menu

আহমদুল কবির : সাংবাদিকতার আলোকবর্তিকা

সংবাদ :
  • সালাম জুবায়ের
  • ঢাকা , শনিবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৮
image

দৈনিক সংবাদের প্রয়াত প্রধান সম্পাদক আহমদুল কবিরের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার। ২০০৩ সালে এই দিনে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। মৃত্যুদিনে তার প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে আমরা নিজেরাই গৌরবান্বিত হই।

বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতে নানা কারণে প্রয়াত আহমদুল কবিরকে অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করা যায়। সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা অঙ্গনে একাধিক অভিধায় তাকে চিহ্নিত করার প্রচুর উপাদান থাকলেও কিছু বিষয়ে তিনি ছিলেন এদেশে সাংবাদিকতার নতুন ধারা প্রবর্তক। অন্য অর্থে আলোকবর্তিকা। সংবাদপত্রে একাধিক বিষয় ও আঙ্গিক তার হাত ধরেই প্রথম প্রচলন হয়েছিল। পরে অন্য অনেক সাংবাদিক ও সংবাদপত্র সেই বিষয় ও চিন্তাধারাকে আরও ভিন্নভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, কিন্তু সেই প্রসঙ্গে পথিকৃৎ হিসেবে আহমদুল কবিরকে অস্বীকার করেননি তার সময়ে প্রাতঃস্মরণীয়রা।

আহমদুল কবির, আমরা অনেকেই জানি, আবির্ভূত হয়েছিলেন এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে কিন্তু জীবন কাটিয়েছেন একজন সাধারণ মানুষের মতোÑ তার জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য ছিল এটি। তার সময়ে যেমন, তেমনি তার সময়ের অনেক পরও, তার মতো উচ্চমার্গের মানুষও, তাকে, সহজ সরল ও পা-িত্যপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য ভিন্নমাত্রার মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতেন, মূল্যায়ন করতেন, তার জীবদ্দশায় যেমন, তার মৃত্যুর পরও সে মূল্যায়ন করেন। এখানেই আহমদুল কবিরের অপরিমেয় সাধারণ কিন্তু পান্ডিত্যপূর্ণ জীবনযাপনের বড় সার্থকতা। সেই সব ব্যক্তিকে মানুষ মনে রাখে, মনেপ্রাণে শ্রদ্ধা করে, যাদের চিন্তা-চেতনায় থাকে, একদিকে ভিন্নমাত্রায় নিজের জীবনকে বিন্যাস করার সক্ষমতা, অন্যদিকে মেধা, পান্ডিত্য, পরমত সহিষ্ণুতা আর মুক্তবুদ্ধির ধারক-বাহক। এসব গুণের সন্নিবেশ ঘটেছিল আহমদুল কবিরের মন ও মননে। এ কারণেই তিনি ভিন্নমাত্রার মানুষ ছিলেনÑ সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকতায়, দীর্ঘ সময় ধরে। আর তার এসব বিষয়-আশয়, তার কীর্তির জগৎ দৈনিক সংবাদ এবং প্রগতিশীল রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার দীর্ঘ পথপরিক্রমা পর্যালোচনা করলে অনুধাবন করা যায়।

আহমদুল কবিরের জীবন ছিল দীর্ঘ ৮১ বছরের। এর মধ্যে শিক্ষাজীবনের পর তার প্রগতিশীল কর্মকান্ড- সামাজিকতা, সাংবাদিকতা এবং রাজনৈতিক জীবন মিলিয়ে কর্মময় জীবন ছিল প্রায় ৬১ বছর। ১৯৪২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে তিনি সামাজিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৪৫-৪৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) প্রথম সহসভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর তিনি আর থেমে থাকেননি। রাজনৈতিক এবং সাংবাদিকতায় সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। আর এসবের কোন কর্মকান্ডেই তার অসাফল্য বলে কিছু ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবন শুরু করলেও কিছুদিনের মধ্যেই তিনি নিজেকে সাংবাদিকতা এবং রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে ফেলেন। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ায় যোগদান করেন এবং ফরেন এক্সচেঞ্জ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫০ সালে তিনি পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যোগদান এবং ১৯৫৪ সালে তা ছেড়ে দিয়ে তিনি নিজে ব্যবসা শুরু করেন। সে বছরই তিনি দৈনিক সংবাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে তিনি সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০১ সালে প্রধান সম্পাদক হন এবং আমৃত্যু এ দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

সংবাদের দায়িত্ব নিয়ে তিনি যেসব যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা পরবর্তীতে বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগৎকে পথ দেখিয়েছে।

বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতে যে আধুনিক ধারা এখন বহমান তা প্রথম দৈনিক সংবাদের মাধ্যমেই তৈরি হয়েছে বা গড়ে উঠেছে। এবং আহমদুল কবিরই এসব নতুন চিন্তা-চেতনা প্রচলন করেছেন। এটা পরম সত্য যে, আহমদুল কবির এবং সংবাদের দেখানো পথ বেয়েই বাংলাদেশে একদিকে সাংবাদিকতা, অন্যদিকে সংবাদপত্রের নিজস্ব ধারা অর্জন সম্ভব হয়েছে। চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ দশক পর্যন্ত একটা সময় ছিল যখন বাংলাদেশের সংবাদপত্র মানেই ছিল কলকাতার দৈনিক এবং সাপ্তাহিক সংবাদপত্রের সংবাদ পরিবেশন ধারার অনুসরণ। আহমদুল কবির সেই ধারা থেকে বেরিয়ে আসার পথ দেখিয়েছিলেন দৈনিক সংবাদের মাধ্যমে। বাংলাদেশে সাংবাদিকতার প্রথম যুগে দৈনিক সংবাদ আধুনিক সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতাকে পথ দেখিয়েছে। দৈনিক সংবাদের প্রবর্তিত পথে আলোকিত হয়েছে বাংলাদেশের আধুনিক সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকতা। আর সংবাদের সে দীপ্তি যে প্রখরতা এবং দীর্ঘ জীবন লাভ করেছিল তার প্রমাণ এখনকার সংবাদ। সংবাদের অনেক কিছুই আগের মতো নেই। আহমদুল কবির যুগের সঙ্গে, সময়ের নানা ঘটনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বা আধুনিকতাকে ধরে রাখতে দৈনিক সংবাদের অনেক কিছু পরিবর্তন করেছেন। তার হাত ধরে যে নতুন ধারা সংবাদের মাধ্যমে অংকুরিত হয়েছিল তার আলো এখনও ছড়িয়ে আছে বাংলাদেশের সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার ইতিহাসের পাতায় পাতায়।

দৈনিক সংবাদ ছিল আহমদুল কবিরের আলোয় আলোকিত। তার ক্রিয়াশীল নেতৃত্বে এবং পথ নির্দেশনায় দৈনিক সংবাদ সবসময়ই প্রতিভাদীপ্ত মানুষকে সঙ্গে রেখেছে। দৈনিক সংবাদের পেশাগত আলো ছড়ানোর পেছনে মেধাসম্পন্ন মানুষের কর্মকান্ড প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। পরবর্তী যুগে যদিও অন্য অনেক পত্রিকা এবং অনলাইন শুরু হওয়ার পর এ জগতের অনেক কিছুই নতুন ভাব ও অভিধা পেয়েছে কিন্তু আহমদুল কবির এবং সংবাদের সৃজনশীলতার আবেগ ও চেতনা বহমান ছিল প্রায় সবার মধ্যে।

দৈনিক সংবাদের শুরুর দিকে চোখ ফেরালে দেখা যায়, প্রগতিশীল একজন ব্যবসায়ীর হাত ধরে দৈনিক সংবাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল মূলত কলকাতাকেন্দ্রিক সংবাদপত্রের ধারণা বাদ দিয়ে এদেশীয় একটি সংবাদপত্র প্রচলনের প্রত্যাশা নিয়েই। কিন্তু আনুষঙ্গিক নানা কারণে তার পক্ষে সংবাদপত্র চালিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। তখন সংবাদ চলে যায় রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগের হাতে। এরপরই সংবাদের পথ রাজনৈতিক দিকে ঘুরে যায়। তখন পূর্ব পাকিস্তানে ছিল মুসলিম লীগের শাসন। মুসলিম লীগ ছিল মূলত একটি সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল। ১৯৫৪ সালে মুসলিম লীগের সংবাদপত্র চালানোর মতো ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় নির্বাচনে তাদের ভরাডুবির পর। তখন সংবাদপত্র নিয়ে তাদের আর কিছু করার মতো অবস্থাও ছিল না। সেই সময়ে আহমদুল কবির অত্যন্ত শিক্ষিত এবং রাজনৈতিকভাবে মেধাবী এবং আদর্শবাদী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রগতিশীল রাজনৈতিক ধারায় তিনি দীক্ষিত। তিনি সংবাদের দায়িত্ব নেন। সংবাদ জন্ম নেয়ার সময় এর সম্পাদক হিসেবে ছিলেন তখনকার সময়ের নানাভাবে উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব খায়রুল কবির। তিনি ছিলেন আহমদুল কবিরের বড় ভাই। খায়রুল কবির পরবর্তীতে বাংলাদেশের ব্যাংকিং জগতের অন্যতম দিকপাল হয়ে উঠেছিলেন।

আহমদুল কবির সংবাদ নিয়ে নেয়ার পর এর আদর্শ ও চেতানাগত ব্যাপক পরিবর্তন আনেন। এই পরিবর্তনের পেছনে তার রাজনৈতিক আদর্শ ও দর্শন কাজ করেছে। আগেই বলেছি আহমদুল কবির মূলত ছিলেন প্রগতিশীল রাজনৈতিক আদর্শে দীক্ষিত এবং একজন আধুনিক মানুষ। এই অর্জন তার ছিল উচ্চমার্গের পড়াশোনা এবং সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা উন্নয়নের মানসিকতা থেকে উদ্ভূত। তিনি যে কতটা মেধাবী ও আধুনিক মানসিকতাসম্পন্ন ছিলেন তা অনুধাবন করা যায় সেই সময়ে তার রাজনৈতিক অর্জন বিশ্লেষণ করলে। আহমদুল কবির একটি জমিদার পরিবারের সন্তান হয়েও তার মধ্যে বাম প্রগতিশীল এবং সমাজের অবহেলিত মেহনতি মানুষের ভালো জীবনযাপন প্রাপ্তির চিন্তা স্থান করে নিয়েছিল। তার এই আদর্শ দেশের নানা উত্থান-পতনের পরও অব্যাহত ছিল মৃত্যু পর্যন্ত। বিলাসী জীবন ত্যাগ করে তিনি সাধারণ জীবনযাপন করে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি অসাধারণ উদাহরণ সৃষ্টি করে গেছেন। এটা যেমন তার জীবনযাপন বিশ্লেষণ করে বলা যায়, তেমনি দৈনিক সংবাদ পরিচালনার ক্ষেত্রে বলা যায়। সবখানেই ছিল তার ভিন্নধর্মী আদর্শবাদিতা। আর এভাবে নির্লোভ ও আদর্শবাদী জীবনের দিকে নিজেকে ধাবিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন বলেই তিনি বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতের দিকপাল হয়ে উঠতে পেরেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের সংবাদপত্রকে একটি নতুন রূপ দিতে পেরেছিলেন, যে ধারা এখনও অব্যাহত আছে তার উত্তর প্রজন্মের হাত ধরে।

আহমদুল কবির তার রাজনৈতিক আদর্শের কারণেই সংবাদপত্রকে নিয়ে যান সাধারণ মানুষের কাছে। শিক্ষিত জনগোষ্ঠী বিশেষ করে, শিক্ষক, প্রকৌশলী, রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক থেকে শুরু করে উচ্চমার্গে পেশাজীবীদের পাশাপাশি একজন সাধারণ শ্রমিকেও তিনি সংবাদপত্র পাঠের গন্ডীতে নিয়ে আসেন। এই আনাটা ছিল সংবাদপত্রকে সব শ্রেণী-পেশার মানুষের পাঠযোগ্য করার মধ্যদিয়ে। একজন রাজনৈতিক কর্মী, একজন উচ্চশিক্ষিত শিক্ষাবিদ যেমন তার পাঠযোগ্য বিষয় পাচ্ছে সংবাদপত্রে তেমনি পাটকল, সুতাকলের একজন সাধারণ শ্রমিকও তার পাঠযোগ্য বিষয় পাচ্ছেন দৈনিক সংবাদে। সাধারণ মানুষ তার রাজনৈতিক অধিকারের জন্য আন্দোলন সংগ্রামের খবর পাচ্ছিলেন সংবাদ পড়ে। একজন প্রান্তিক কৃষক, চাষিও দৈনিক সংবাদকে তার পাশে পাচ্ছিলেন। কোন মাসে কোন ধান রোপণ করতে হবে সে খবরটিও সংবাদ খুব যতেœর সঙ্গে বিভিন্ন পাতায় তুলে ধরেছে। যেমন তুলে ধরেছে শিশুদের কথা, নারীদের কথা, ব্যবসায়ীদের কথাও। সেই সময় শিশুদের জন্য আলাদা পাতা, নারীদের জন্য, ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য, কৃষকদের জন্যÑ সবার, সব পেশার মানুষের কথা বলার জন্য, সুখ-দুঃখ প্রকাশের জন্য সংবাদ পৃথক পৃথক বিভাগ শুরু করেছিল। এটা একটি অসাধারণ ঘটনা, বিশেষ করে, সংবাদপত্রের সেই প্রাথমিক যুগে। এখন এই সময়ে বসে এখনকার প্রজন্মের পক্ষে ৫০/৬০ বছর আগের সংবাদপত্রের রূপ অনুধাবন করা সম্ভব নয়।

দৈনিক সংবাদের পাতায় কৃষক ও গ্রাম জনপদের কথা তুলে ধরে সংবাদের রিপোর্টার মোনাজাত উদ্দিন বাংলাদেশের সংবাদ জগতে একটি ভিন্ন ধারাই সংযোজন করে ফেললেন। তা হলো ‘গ্রামী সাংবাদিকতা’ এবং ‘চারণ সাংবাদিকতা’। এই অসাধারণ কাজ হয়েছে দৈনিক সংবাদের মাধ্যমেই। আর এসবই ছিল সংবাদপত্র শিল্পে যেমন তেমনি সাংবাদিকতায়ও মাইলফলক। অন্য অর্থে সংবাদের আলোয় আলোকিত হওয়া। সংবাদপত্রের যা কিছু অভিনব, নতুন এবং আধুনিক সংযোগ তার সব না হলেও সিংহভাগই হয়েছে দৈনিক সংবাদের হাত ধরে। আধুনিক শিক্ষার আলোয় আলোকিত বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ সংবাদকে নিজেদের পত্রিকা বলে মনে করতে পেরেছিল।

দৈনিক সংবাদ এই যে নানাভাবে নানা সময়ে সংবাদপত্র শিল্পকে সংগঠিত, সমৃদ্ধ, সংযোজিত এবং সুশোভিত করেছে তার পেছনে কাজ করেছে আহমদুল কবিরের সৃজনশীলতা এবং প্রগতিশীল আদর্শ। এ আদর্শের আলোয় আলোকিত ছিলেন বলেই তিনি দৈনিক সংবাদে সেই সময়ে দেশের সবচাইতে দক্ষ, মেধাবী, অভিজ্ঞ এবং সৃজনশীল একদল মানুষকে সম্পৃক্ত করেছিলেন। সেই সময়ে সংবাদ থেকে তৈরি হওয়া পেশাদারি মেধাবী সাংবাদিকরা, পরবর্তী প্রজন্মের অনেক সাংবাদিক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আহমদুল কবিরের প্রগতিশীল এবং আপসহীন আদর্শ, বস্তুনিষ্ঠতার কারণে সংবাদপত্র জগতে দৈনিক সংবাদের অবদান ছিল প্রায় কিংবদন্তির মতো।