menu

ধানের ন্যায্যমূল্য : কৃষকের প্রত্যাশা

মো. আবদুর রহমান

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯

ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য। আমাদের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় ক্যালোরির শতকরা প্রায় ৮০ ভাগই আসে ভাত থেকে। তাই খাদ্য বলতে আমরা প্রধানত ভাতকেই বুঝে থাকি। বস্তুত ভাতের সাথে রয়েছে আমাদের নাড়ির টান। আর আমাদের প্রাণশক্তির উৎসও ভাত। এ দেশের জমি ও আবহাওয়া ধান চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। বাংলাদেশের বিভিন্ন মৌসুমে আবহমানকাল থেকে এ ফসলের চাষ হয়ে আসছে। এ দেশের আবাদি জমির শতকরা প্রায় ৭৫-৮০ ভাগই ধানের চাষ হয়। আর শতকরা প্রায় ৯২ জনই হলো ধান চাষী। গ্রামবাংলার মানুষের সারা বছরের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবেও ধান বিবেচনা করা হয়। সুতরাং আমাদের ধন আর ধানই প্রাণ।

এ বছর উচ্চফলনশীল জাতের ধানের চেয়ে হাইব্রিড জাতের ধানের চাষ বেশি হওয়ায় দেশে রেকর্ড পরিমাণ বোরো ধানের উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু দাম অপ্রত্যাশিতভাবে পড়ে যাওয়ায় কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচ উঠছে না। আবার শ্রমিক সংকট ও শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় ধান কাটতেও কৃষকদের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এক মণ ধান বিক্রি করেও একজন শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করা যাচ্ছে না। কৃষকদের মতে, প্রতি মণ ধানের উৎপাদন খরচ ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। কিন্তু বাজারে ধানের প্রকারভেদে প্রতি মণ ধান ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে না। সরকার প্রতি মণ ধান ১০৪০ টাকা দরে সরাসরি কিনলেও বেশির ভাগ কৃষকই এ দামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না।

জানা যায়, দেশে এ বছর এক কোটি ৯৬ লাখ টন বোরো ধান উৎপাদন হবে। সরকার এ বছর প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকা দরে মোট দেড় লাখ টন ধান সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কেনার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে; যা উৎপাদনের তুলনায় খুবই সামান্য। অন্যদিকে বাজারে এবার ক্রেতাও কম। এ পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ধানের মূল্য নিয়ে দেশে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধানের চেষ্টা করছেন সরকার। এ বিষয়টি নিয়ে দেশের সচেতন মহলেও তুমুল আলোচনা চলছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. শাহাজাহান কবীর বলেন, আমাদের কৃষকের ভর্তুকি যদি একটু বাড়ানো যায়- অর্থাৎ সার, বীজ ও সেচের ক্ষেত্রে ভর্তুকি বাড়াতে পারলে ধানের উৎপাদন খরচ কমে আসবে। মূলত ধানের উৎপাদন খরচ কমানোর দিকে জোর দেয়া প্রয়োজন। এজন্য শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জমি চাষ, ধানের চারা রোপণ, কর্তন ও মাড়াইয়ের জন্য যান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

বোরো মৌসুমে এক কেজি উচ্চফলনশীল জাতের বোরো ধানের বীজ যেখানে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়, সেখানে এক কেজি হাইব্রিড জাতের বোরো ধানের বীজ ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। বর্তমানে দেশে বোরো মৌসুমে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ জমিতে হাইব্রিড জাতের ধানের চাষ হচ্ছে। ধানের বেশি ফলনের জন্য ভবিষ্যতে বোরো মৌসুমে হাইব্রিড জাতের ধানের জমির পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে কৃষকের অভিমত। তাই বোরো ধানের উৎপাদন খরচ কমানোর লক্ষ্যে সর্বপ্রথম কৃষক পর্যায়ে বীজ ধান বিশেষ করে হাইব্রিড জাতের ধান বীজের দাম কমাতে হবে।

ধান ফসলের চারা রোপণ, ধান কাটা ও মাড়াই কাজে প্রধানত শ্রমশক্তি ব্যবহার করা হয়। এ কাজগুলো যদি যন্ত্রের সাহায্যে সম্পন্ন করা যায় তাহলে ধানের উৎপাদন খরচ অনেক হ্রাস পাবে। এতে কৃষক লাভবান হবে এবং কৃষি শ্রমিক সংকট দূর হবে। উল্লেখ্য, ধানের জমি চাষের কাজে এখন দেশে লাঙ্গল ও গরুর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কৃষক ভাইয়েরা পাওয়ার টিলার ব্যবহার করছেন; যা খুবই আশাব্যঞ্জক। সরকার কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে সারা দেশে ক্রয়মূল্যের শতকরা ৫০ ভাগ এবং হাওর ও দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় কৃষকদের শতকরা ৭০ ভাগ ভর্তুকি প্রদান করছে। কম্বাইন হার্ভেস্টারের মাধ্যমে ধান কাটা, মাড়াই ও বস্তাভর্তি কাজে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ খরচ সাশ্রয় করা সম্ভব। অন্যদিকে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণের মাধ্যমেও ধান চাষের উৎপাদন খরচ অনেক কমিয়ে আনা যায়। আবার যান্ত্রিকীকরণ করা সম্ভব হলে ধান চাষে পানির সেচের খরচও কমে আসবে। যেখানে এক কেজি ধান উৎপাদনে তিন হাজার লিটার পানি খরচ করে বাংলাদেশের কৃষকরা, সেখানে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় এটি দুই হাজার লিটারের বেশি না। কোথাও কোথাও ১২০০ থেকে ১৫০০ লিটার পানি লাগে। প্রসঙ্গত, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের যন্ত্রের সুবিধা দিতে ভাড়াভিত্তিক যন্ত্রের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।

ধান ফসলের উৎপাদন খরচ হ্রাসের লক্ষ্যে সরকার রাসায়নিক সারের মূল্য ৪ দফা কমিয়ে বর্তমানে প্রতি কেজি টিএসপি ৮০ টাকা থেকে কমিয়ে ২২ টাকা, ডিএপি ৯০ টাকা থেকে ২৫ টাকা এবং এমওপি ৭০ টাকা থেকে ১৫ টাকায় নির্ধারণ করেছে। ইউরিয়াসহ অন্যান্য রাসায়নিক সারের দাম আরও একটু কমানো যায় কিনা তা চিন্তা করা দরকার। সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনুকূল আবহাওয়া তৈরি হওয়ায় ধান ফসলে বিভিন্ন ধরনের রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ ক্রমশ বাড়ছে। ধান ও অন্যান্য ফসলের রোগ ও পোকামাকড় দমনের নিমিত্তে অতীতের তুলনায় বর্তমানে দেশে কীটনাশক কোম্পানির সংখ্যা অনেক বাড়ছে। আর এসব কোম্পানিগুলো হরেকরকম কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক বাজারজাত করছে। এগুলোর দামও অনেক বেশি। সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের (সিনসাইপার-১০ইসি) ১০০ এমএল বোতলের একটি কীটনাশকের দাম ৮০ থেকে ৯০ টাকা, যা দিয়ে ৩৩ শতক জমির ধান ক্ষেতে একবার স্প্রে করা যায়। অপরদিকে ট্রাইসাইক্লাজল গ্রুপের (ট্রুুপার-৭৫ ডব্লিউপি) ৫০ গ্রাম কৌটার-প্যাকেটের একটি ছত্রাকনাশকের দাম ২২০ টাকা, যা দিয়ে প্রায় ৩৩ শতক জমির ধান গাছে একবার স্প্রে করা যায়। কৃষক উচ্চমূল্য দিয়ে এসব ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক ক্রয় করে ধান ফসলে ব্যবহার করছেন। উপরন্তু, কীটনাশক ডিলারদের প্ররোচনায় ইদানীং কৃষকরা বেশি ফলনের আশায় ধান ফসলে যথেচ্ছ পরিমাণ বোরণ, দস্তা, সালফার এসব অনুখাদ্য ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে মাটির উর্বরতা শক্তি ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে ধানের উৎপাদন খরচ বাড়ছে। ধানের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কীটনাশক কোম্পানিগুলোর ওপর মনিটরিং কার্যক্রম জোরদারকরণসহ কীটনাশক ও ছত্রাকনাশকের দাম সরকারিভাবে নির্ধারণপূর্বক ধান চাষে যথেচ্ছ অনুখাদ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

অধিকন্তু যেসব জমিতে (বিশেষ করে মাঝারি উঁচু ও বেলে দোআঁশ প্রকৃতির মাটিতে) ধানের ফলন সাধারণত কম হয়, সেসব জমিতে ধানের পরিবর্তে সর্জান/বেড পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি ও স্বল্পমেয়াদি ফলমূল যেমন- পেঁপে, কলা, তরমুজের চাষ করা উচিত। এতে ধানের তুলনায় অধিক অর্থ আয় করা সম্ভব হবে।

এ দেশে ধান কর্তনের জন্য সব কৃষকের পক্ষে জমিতে কম্বাইন হারভেস্টার-রিপার ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। এজন্য ধান কর্তনের জন্য গ্রামাঞ্চলের শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকার যুবক এমনকি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রদের কাজে লাগানো যেতে পারে। এতে হাট-বাজার বা অন্য জায়গা থেকে শ্রমিক আনার প্রয়োজন হবে না। ফলশ্রুতিতে কৃষি শ্রমিক সংকট অনেকটা দূর হবে। এজন্য পূর্ব থেকেই কৃষক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সমন্বয়ে গ্রামে গ্রামে কমিটি গঠন করা যেতে পারে।

সর্বোপরি, ধান কর্তনের পূর্বেই সরকারিভাবে ক্রয়মূল্য ও সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। ধান ক্রয়ের আগে কোনো কৃষকের তালিকা তৈরির প্রয়োজন নেই। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর হতে প্রাপ্ত কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ডধারী কৃষকই তাদের সামর্থ্যমতো ধান সরকারের কাছে বিক্রি করবেন। যেসব কৃষকের কাছে থেকে ধান ক্রয় সম্পন্ন হবে শুধু তাদের বিস্তারিত তালিকা তৈরি করে রাখতে হবে। আর ধান কর্তনের পরপরই কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করতে হবে। এজন্য ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ড, প্রয়োজনে প্রতি গ্রামে ধান ক্রয় কেন্দ্র করতে হবে। ধান ক্রয়ের পর তা সরকারি গুদামে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত। এজন্য গুদামের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধিসহ নতুন নতুন গুদাম নির্মাণ করতে হবে। জানা যায়, ভবিষ্যতে বেশি করে ধান কিনতে সারা দেশে ‘মিনি পেডি সাইলো’ নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি সাইলোতে ড্রয়ার ও ফেনি মেশিন থাকবে; যাতে কৃষকরা ভেজা ধান দিলেও কোনো সমস্যা না হয়। এটি যদিও সময়সাপেক্ষ সেজন্য প্রতিটি উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারিভাবে অস্থায়ী গুদাম ঘর ভাড়া নেয়া যেতে পারে।

তাছাড়া কৃষকদের উৎপাদিত ধান বাজারজাত করার জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ঝামেলাহীনভাবে বিক্রির জন্য মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। এতে কৃষক তার উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং লোকসান হবে না।

আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার ফসল ক্রয়ে এমন একটা ব্যবস্থা করেছে যাতে কৃষক লোকসানে না পড়ে। সে দেশে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘কমিশন ফর এগ্রিকালচারাল ক্রপস অ্যান্ড প্রাইসেস (সিএসিপি)’ নামে একটি সংস্থা আছে। এটি কৃষিতে মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইস (এমএসপি) বা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। সরকার এই দামে কৃষকের কাছ থেকে কৃষিপণ্য কিনবে। সরকার বর্তমানে কৃষকের কাছ থেকে ২৩ ধরনের পণ্য কিনে কৃষক যেন তার ন্যায্যমূল্য পায়। ফসল চাষের সময়ই পণ্যের দাম ঠিক করা হয় এবং তা বাজার মূল্য থেকে কিছুটা বেশি থাকে। আবার যে পরিমাণ কেনা হয়, তা বাজারে প্রভাব ফেলার মতো যথেষ্ট।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার ধান কিনছে মোট উৎপাদনের পাঁচ ভাগের এক ভাগ। আর বাংলাদেশ কিনছে মোট উৎপাদনের ২০ ভাগের এক ভাগ। এবছর বোরো মৌসুমে পশ্চিমবঙ্গে ধান উৎপাদিত হয়েছে আড়াই কোটি টন এবং প্রাদেশিক সরকার ৫২ লাখ টন ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কিনছে। বাজারে প্রতি কুইন্টাল ধানের দাম ১৪৫০ থেকে ১৫০০ রুপি হলেও সরকার কিনছে ১৭৫০ রুপিতে। আবার মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইসের সঙ্গে প্রতি কুইন্টাল ধানে ২০ টাকা বোনাস দিচ্ছে সরকার। আবার একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৯০ কুইন্টাল ধান দিতে পারবে।

উন্নত বিশ্বের কিছু দেশ যেমন- জাপান, কোরিয়া কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সবটাই কিনে নেয়। পরে আবার তা কম দামে বিক্রি করে। জাপানের জিডিপিতে কৃষির অবদান দুই ভাগ কিন্তু ভর্তুকি আরও বেশি। আমাদের দেশে কৃষি উপকরণে সহায়তা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এটা করা গেলে সব ধরনের কৃষকের কাছে সরকারের সুবিধা পৌঁছানো সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমানো যাবে। ফলে কম মূল্যে বিক্রির পরও কৃষকের মুনাফা কমবে না।

সুদীর্ঘকাল থেকেই কৃষি আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের কৃষি খাতে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে কৃষিবিজ্ঞানীদের উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন, জোরদার সম্প্রসারণ কার্যক্রম এবং কৃষিজীবীদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা পরিশ্রম ও বিনিয়োগে। এ কৃষিই দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। একটা কৃষি পরিবারের ছেলে-বুড়ো-মহিলা-পুরুষ সবাই কৃষিতে জড়িয়ে থাকেন। ১৭ কোটি মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি এবং কোটি কোটি মানুষের আত্মকর্মসংস্থানের মতো এত বিশাল খাত দেশে আর একটিও নেই। কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা পৃথিবীর সব দেশেই ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যান্য দেশে বীজ-বপণ থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণের প্রতি স্তরে কৃষকরা পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা পেয়ে থাকেন, এমনকি বীমার ব্যবস্থাও রয়েছে। বর্তমান সরকার কৃষি উন্নয়ন ও কৃষকের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষক তার উৎপাদিত ধান ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং মুখে ফুটবে হাসির ঝিলিক- এ আমাদের প্রত্যাশা।

[লেখক : উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি অফিস, রূপসা, খুলনা]