menu

মুজিব শতবর্ষ

মুজিব শাসন আমল : ১৯৭২

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২০
image

২২ মার্চ

আনরডের সঙ্গে চুক্তি

জাতিসংঘের সাহায্য সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে আজ বুধবার একটা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ চুক্তি জাতিসংঘের দান হিসেবে প্রদত্ত খাদ্যসামগ্রীর হতে ২২ কোটি টাকার মতো বিক্রি করার অধিকার বাংলাদেশের সরকারের দেয়া হয়েছে। বিক্রয়লব্ধ এই অর্থ ওয়ার্কাস পোগ্রাম ও শ্রম সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোতে ব্যয় করতে হবে। বাসস আজ এ খবর পরিবেশন করেছেন।

অনরড মিশনের প্রধান টনি হ্যাজেন ও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ হতে খাদ্য ও বেসামরিক সরাহ দফতরের সেক্রেটারি জনাব এ এম খান এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। মি. টনি হ্যাজেন বলেন, আগামী ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে যে সাত লাখ টন খাদ্যশস্য পাঠানো হবে এ চালানটি তারও একটি অংশ। এ ব্যাপারে প্রকাশিত এক হ্যান্ড আউটে বলা হয়েছে যে, তহবিল গঠন সাপেক্ষে সরকার অবিলম্বে পল্লীপূর্ত কর্মসূচি কার্যকরী করণে পাঁচ কোটি টাকা দিতে সম্মত হয়েছে।

দোকান কর্মচারীদের সভায় তোফায়েল

সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব। গণপরিষদ সদস্য জনাব তোফায়েল আহমেদ বুধবার এ তথ্য প্রকাশ করে।

দলীয় দুষ্কর্মীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত : দুর্নীতির অভিযোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দলের কিছু সংখ্যক অবাঞ্ছিত কর্মচারীকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জনাব তোফায়েল আহমেদ জানান। তিনি জানান যে, বঙ্গবন্ধু শীঘ্রই অনুরূপ ব্যক্তিদের একটি তালিকা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গণপরিষদের সদস্য যদি দোষী সাব্যস্ত হন তাকেও রেহাই দেয়া হবে না। বাংলাদেশ দোকান কর্মচারীর ফেডারেশনের ডাকে ধর্মঘট দোকান কর্মচারীদের এক সভায় বায়তুল মোকাররম প্রাঙ্গণে জনাব তোফায়েল বক্তৃতা প্রসঙ্গে আরও বলেন যে, সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য বঙ্গবন্ধুর হৃদয় ব্যাকুল হয়ে আছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের শ্রমিক কৃষকের রাজ কায়েম করবেন। দোকান কর্মচারীদের সমস্যা সম্পর্কে জনাব তোফায়েল আহমেদ বলেন, শোষণের অবসান কল্পে যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে তার পথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি প্রয়াস লক্ষ্য করে বঙ্গবন্ধু বিস্মিত হয়েছে। তিনি জানান, শ্রমিকদের দাবি দাওয়া যথাসার্থক পূরণের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু চান- ২৫ মার্চের আগে যে যেখানে নিযুক্ত ছিলেন তাকে যেন সেখানে পুনর্বহাল করা হয়।

জাতীয় বোর্ড : গণপরিষদ সদস্য গাজী গোলাম মোস্তফা সভায় প্রকাশ করেন যে, পরিত্যক্ত দোকান, পেট্রোল পাম্প প্রভৃতি পরিচালনার জন্য বঙ্গবন্ধু অবিলম্বে একটি জাতীয় বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। বোর্ডের পাঁচজন সদস্য থাকবেন তার মধ্যে দোকান কর্মচারীদের দুজন, স্থানীয় একজন, জেলা প্রশাসনের একজন ও ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি থাকবে। কর্মচারী নিজেরাই দোকান চালাবেন এবং তাদের মধ্যে থেকে একজন ম্যানেজার নিযুক্ত হবেন। জাতীয় বোর্ড সমগ্র দেশে পরিত্যক্ত দোকানপাটের সামগ্রিক বিষয় তদারক করবে।

দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড গঠন করা উচিত

দেশ আজ বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত। এগুলোর মধ্যে খাদ্য সমস্যা প্রধান এবং জরুরি। বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়া সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আলতাফ হোসেন বুধবার দলীয় কার্যালয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন। ন্যাপ সম্পাদক বলেন খাদ্য শস্যের অগ্নি মূল্য ছাড়াও কেরোসিন, সরিষার তেল, সাবান, ডাল, জ্বালানি এবং কাপড় চোপড়ের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এ প্রসঙ্গে জনৈক সাংবাদিকের একটি প্রশ্নের জবাব দানকালে ন্যাপ সম্পাদক বলেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন অবিলম্বে দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড গঠন করা উচিত। এ বোর্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা হবে। অপর একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যে, প্রস্তাবিত দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ডে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিনিধি এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠন করতে হবে। ন্যাপ নেতা বলেন যে, অবিলম্বে শহর ও পল্লী এলাকায় ন্যায্য মূল্যের দোকান খোলা উচিত। যার ফলে সাধারণ মানুষ ন্যায্য মূল্য নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় করতে পারেন। সৈয়দ আলতাফ হোসেন বলেন যে, খাদ্যভাব এবং খাদ্য শস্যের অগ্নিমূল্যে জন-জীবন চরম দুর্দশায় নেমে এসেছে। তিনি বলেন যে, কয়েকটি জেলা বিশেষ করে কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর, বরিশাল, রাজশাহী, দিনাজপুর এবং খুলনা জেলায় ৭০৮০ টাকান মণ দরে চাল বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, অনাহারে দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু মানুষ মারা যাচ্ছে বলে সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি ফরিদপুর জেলার রাজবাড়ি মহকুমার এবং বরিশালের গলাচিপার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন যে, খাদ্য অভাবে মানুষ কচু ঘেচু খাচ্ছে। অনেক জায়গায় তাও পাওয়া যাচ্ছে না। ন্যাপ সম্পাদক বলেন যে, অসৎ ও দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী এর মজুতদাররা বর্তমান অবস্থার সুযোগ নিয়ে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি করে মোটা অর্থ উপার্জন করছে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন যে, সরকারি প্রশাসন যন্ত্র এখন পর্যন্ত জনগণ এবং দেশের শত্রুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দান করেননি। তিনি অবিলম্বে মুনাফাখোর, কালোবাজারী এবং মুনাফাখোরদের কঠোর হস্তে দমনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সূত্র : দিনলিপি, বঙ্গবন্ধুর শাসন সময়, ১৯৭২