menu

প্রসঙ্গ পিয়াজ : কৃষকের দেশে কৃষিপণ্য কেন আমদানি করতে হবে?

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯

অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোসহ অতি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে প্রতিবেশী দেশ ভারত পিয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আটঘাট বেঁধে একেবারে মাঠে নেমে পড়েছেন পিয়াজের দেশীয় আড়তদার, আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। একে রীতিমতো ব্ল্যাকমেল তথা জনসাধারণকে প্রায় জিম্মি করে ব্যবসা করা ছাড়া আর কি বলা যায়? অথচ প্রায় প্রতিদিনই দেশে ভারত ও মায়ানমারের সীমান্ত দিয়ে স্থল ও নৌপথে দেশে ঢুকছে শত শত টন পিয়াজ। এমনকি মিসর থেকেও পিয়াজ আসার খবর আছে। পিয়াজের অভ্যন্তরীণ মজুদও সন্তোষজনক।

সরকার বলেছে, দেশে প্রায় তিন লাখ টন পিয়াজ মজুদ আছে, যা দিয়ে আগামী ৫০-৫৫ দিন চলার কথা। অথচ পিয়াজের দাম একলাফে বেড়ে ৮০ থেকে রাতারাতি হয়েছে ১৩০ টাকা প্রতি কেজি। এমতাবস্থায় অভ্যন্তরীণ চাহিদা নিরূপণসহ বাজার নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি দেশেই বাড়াতে হবে আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থাসহ পিয়াজের চাষাবাদ। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এক্ষেত্রে গবেষণা কার্যক্রমসহ এগিয়ে আসতে পারে।

দেশে প্রতি মাসে পিয়াজের গড় চাহিদা এক লাখ ২০ হাজার টন। শীত মৌসুমে চাহিদা কিছু বেশি থাকে। রমজান ও কোরবানিতে পিয়াজের চাহিদা সর্বোচ্চ বেড়ে দাঁড়ায় আরও দেড়-দুই লাখ টন। এর ৬০ শতাংশ মেটানো যায় স্থানীয় উৎপাদন থেকে। বাকি ৪০ শতাংশ পিয়াজের চাহিদা মেটানো হয় প্রধানত ভারত থেকে আমদানি করে। দেশে প্রতিবছর পিয়াজের চাহিদা কম-বেশি ২৪ লাখ টন। উৎপন্ন হয় ১৮ লাখ টন। অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে হয় প্রধানত ভারত এবং আংশিক মিয়ানমার থেকে আমদানি করে। তবে বাস্তবতা হলো, ব্যবসায়ী মহল যদি আন্তরিক হন এবং সদিচ্ছা পোষণ করেন, তাহলে আপাতত অভ্যন্তরীণ মজুদ থেকে পিয়াজ ছেড়ে দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন। কেননা, এই পিয়াজ তারা আমদানি করেছেন আগের দামে। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সেই সততা ও নীতি-নৈতিকতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে।

এদেশের ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষিজীবী। কৃষকের দেশে কৃষিপণ্য কেন আমদানি করতে হবে সেই ভাবনা আগে ভাবা উচিত। কিন্তু আমরা তা না ভেবে সঙ্কট মুহূর্তে পরিস্থিতি সামাল দিতে বড় বড় বুলি আওড়াই। কিন্তু আসল কাজ কিছুই হয় না। আগামী দিনের প্রস্তুতি হিসেবে ভাবতে হবে দেশেই বর্ধিত উৎপাদনের কথা। তাহলেই আসতে পারে পিয়াজ সংকটের স্থায়ী সমাধান।

আর কে চৌধুরী

  • সফল হোক মা ইলিশ রক্ষার অভিযান

    অক্টোবরের ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ এবং ডিমওয়লা ইলিশ ধরা যাবে না। বিগত বছরগুলোতে দেখেছি মা ইলিশ রক্ষার অভিযান চলাকালীন সময়েও