menu

রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী ও পাবনা

রণেশ মৈত্র

  • ঢাকা , বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

প্রায় ষাট বছর পূর্বে ১৯৬১ সালে বাঙালির সাহিত্য সংস্কৃতির বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সামরিক চক্রের হামলাকে প্রচন্ড সাহসিকতার সঙ্গে সম্মিলিত প্রয়াসে ব্যর্থ করে দিয়ে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকীর উৎসব সফল করে তোলা হয়েছিল। কী বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গেই না ওই ‘মহাপ্রতাপশালী’ শাসকগোষ্ঠীর ভ্রুকুটি এবং তাদের সব হুমকিকে উপেক্ষা করে সংস্কৃতি সভ্যতা বাঁচানোর লড়াই সফল হয়েছিল।

পাকিস্তানের বাঙালিবিরোধী, গণবিরোধী, সভ্যতা ও সংস্কৃতিবিরোধী শাসকচক্র ১৯৬১ সালে কবিগুরু এবং বাঙালি সংস্কৃতির তথা বিশ্ব সংস্কৃতি সভ্যতার প্রাণপুরুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানকে নানাভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে উদ্যত হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে পাবনার সাংস্কৃতিক মহলের এবং তরুণ সমাজের সম্মিলিত প্রতিরোধ ছিল অবিস্মরণীয়। এ কাহিনী তদানীন্তন সংস্কৃতি কর্মীরা গর্বের সঙ্গে স্মরণে রাখলেও নতুন প্রজন্মেও তরুণ-তরুণীদের কাছে ওই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস অনেকটাই অজানা।

প্রায় সকল পর্যায়েই আমরা বলে থাকি এবং বলতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি যে, বাঙালি জাতি একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। কথাটি ভিনদেশী মানুষদের কাছে ‘বিস্ময়কর কথা’ বলে মনে হলেও কথাটি আমাদের জাতীয় জীবনে প্রায় সর্বাংশে সত্য। এই জাতিকে তার ইতিহাসের পরতে পরতে ওই ক্রান্তিকালগুলোকে অতিক্রম করতে হয়েছে, আজও হচ্ছে।

প্রাসঙ্গিক সময়টা অর্থাৎ ষাটের দশক বাঙালি জাতির জীবনে অনন্য একটি দশক। নানাভাবে নানা পদক্ষেপে দৃপ্ত পদচারণায়। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মাত্র মাস ছয়েক পেরুতে না পেরুতেই ১৯৪৮ সালের মার্চে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্টভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের দাবিতে যে প্রচন্ড আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, পাবনার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসে তা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা; যা তখন পার্শ্ববর্তী অনেক জেলার তরুণ সমাজকে অনুপ্রাণিত করেছিল।

বাংলা বাঙালির মাতৃভাষা বাংলাভাষা এ দেশের কোটি কোটি হিন্দু-মুসলমানের মিলিতভাবে সৃষ্ট, লালিত, বর্ধিত একটি ভাষা যা দিনে দিনে আজ আন্তর্জাতিক মর্যাদা অর্জন করেছে এবং সেই ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি অর্জনের জন্য যে আন্দোলন তা ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সোপান হিসেবেও স্বীকৃতি অর্জন করেছে। কিন্তু এ পর্যন্ত আসার কাজটি কিন্তু সহজ ছিল না।

রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী ২৫ বৈশাখের আগের দু’দিন ৭ ও ৮ মে পাবনাতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানের মফস্বল সাংবাদিকদের প্রথম প্রাদেশিক সম্মেলন। ওই সম্মেলনেই গঠিত হয়েছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান মফস্বল সাংবাদিক সমিতি’ যা পরবর্তীতে ‘পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক সমিতি’ এবং সর্বশেষ ‘বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি’ নামে পরিচিতি অর্জন করে এবং ঐ সমিতি সমগ্র পূর্বপাকিস্তানের তথা বাংলাদেশের মফস্বল এলাকায় কর্মরত সাংবাদিকদের একটি মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তাদের অর্থনৈতিক দাবি-দাওয়া প্রতিষ্ঠায়ও ব্যাপক ভূমিকা রাখাতে সক্ষম হয়েছিল। তখনকার পরিপ্রেক্ষিতে কাজটি সহজ ছিল না। তখনকার দিনের তরুণ সাংবাদিকেরা সারা প্রদেশেই অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন সাংস্কৃতিক আন্দোলনে তাদেরই একজন এ নিবন্ধের লেখক। আর ওই সম্মেলনকে কেন্দ্র করেই ১ মে, ১৯৬১ সালে পাবনা প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ক্লাবটিও সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতি প্রসারে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছিল।

রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের উৎসবটি হবে এক সপ্তাহ ধরে। কিন্তু সপ্তাহব্যাপী রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন তখনকার অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরিতে কোন চাট্টিখানি কথা ছিল না। কারণ তৎকালীন গঠনতন্ত্রে অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির সভাপতি হতেন পদাধিকার বলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আজকের জেলা প্রশাসক।

জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের পেছনের দিনগুলো, তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিনগুলো এবং সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানের পরবর্তী দিনগুলো সম্পর্কে জানা না হলে এর ঐতিহাসিকতা বা গৌরব কাহিনী অজানাই থেকে যাবে।

রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানের মাসখানেক আগে। ওই শতবার্ষিকী উদযাপনের কর্মসূচি প্রণয়নের জন্য লাইব্রেরি পরিচালনা কমিটির সভা ডাকেন তদানীন্তন লাইব্রেরীর সম্পাদক ভাষাসৈনিক প্রয়াত রওশন জান চৌধুরী। ভালো কর্মসূচি প্রণয়ন, তা যথাযথ উদযাপনের বিষয়গুলোতে তিনি তার ভূমিকা বক্তব্যে গৃহীত কর্মসূচি সুচারুরূপে পালনে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কমনা করে বলেন, পাকিস্তান সরকার এই রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী প্রায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেÑ এ কথাটি মনে রেখেই কর্মসূচি প্রণীত হোক।

উল্লেখ্য, তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যিনি ছিলেন পদাধিকারবলে লাইব্রেরির সভাপতি, নানাবিধ ব্যস্ততাজনিত কারণে সভায় উপস্থিত হতে পারছেন না বলে আগেই সম্পাদককে জানিয়ে দিয়েছিলেন। তাই কমিটির অন্যতম সহসভাপতি আমজাদ হোসেন (পরবর্তীকালে এমএনএ) সভাপতিত্ব করেন।

আমরা তখন তরুণ। অল্পদিন আগে স্নাতক পাস করে কলেজ থেকে বেরিয়েছি। ছাত্র নেতা (প্রয়াত) বাল্যবন্ধু আবদুল মতিন ও আমার কথা বলছি। সভাতে কমিটির সদস্য আমরাও আমন্ত্রিত হয়ে উপস্থিত ছিলাম এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছি। বস্তুত সপ্তাহব্যাপী রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী পালনের প্রস্তাব এবং তার খুঁটিনাটি করণীয় বিষয়ে প্রাসঙ্গিক নানাবিধ বক্তব্য তুলে ধরা হলে সর্বসম্মতিক্রমে সে প্রস্তাবগুলো গৃহীত হয়।

সভার পরদিন লাইব্রেরি সম্পাদক রওশন জান চৌধুরী জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বাংলোতে গিয়ে অবহিত করেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তখন জানালেন কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ এসেছে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী যাতে পালিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে। এ কথা জানিয়ে তিনি বললেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে রবীন্দ্রভক্ত। তাই অনুষ্ঠান না করার কথা আমি বলতে পারব না। তবে সরকার যেহেতু চাইছেন না আবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আমিই যেহেতু সভাপতি তাই এ জটিলতা নিয়ে কমিটিতে বসে দু’কূল রক্ষা করে একটি সংশোধিত কর্মসূচি গ্রহণ করুন। তবে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আমি নিজে সম্ভবত এ অনুষ্ঠানমালায় উপস্থিত থাকতে পারব না।

অতি দ্রুততার সঙ্গেই রওশন জান চৌধুরী পুনরায় কার্যকরী কমিটির সভা আহ্বান করেন পূর্বতন সভার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে।

সভায় উপস্থিত হয়ে সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির আলোচনা সম্পর্কে প্রতিবেদন পেশ করলেন সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু তার ওই প্রতিবেদন জানা মাত্র আমাদের চোখ, মুখের প্রতিক্রিয়া বুঝতে পেরে তিনি বললেন, এক বা দুই দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হোক-সাত দিনের পরিবর্তে সরকারি মনোভাব বিবেচনায় রেখে।

আমাদের প্রতিক্রিয়া হলো অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। স্পষ্টত উচ্চারণে আমরা বললাম, সরকারের সিদ্ধান্ত বা মনোভাব একান্তই সরকারের। সরকারটি অবৈধ, অনির্বাচিত এবং বাঙালি ও বাঙালি সংস্কৃতিবিরোধী। তাই বাংলার শ্রেষ্ঠতম এবং বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠতম কবি রবীন্দ্রনাথকে নিশানা করলেও মূল টার্গেট বাঙালি সংস্কৃতি, বাংলার কাব্য-সাহিত্য-উপন্যাস-নৃত্য, সঙ্গীত প্রভৃতি। তাই ওই মনোভাবের বিরুদ্ধে বাংলার জনগণের দায়িত্ব বাংলার সাহিত্য-সংস্কৃতি সভ্যতা সমুন্নত রাখার, তাকে বিকশিত করার।

এবং যেহেতু রবীন্দ্রনাথই হলেন বাংলার সাহিত্য সংস্কৃতি সভ্যতার প্রাণপুরুষ সেই হেতু রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবার্ষিকী পূর্ব গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেকই উদযাপিত হবে। সভায় অন্যান্য সদস্যরাও এতে সায় দিলেও আমরা আর একই ভেবে বললাম, ঘোষণা দেব (একটি কাগজে লিখে গেটে টানিয়ে) তিন দিনব্যাপী উৎসব কিন্তু পালন করা হবে সপ্তাহব্যাপী আরও জাঁকজমক সহকারে।

এবারে দেখি সম্পাদকসহ বাদবাকি সকল সদস্যই প্রচন্ডভাবে সমর্থন জানালেন ওই সংশোধিত কর্মসূচি অনুযায়ী। তারা বলেই ফেললেন, এটাই উত্তম প্রস্তাব এতে দু’কূলই রক্ষা হবে। আর সামরিক কর্তৃপক্ষের সিন্ধান্ত বা মনোভাব পূরোপূরি অমান্য করাটাও লাইব্রেরির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। উল্লেখ্য, লাইব্রেরিটি সরকারি নয় পূরোপূরি বেসরকারি। যা হোক, এভাবেই সংশোধন না করেও ‘সংশোধিত কর্মসূচি’ অনুমোদিত হলো। পরে জানলাম জেলা ম্যাজিস্ট্রেটও এতে খুশি হয়েছেন।

ব্রজেন বসাক, নারায়ণ বসাক, রূপবানী শিকদার, শম্ভু জোয়ার্দার প্রমুখ পাবনার পাকিস্তান উত্তর খ্যাতনামা শিল্পীদের নিয়ে সাত দিনব্যাপী রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী উৎসব পালিত হলো। শেষ দিনের অনুষ্ঠানে কঠোরভাবে নিন্দা জানানো হলো সামরিক সরকারের রবীন্দ্র ও বাঙালি বিরোধী মনোভাবের। হাজারও দর্শক সাত দিন ধরে অনুষ্ঠান উপভোগ করলেন।

সকল কর্মী, শিল্পী সাহিত্যানুরাগী উৎসাহিত হলেন। যেসব কলেজ শিক্ষক ও অন্যান্য বিশিষ্টজন রবীন্দ্র সাহিত্যের নানাদিক, রবীন্দ্র সঙ্গীত ও তার শিল্প-কর্মের নানাদিক নিয়ে আলোচনা করে উৎসবকে সমৃদ্ধ ও হৃদয়গ্রাহী করে তুলেছিলেন তারাও সপ্রশংস অভিনন্দন জানালেন আয়োজকদের।

এ সাফল্যে আশাবাদী হয়ে আমরা যারা সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী ছিলাম তারা স্থির করলাম আরও অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে যাতে বলতে পারি মাসব্যাপী রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী পালিত হয়েছে পাবনাতে। দেখলাম এমন আকাক্সক্ষা ছাত্র ইউনিয়ন বহির্ভূত আরও অনেকেরও। তাই ইচ্ছা সহজেই পূর্ণতা পেল।

তখন পাবনার প্রতিটি পাড়ায় অনেক ক্লাব ছিল। ওই ক্লাবগুলোতে সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপ, শরীর চর্চা প্রভৃতি নিয়মিত হতো। ওই সকল ক্লাবের নেতারাই আমাদের কাছে তাদের ক্লাবের অনুষ্ঠানে যেন কবিতা আবৃত্তি, বা আলোচনা করি রবীন্দ্র জীবনের নানা দিক নিয়ে। কেউ বা আসতেন কী কী করা যায় বা করা সম্ভব তা নিয়ে পরামর্শ করতে। এভাবে কোথাও একদিন, কোথাও দুই দিন, কোথাও বা তিন দিনব্যাপী উৎসবের আয়োজন হলোÑ অনুষ্ঠিতও হলো।

আর কোন জেলা শহরে এমনটি হয়েছিল কিনা সেটা জানা নেই। তবে পাবনার সাংস্কৃতিক অঙ্গন সেদিন নিশ্চিতভাবেই গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছিল। বলেছি ক্রান্তিকালের কথা। সেটি বলেছি, বাংলাদেশে আবারও আদর্শিক পশ্চাদ্ধাবনের প্রক্রিয়া বেশ জোরেশোরে শুরু হয়েছে। সংবিধানের সাম্প্রদায়িকীকরণ, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ছড়াছড়ি কিন্তু অপরাধীদের বিচারহীনতা, পাঠ্যসূচি পাঠ্যপুস্তকে সাস্প্রদায়িক বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্তকরণ, জামায়াতে ইসলামী, ধর্মাশ্রয়ী সংগঠন ও রাজনীতির বৈধতা প্রদান, রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে সংরক্ষণের পাকাপাকি ব্যবস্থা যে পাকিস্তানীকরণ প্রক্রিয়া, হেফাজতের আমির তেঁতুল হুজুরের বিচরণ ও সরকারের ওপর অশুভ প্রভাব স্থাপন এসবই আজকের সংস্কৃতি কর্মী, বুদ্ধিজীবী সমাজ মেনে নেয়াতে এবং নিশ্চুপ থেকে মৌন সমর্থন জানানোতে বাঙালি সংস্কৃতি সভ্যতা ঐতিহ্য সবই আজও বিপদাপন্ন এবং এভাবেই ক্রান্তিলগ্নে পৌঁছেছি আমরা।

সে আমলে সাহসী হলেও আজ কি আমরা ভয় পাচ্ছি?

[লেখক : সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, ঐক্য ন্যাপ, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক]

E-mail:raneshmaitra@gmail.com