menu

বাংলাদেশ নর্দান ইভানজেলিক্যাল লুথারেন চার্চের ডায়মন্ড জুবিলি

মিথুশিলাক মুরমু

  • ঢাকা , শনিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

৩.

শেষাংশ

বর্তমান বাংলাদেশ ভূখণ্ডে সাঁওতালদের মধ্যে কখন সুসমাচার প্রচারিত হয়েছে, সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণাদি উপস্থাপন করা দুরূহ কাজ। আধুনিক মিশনের জনক ড. উইলিয়াম কেরী ১৭৯৬ খ্রিস্টাব্দে দিনাজপুর উপাসনা গৃহ নির্মাণ করেন, এটিই প্রথম ব্যাপ্টিস্ট গির্জা। সুসমাচারের বীজ নিয়ে ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে দিনাজপুরের মদনবাটিতে থিতু হয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে এই মদনাবাটিটি জেলার বংশীহারী থানায় অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে টাঙন নদী। উল্লেখ্য যে, ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে দেশ বিভাগের প্রাক্কালে মদনাবাটি ও মহিপাল গ্রামটি সীমানা রেখার অপরপ্রান্তে পড়ে যায়; শুধু সাদামহল গ্রামটি বর্তমান বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পড়ে। বর্তমানে সাদামহল গ্রামে অনেক সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর বসবাস হলেও অঞ্চলে প্রথম সাঁওতাল বিশ্বাসীদের চোখে পড়ে ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে। ১৮৮০ বছর রেভা. জন চেম্বারলেন পেজ দার্জিলিং থেকে ফেরার পথে কয়েকটি মুন্দার (সম্ভবত-মুণ্ডা) পরিবারের দেখা পান, এরা রেলশ্রমিক হিসেবে রাঁচি থেকে এসে দক্ষিণ দিনাজপুরে অবস্থিত অরণ্যঘেরা কালিকাপুরে বসবাস করত; বোধকরি এরাই অত্র অঞ্চলের প্রথম লুথারেন বিশ্বাসী। J. Gausdal তার Ebeneser Evangelical Lutheran Church পুস্তকে লিখেছেন- (সাঁওতালি থেকে বঙ্গানুবাদ- “সেই সময়ে দিনাজপুর থেকে একজনের একটি চিঠি এসে পৌঁছাল, সেটি ছিল সুলতানাবাদ উদালবাণী গ্রামে জন্মগ্রহণ করা বাজনাথ বেসরা’র কাছ থেকে, তিনি শিবু পাস্টরের কাছে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেছেন এবং চাটাই (দিনাজপুর) নামক এলাকায় কাজে নিয়োজিত। চিঠি পাওয়ার পর উত্তর পাঠানো হলো সঙ্গে সঙ্গে তাকে বেনাগাড়িয়াতে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হলো যেন বিস্তারিতভাবে আলাপ আলোচনা করা যায়। তিনি ১৯০০ খ্রিস্টাব্দের ১৬ জুন পৌঁছালেন। আলোচনান্তে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো যে, চাটাই (দিনাজপুর) এলাকায় একটি সার্ভে করার। যাওয়া-আসার জন্য তিনজনকে বেছে নেওয়া হলো, এরা হলেন- শিবু পাস্টর, রামবুনিয়ার কান্দা ও বেনাগাড়িয়ার কাম্বো মুরমু। বাজনাথের সঙ্গে গমন করার পর সেখানে সত্যিই খ্রিস্টবিশ্বাসীদের খুঁজে পেলেন, যারা ইতিপূর্বেই বাজনাথের পরিচর্যায় প্রস্তুত হয়েছিলেন। ১৯০০ খ্রিস্টাব্দের ২৭ জুন শিবু পাস্টর তিনটি পরিবারের লোকদের বাপ্তিস্ম দিলেন। অতঃপর তারা প্রত্যাবর্তন করলেন। দিনাজপুর শহরে একটি ব্যাপ্টিস্ট মিশনের কাজ বাঙালিদের মধ্যে চলমান রয়েছে, সাহেবরা বুঝেছিলেন হয়তো এই কাজটি চুপিসারেই এগিয়ে যাচ্ছে। ১৯০০ খ্রিস্টাব্দের ২ অক্টোবর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো যে, অত্র এলাকায় সাঁওতালদের মধ্যে যে কাজ হয়েছে, এটিকে বাঙালিদের কাছে হস্তান্তর করা যাবে না, আমরাই যেন সেটিকে চালিয়ে যেতে পারি। অতঃপর চাটাই এলাকার চাঁদা সংগ্রহের কাজ এগিয়ে যেতে থাকলো, কাজের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন পাস্টর শিবু, মুসটন সাহেব সেক্রেটারি এবং মামা সাহেব কোষাধ্যক্ষ। একটি যুবক ছেলে জালপা সরেন যেতে সম্মত হলেন এবং কাজের অগ্রগতি হতে থাকল। ১৯০১ খ্রিস্টাব্দের ২ জুন জালপা সরেনকে পাস্টর অভিষেক দেয়া হয়। এটিই ছিল পাপা সাহেবের শেষ কাজ ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর; পাপা সাহেব এই বছরেই মারা যান। হিলি রেল স্টেশন থেকে বালুরঘাট দিকে চলমান দক্ষিণে নারায়ণপুর গ্রামের এই কাজগুলো সম্পাদিতের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল এবং ঘরবাড়ির কাজও শুরু হয়ে যায়।

অন্যত্রে জানা যায়, লালু সরেন- এর সুযোগ্য পুত্র রেভা. জালপা সরেন বেনাগাড়িয়া নিকটবর্তী বানকিজড় (Bankijor) গ্রামে ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে (ভিন্নমতে ৭৪ খ্রিস্টাব্দে) জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি মালদা, দিনাজপুর এবং রাজশাহী অঞ্চলে সাক্ষ্যবহন করেছেন।

ঊনবিংশ শতাব্দীর সূচনালগ্নে এদেশের সাঁওতালদের মধ্যে প্রচার কাজের পরিচয় পাওয়া যায়। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে ব্যাপ্টিস্ট চার্চের পালক রেভা. জে. এন. দত্ত ২৩ জন সাঁওতালকে বাপ্তিষ্ম দিয়ে নবতর অধ্যায়ের সংযোজন করে। এই অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর মাঝে রেভারেন্ড সামার্স থেকেছেন বহুদিন এবং সাঁওতালি ভাষাও রপ্ত করেছিলেন। তিনি সাঁওতালদের মধ্যে বেশ সাড়া জাগিয়েছিলেন। একই সময়ে অর্থাৎ ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে রেভারেন্ড এলিসন তৎকালীন গাইবান্ধা মহকুমা এলাকার সাঁওতালদের মাঝে প্রচার অব্যাহত রাখেন। ফলস্বরূপ কোটাবাড়ির ৮টি পরিবার খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে; তবে গ্রামবাসীর অসহ্য নির্যাতনে মুখে রসিক মুরমু’র পরিবার ছাড়া সবাই খ্রিস্টধর্ম ত্যাগ করেছিলেন। ব্যাপ্টিস্টমণ্ডলীর পরিচর্যার মধ্যেও দু’একটি লুথারেন পরিবারের খোঁজ মেলে; যেমন- রংপুর থেকে ১০ মাইল দূরবর্তী তাজনগর গ্রামে লুথারেন পরিবার ছিল। রেভারেন্ড এলিসনের নিবিড় পরিচর্যায় ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে লুথারেন পরিবারগুলো ব্যাপ্টিস্টমণ্ডলীতে যোগদান করে। সমসাময়িক সময়ে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে চার্চেস অব গড মিশন বগুড়া অঞ্চলে তাদের প্রচার কাজের গোড়াপত্তন করেন। অল্পকালের মধ্যেই সাঁওতালসহ অন্যান জনগোষ্ঠীর মাঝে সুসমাচার বীজ রোপণ করতে সমর্থ হন। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে প্রথম খঞ্জনপুরের মি. চরণ সরেন ১৭ বছর বয়সে বাপ্তিস্ম নেন। ইতিপূর্বে ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে খঞ্জনপুরের সাঁওতাল পল্লীতে ছেলেমেয়েদের জন্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

প্রটেস্ট্যান্ট কিংবা লুথারেন মণ্ডলীর পাশাপাশি ক্যাথলিক মণ্ডলীও সাঁওতালদের মধ্যে কাজের আগ্রহ লক্ষ্যণীয় ছিল। ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে ফাদার রাক্কা দিনাজপুরে উপজাতি জনগোষ্ঠীর জন্য মিশন স্থাপন করেন। এটি দেখাশোনার জন্য সহকারী ফাদার আর্মানাস্কোকে তিনি দায়িত্ব প্রদান করেন; তিনি জেলার আশপাশের সাঁওতাল গ্রামগুলো সুসমাচার অব্যাহত রাখেন। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে ক্যাথলিক ফ্রান্সিসকান ফাদার কেশব সেনের কাছ থেকে একখণ্ড জমি কেনেন, এটিই হলো আনুষ্ঠানিক ধর্মপ্রদেশের ঊষালগ্ন। খঞ্জনপুরের অদূরে নওগাঁর ধামুরহাট বেগুনবাড়িতে গাব্রিয়েল তপ্ন নামের একজন ক্যাথলিক ১৯০১ খ্রিস্টাবেদ পৌঁছেছিলেন। বছরান্তে অর্থাৎ ১৯০২ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি ২৮ তারিখ ভারতের রাঁচি থেকে আগত ফাদার ফ্রান্সিস রক্কা এদিনে বেগুনবাড়িতে পাঁচজন শিশুকে দীক্ষাস্নান দিয়েছিলেন। ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে বেগুনবাড়ি থেকে রাজশাহীর আন্ধারকোঠা মিশন পর্যন্ত ১৭০ জন বিশ্বাসীকে বাপ্তিষ্ম দিতে সমর্থ হন। রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে ফাদার রাক্কার আনাগোনা ছিল; তার প্রচেষ্টা ও প্রচারে ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে পদ্মার তীরবর্তী আন্ধারকোঠায় কয়েকটি পরিবারকে দীক্ষা দিয়েছিলেন। ১৯০৭ খিস্টাব্দে ধর্মপল্লীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এখান থেকে ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে নওগাঁর নিয়ামতপুর অঞ্চলেও পবিত্র বাইবেলের বাণী প্রচারিত হতে থাকে। ফাদার আনসেলমো কর্তৃক ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে বর্তমান চাঁপাইনবাবগঞ্জের টিকরামপুর গ্রামে ৩০টি পরিবারকে দীক্ষা প্রদান করা হয়। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে খ্রিস্ট বিশ্বাসীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজারেরও বেশি।

রাজশাহী অঞ্চলে ইংলিশ প্রেজবিটারিয়ান মিশন (বর্তমানে চার্চ অফ বাংলাদেশে যুক্ত)-এর মিশনারি রেভারেন্ড হ্যামিল্টন, ডা. ম্যাকডোনাল্ড স্মিথ এবং মিস মিলার ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে উপস্থিত হন। এই ত্রয়ীর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এলাকার সাঁওতাল ও মুসলিমদের মধ্যে সুসমাচার প্রচার কাজ অব্যাহত রাখেন। তাদের প্রচেষ্টা একেবারে ব্যাহত হয়নি, বেশ কয়েকটি পরিবার খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে। ত্রয়ী মিশনারিদের প্রচারিত জায়গাটিকে রাজশাহীর মুণ্ডুমালা অঞ্চলটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বরেন্দ্র অঞ্চলে লুথারেন মণ্ডলী কীভাবে ক্রমবিকাশ হয়েছে, সেটি কুয়াশাচ্ছন্ন। তবে ঘটনার বিবরণ পর্যালোচনা করলে অনুমতি হয় যে, শতাব্দীর সূচনাতেই দু’এক জায়গায় ঐশবাণী পৌঁছেছিল। বর্তমান রাজশাহীর তানোর থানার পিপরা (চরঢ়ৎধ) গ্রামটিকে মনে করা হয় অত্র অঞ্চলের অগ্রগণ্য মণ্ডলী। ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে এখানে পাস্টর সেন্টার হিসেবে মনোনীত করে একটি পাস্টর স্টেশন নির্মাণ করা হয়। (সাঁওতালি থেকে বঙ্গানুবাদ- পিপরা গ্রামটি পশ্চিম বাংলাদেশের চার্চগুলোর মধ্যে তৃতীয়তম চার্চ। সেখানে থাকা পাস্টর সেন্টারটি ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে বাধাইড় গ্রামে স্থানান্তরিত করেন এবং বাধাইড় মিশন নামে নামকরণ করা হয়। বাধাইড় সেন্টারে প্রথম দায়িত্ব পালন করেন ১৯২৪-১৯৩৭ পর্যন্ত রেভারেন্ড চাম্পাই হাঁসদা এবং দ্বিতীয়জন ছিলেন ১৯৩৭-১৯৫৭ পর্যন্ত রেভা. বুধরাই হাঁসদা।)” যেহেতু পাস্টর সেন্টার প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে আমরা বিশ্বাস করি যে, আশপাশ দিয়ে কিংবা নিকট-দূরবর্তীতে খ্রিস্টবিশ্বাসী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বাসবাস করতেন। ধর্মীয় উদ্দীপনা, রীতিনীতি ও দৃশ্যমান স্থাপনা-অবকাঠামো তাদের আরও সক্রিয় ও বিশ্বাসে অটল থাকতে সাহায্য করেছে। তৎকালীন সিনোড রেভা. বুধরাই সরেনের অবসরে লিপিবদ্ধ করে-Pastor Budhrai Hasdak who served as Acting General Superintendent of the East Pakistan Evangelical Lutheran Church since 1961, retired at the end of the year. He has suffered many hardhips, but his trust in the Lord has naver wavered. He has been a faithful worker and a loyal coworker and friend. We are grateful that we have had him as a worker and we shall miss him. May God bless him in his retirement. Abygvb Kwi, প্রথম ও দ্বিতীয় মণ্ডলী রাজাপুর কিংবা কায়েমপুর হতে পারে। অপরদিকে বরেন্দ্র অঞ্চলটি রেভা. জালপা সরেনের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছিল। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণের পূর্বে রাজশাহী, মালদা, দিনাজপুরের সাঁওতাল অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে খ্রিস্টের বাণী প্রচার করেছেন। “It was a Santal, Jalpa Soren, who took up missionary work among the Santals with support from the Indian Home Mission. The work of Soren however not welcomed by the Baptist Missionary Society, which saw these districts as their exclusive missionary domain. In the following years, considerable energy was expended by both missions on this conflict; only in 1921 did BMS “concede” Malda to SMNC. Despite these conflicts, the evangelical work and institution-building efforts led by Soren were successful. Around Naryanpur, west of Hilli in West Dinajpur, an active congregation grew up. The circle had 8 primary schools and 14 teachers. In 1920 the school at Naryanpur was upgraded to a Middle English School. Khorbari, in Malda, became another centre of several congregations. The priest engaged 13 evangelists and 3 female workers, and 4 schools were established. Pipra was a 3rd centre for northern Rajhshai and south eastern Malda. There, I priest and 9 evangelists were engaged. The circle built and ran 5 primary schools. In this first period it was the local Ebenezer Missionary Society which was the main supporter of this new mission field; only in the 1930s did the Mission take over this responsibility”. তার সম্পর্কে আরও পাওয়া যায়, (সাঁওতালি থেকে বঙ্গানুবাদ- রেভারেন্ড বরেশন সাহেব পাস্টর শিবুকে দিনাজপুরে প্রেরণ করেন এবং সেই সুসমাচার প্রচার ও বেশ কতকজনকে দীক্ষা দিয়েছিলেন। দিনাজপুর, মালদা এলাকায় কাজের অগ্রগতির জন্য মিশন প্রতিষ্ঠা করা হয় যা বেনাগাড়িয়াতে ভিত্তিপ্রস্তর ‘এবেনেজার অ্যাসোসিয়েন কর্তৃক প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। পরবর্তীকালে মিশন কাজ রাজশাহী ও বরেন্দ্র অঞ্চলে পাস্টর জালপার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯০০-১৯০১ এর মধ্যে ৮০২ জনকে দীক্ষা ও প্রসার লাভ করে)।