menu

একচল্লিশ বছরে কোথায় দাঁড়িয়ে বিএনপি

মোহাম্মদ শাহজাহান

  • ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশের মানুষ আগাগোড়াই গণতন্ত্রপ্রিয়। শত বছরের ইতিহাসে দেখা যায়, এ দেশের সরল সোজা মানুষ লেখাপড়া কম জানলেও গণতান্ত্রিক নির্বাচনে সঠিক রায় দিতে কখনও ভুল করেনি। কিন্তু এ দেশের মানুষের দুর্ভাগ্য, স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বারবার হোঁচট খাচ্ছে। বহু চড়াই উতরাই পেরিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার দেড় দশক পর ১৯৯১ সালে পুনরায় সংসদীয় গণতন্ত্র চালু হয়। একানব্বইয়ের পর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও দেড় দশক পর আবারও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ওই সময় বিএনপি দলীয় রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার ক্ষমতায় থেকে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে জনবিচ্ছিন্ন খালেদা গংকে আবারও ক্ষমতায় বসাবার চক্রান্ত করেন। আন্দোলনের ডাক দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। দেশ নিশ্চিতভাবেই গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হলে সেনাসমর্থিত ফখরুদ্দীন সরকার অন্যায় ও অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে।

কারাবন্দী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমানের দূরদর্শী, প্রাজ্ঞ, সাহসী ও সময়োপযোগী নেতৃত্বে অন্যায়ভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা ক্ষমতাকাল দীর্ঘায়িত করতে পারেনি। দু’বছরের মাথায় নির্বাচন দিতে বাধ্য হয় সেনাসমর্থিত সরকার। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে। ওই নির্বাচনে জিয়াপতœী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ও বিএনপি জোট চরমভাবে পরাজয় বরণ করে। ৫ বছর বিএনপি সংসদে যায়নি। সদস্যপদ টিকিয়ে রাখার জন্য কয়েক দিনের জন্য সংসদে গেছে। ওই ৫ বছর নামেমাত্র হলেও সংসদীয় গণতন্ত্র চালু ছিল। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দেশে চলমান সংসদীয় গণতন্ত্র এবং একই সঙ্গে নিজের ও দলের রাজনীতিকে অনিশ্চয়তার পথে ঠেলে দেন।

বর্তমানে কাগজে-কলমে এবং বাস্তবে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু রয়েছে। নির্বাচিত সংসদ রয়েছে। সরকার, সংসদ নেতা, সরকারি দল, বিরোধী দল, বিরোধীদলীয় নেতা সবই আছে। কিন্তু সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধী দল উভয়পক্ষ মিলেই যে রাষ্ট্র পরিচালনা করে, বাস্তবে তা কতটুকু রয়েছে সেটাই আসলে দেখার বিষয়।

মাত্র কয়েক দিন আগে (১ সেপ্টেম্বর ২০১৯) বিএনপি ৪১ বছর পার করে ৪২ বছরে পা দিয়েছে। ২ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকেলে রাজধানীতে ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশাল শোভাযাত্রা করেছে দলটি। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সম্মুখ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটিতে নেতাকর্মী ও মানুষের ঢল নামে বলে পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে। বিশাল ওই শোভাযাত্রা মালিবাগে শেষ হলেও শেষ প্রাপ্ত ছিল নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেই। শোভাযাত্রা শুরুর আগে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই সরকার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। বেগম খালেদা জিয়াকে আটকে রেখে এবং হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা-নির্যাতনের মাধ্যমে ২৬ লক্ষ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে, পাঁচশোর ওপর নেতাকর্মীকে গুম করে তারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন বন্ধ করতে চেয়েছে। কিন্তু এই শোভাযাত্রা প্রমাণ করেছে, তারা দমন করতে পারবে না। বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা, গুম, খুন করে সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আমরা কি আবারো বাকশালে ফিরে যাব? এত সোজা নয়। কোনোদিনই মেনে নিব না। আমরা যদি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চাই, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে আমাদের রাজপথে সোচ্চার হয়ে এই স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে।’

প্রতিষ্ঠার ৪১ বছর পর কোথায় দাঁড়িয়ে আছে বিএনপি!। বর্তমানে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন এ দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। ৩-৪টি জাতীয় নির্বাচনে ৫টি করে আসনে প্রতিপক্ষকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে তিনি রেকর্ড সৃষ্টি করেন। এক সময় তার জনসভায় লাখো মানুষ হাজির হতো। তিনি প্রায় চার দশক ধরে দলীয়প্রধান, ২-৩ বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এবং দু’বার সংসদে বিরোধী দলের নেতা ছিলেন। বারবার ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে মাতাপুত্র দলকে বলতে গেলে শেষ করে দিয়েছেন। বেগম জিয়া ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল এবং ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দশ বছর সংসদে বিরোধী দলের নেতা ছিলেন। দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দী হয়ে আছেন এককালের তুমুল জনপ্রিয় দু’বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সন্দেহ নেই, ৪১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে করুণ ও কঠিন সময় অতিবাহিত করছে বিএনপি। দলনেত্রী কারাগারে। দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান তারেক রহমান ১১ বছর ধরে দেশের বাইরে। বলা যায় রাজনীতির ঘূর্ণিপাকে পড়েছে বিএনপি। মনে হয়, ‘পথহারা পথিকের’ মতো সঠিক পথ খুঁজে পাচ্ছে না। চার দশক পর চতুর্থবারের মতো গভীর সংকটে জিয়া-খালেদার দল। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডনে বসে টেলিফোন-স্কাইপিতে দল চালাচ্ছেন। দুই শীর্ষ নেতার অবর্তমানে চরম নেতৃত্ব সংকটে পড়েছে এই দল। পরিস্থিতি পক্ষে আনতে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট গঠন, অনেকটা নিঃশর্তভাবে সংসদে যোগাদানসহ বিভিন্ন কলাকৌশল গ্রহণ করেও সংকটের বেড়াজাল থেকে বের হতে পারছে না দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন জিয়াউর রহমান। জিয়া তখন বাংলাদেশের সর্বময় ক্ষমতার মালিক। তিনি দেশের রাষ্ট্রপতি (অবৈধ), সশস্ত্রবাহিনীর প্রধান, সেনাবাহিনী প্রধান, প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (সিএমএলএ)। সেনাবাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে বরাদ্দ সেনানিবাসের বাসায় থেকে, সেনাবাহিনীতে কর্মরত থেকে, সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন জিয়া। জিয়ার ওই দল গঠন বাংলাদেশের সংবিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। অবশ্য জিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতা দখল ও রাষ্ট্রপতি হিসেবে শাসনকালÑ সবকিছুকেই উচ্চ আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছে। বিভিন্ন দলের সুবিধাবাদীদের রাষ্ট্রীয় উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে দলছুটদের এনে এই জগাখিচুড়ি দল গঠন করেন সেনাপ্রধান জিয়া। জিয়ার মন্ত্রিসভায় এবং দলে স্বাধীনতাবিরোধীরা অগ্রাধিকার পায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন। আর জেনারেল জিয়া স্বাধীনতাবিরোধীদের দেশে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে কতিপয় সেনাসদস্য জিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ১৯৮৩ সালে বিএনপির হাল ধরেন জিয়াপতœী বেগম খালেদা জিয়া। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি খালেদার পেছনে ঐক্যবদ্ধ হয়। ১৯৯১ সালে অনেকটা অস্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠন করেন এককালের গৃহবধূ বেগম খালেদা জিয়া। ৫ বছর বিরতি দিয়ে ২০০১ সলে প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুরের পক্ষপাতমূলক নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়ত-শিবিরকে নিয়ে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পুনরায় ক্ষমতায় বিএনপি। খালেদা জিয়ার প্রথম টার্ম ও দ্বিতীয় টার্মের মধ্যে দেশ পরিচালনার ব্যাপারে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। দ্বিতীয় টার্মে তারেক-কোকোরা লুটপাঁ শুরু করে। জিয়া পরিবার দুর্নীতিগ্রস্ত পরিবারে পরিণত হয়। বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী ব্যক্তিত্ব শামস কিবরিয়া এমপি, জনপ্রিয় শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপিসহ আওয়ামী লীগের বহু নেতাকে হত্যা করা হয়। সবশেষে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাসহ দলের শীর্ষ নেতাদের একযোগে হত্যার কু-উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট প্রকাশ্য জনসভায় গ্রেনেড হামলা করা হয়। বেগম জিয়ার দ্বিতীয় টার্মে বিএনপি একটি পুরোপুরি জনবিচ্ছিন্ন দলে পরিণত হয়।

আসলে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করেই বেগম জিয়া বলতে গেলে দলকে শেষ করে দিয়েছেন। তারপর নির্বাচন প্রতিহত এবং ২০১৫ সালের অবরোধ আন্দোলনের নামে বেপরোয়ায় সন্ত্রাসী তৎপরতায় কয়েকশ’ বেগম জিয়ার নিরপরাধ মানুষকে হত্যা এবং হাজার হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করার দায়-দায়িত্বও তার ওপর বর্তায়। এরপর সরকার কঠিনভাবে চেপে ধরে বিএনপিকে। দুই সন্ত্রাসী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে হাজার হাজার মামলা হয় দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সরকারি চাপে ও পুলিশের ভয়ে ঘরছাড়া হয়ে যায় বিএনপি নেতাকর্মীরা। এরপর সরকারবিরোধী আন্দোলন দূরের কথা জীবন বাঁচানোর জন্য ঘরছাড়া নেতাকর্মীরা আত্মগোপন ও পলাতক জীবন বেছে নেয়। সুযোগ বুঝে সরকার খালেদা-তারেকের দুর্নীতির মামলার বিচার শুরু করে। দুনীতির মামলায় ম্যাডামের ১৭ বছরের জেল হয়েছে। দুর্নীতির মামলায় সাজা ছাড়াও গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদ- হয়েছে।

সর্বশেষ, ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চরমভাবে হেরে যায়। বিএনপি বলছে, দুর্নীতি করে, জোর করে এবং রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে তাদের হারিয়ে দেয়া হয়েছে। বিএনপির অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাদের উচিত রাজপথে নেমে আন্দোলন করা। কিন্তু আন্দোলন করার সামর্থ্য কি ওদের আছে? এবারের নির্বাচনের পর বিএনপির পক্ষ থেকে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করা হয়। এরপর দলীয় নেতাদের না জানিয়ে গোপনে তারেক রহমানের নির্দেশে এমপিরা শপথ নিয়ে সংসদে যোগদান করে। এভাবে সংসদে যোগদান অনেকটা সরকারের কাছে আত্মসমর্পণের শামিল। এখানেই শেষ নয়। মাতাপুত্রের অনুপস্থিতিতে যে মানুষটি দলের নেতাদের নিয়ে বিএনপিকে কোরামিন দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছেন, সেই মির্জা ফখরুলকে অনেকটা জালিয়াতির মাধ্যমে এমপি পদ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত, তাঁর ভাবমূর্তিও কুৎসিত। তিনি দুর্নীতির প্রতীক। ভীরু কাপুরুষের মতো বিদেশে পালিয়ে রয়েছেন। মির্জা ফখরুলের ভাবমূর্তি তারেকের মতো অনুজ্জ্বল নয়। মির্জা ফখরুল সংসদে থাকলে বিএনপির লাভ হতো। মির্জা ফখরুলকে এভাবে আউট করে দিয়ে অনেকটা চোরের মতো এমপিদের সংসদে পাঠিয়ে তারেক রহমান আবারো প্রমাণ করলেন, তাকে সামনে রেখে বিএনপিকে এগিয়ে নেয়া যাবে না। লন্ডনে চোরের মতো পালিয়ে থেকে দলীয় প্রধানকে মুক্ত করা যাবে না। রাজনীতি করতে হলে নেতাকে সাহসী হতে হবে। দেশের জন্য জান কোরবান করার মানসিকতা থাকতে হবে। পালিয়ে থেকে দলীয় পদ দখল করে রাখা যায়, কিন্তু দলকে এগিয়ে নেয়া যায় না। মাতাপুত্রের ভুল রাজনীতির কারণে বিএনপি বহু আগেই মুসলিম লীগে পরিণত হয়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। বিএনপির বেলায় তা হয়নি। এমন দুঃসময়েও ২ সেপ্টেম্বরের দলীয় শোভাযাত্রায় লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। শোভাযাত্রায় তো দলীয় নেতাকর্মীরাই আসে। সমর্থকরা ভোট দেয়। কাজেই বিএনপি শেষ হয়ে গেছে একথা মনে করার কোনো কারণ নেই। এদেশে স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও স্বাধীনতাবিরোধী এবং তাদের আত্মীয়স্বজন ও সমর্থকরা সক্রিয় রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনি ও তাদের স্বজন-পরিজন এবং স্বাধীনতাবিরোধীরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এখনো জান কোরবান করতে প্রস্তুত। ১১ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে। ক্ষমতায় থেকে জনপ্রিয়তা ধরে রাখা খুবই কঠিন কাজ। আমেরিকা, ব্রিটেন, ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশেও একাধারে ২-৩ বার ক্ষমতায় থাকা খুবই কঠিন কাজ।

বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনদের একচেটিয়া রাজত্ব চলছে। ক্ষমতায় থাকলে অনেকেই দৈত্যে পরিণত হয়। সম্মানজনক ব্যতিক্রম ছাড়া, মন্ত্রী, এমপি, দলীয় নেতা, পাতি নেতা এবং তাদের স্বজনরা অনেকেই জেলায়-উপজেলায় রামরাজত্ব কায়েম করেছে। কারো কারো আচরণতো পুরনো দিনের জমিদারদের মতো। ক্ষমতাসীন দলের জাতীয় সম্মেলন এ বছরই হওয়ার কথা রয়েছে। পত্রিকান্তরে প্রকাশ, এ পর্যন্ত মাত্র এক জেলায় সম্মেলন হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় এসেছে উপজেলা নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নেয়া বিদ্রোহী প্রার্র্থী ও তাদের মদদদাতা ১৫০ নেতার কাছে কারণ দর্শনো নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। তাছাড়া উপদলীয় কোন্দল নেইÑ এমন জেলা-উপজেলা খুব কমই রয়েছে। বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নামে ক্ষমতায় থাকাকালে বহু রাজনৈতিক দোকান খোলা হয়েছে। দুঃসময়ে এরা ছিল না এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। বর্তমানে দেশে সক্রিয়া এবং শক্তিশালী বিরোধী দল নেই। কাজেই সর্বত্র আওয়ামী লীগই বিরাজমান। ওই যে কথায় বলে এখন দেশে শুধু ‘আমরা এবং মামারা’।

২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রার পূর্বের সমাবেশে বিএনপি নেতারা বলেছেন, ‘আন্দোলনের মাধ্যমেই তারা বর্তমান সরকারের পতন ঘটাবেন এবং তাদের কারাবন্দী নেত্রীকে মুক্ত করবেন। ’ বিএনপি রাজনীতির একনিষ্ঠ সমর্থক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এমাজউদ্দিন আহমদ ১ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন দৈনিকে ‘বিএনপিকে যেপথে এগোতে হবে’ শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধে লিখেছেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে একমাত্র বিএনপিই হতে পারে মূল ভরসা। কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসনের মুক্তি আন্দোলন বেগবানের মধ্য দিয়ে তাকে মুক্ত করেই গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার সম্ভব। ’ এ জন্য তিনি অতীতের ভুল-ত্রুটি শুধরে, নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে দলকে চাঙ্গা করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের মতে, সর্বাগ্রে দলকে সংগঠিত ও শক্তিশালী করতে হবে। আর এ জন্য বেগম জিয়ার অবর্তমানে গ্রহণযোগ্য নেতা নির্বাচন করা খুবই জরুরি। প্রথমেই দলীয় নেতাকর্মী তথা তৃণমূল থেকে ১১ বছর ধরে বিচ্ছিন্ন থাকা তারেক রহমানকে সরে দাঁড়াতে হবে। বিএনপিকে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফিরতে হবে। সংসদে ও সংসদের বাইরে সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরতে হবে। দলকে গুছিয়ে জনগণের গ্রহণযোগ্য কর্মসূচি দিয়ে ও নেতাকর্মীদের প্রস্তুত করে আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে পারলে রাজনীতিতে অগ্রসর হতে সক্ষম হবে বিএনপি।

৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

লেখক : সাপ্তাহিক বাংলাবার্তা সম্পাদক

bandhu.ch77@yahoo.com