়ায় ইরানের ঘাঁটিগুলোর ওপর রকেট হামলা চালালো। অনেকেই মনে করছেন ইসরাইল ইরান যুদ্ধ অত্যাসন্ন। এ জন্যই ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একতরফাভাবে পরমাণু চুক্তি বাতিল করেছে। এটা ভাবা অমূলক নয় যে, এই মুনাফালোভী উন্মত্ততা বিশ্বব্যাপী সংঘর্ষ বাধিয়ে দিতে পারে যে কোন মুহূর্তে। তাই যদি হয় তাহলে ‘ডাইনোসর যুগের’ পর এই গ্রহ থেকে ‘মানব যুগের’ অবসান হওয়া কী নিছকই কল্পনা?

১৪.০৫.১৮