menu

চিঠিপত্র

  • ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০১৯

ছাত্রজীবনের হতাশা

হতাশা একধরনের মানসিক ব্যাধি। এর প্রভাবে মানুষের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক ক্রিয়া ব্যাহত হয়। ছাত্রজীবনে হতাশা মারাত্মক ভয়ংকর। কেউ ফলাফল নিয়ে হতাশ, কেউ শিক্ষার মান নিয়ে হতাশ, কেউ আর্থিক সমস্যার জন্য হতাশ, কেউ বন্ধু নিয়ে হতাশ। এসব হতাশা মানুষকে একা থাকতে প্রভাবিত করে। স্বাভাবিক জীবনযাপনে বাধা সৃষ্টি করে। একজন মানুষের ব্রেইন সবচেয়ে বেশি সচল থাকে সে যখন পড়াশোনা করে, গবেষণা করে। অলস ব্রেইনে হতাশার প্রভাব বেশি।

হতাশা আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আত্মহত্যার পরিমাণ দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। হতাশ হয়ে যাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে আমরা কখনও ব্যর্থদের গল্প শুনি না। সফলদের বক্তব্য শুনে হাজারো স্বপ্ন দেখি। কিন্তু যে ব্যর্থ সে কখনও আমাদের গল্পের নায়ক হয় না। সেজন্য যারা একবার ব্যর্থ হয়, তাদের হতাশা চরমভাবে আঁকড়ে ধরে। কিন্তু যে ব্যর্থ, সে জানে ঠিক কোন জায়গাটাতে কোন কারণে ব্যর্থ। তার থেকেও আমরা শিক্ষা নিতে পারি। হতাশা এবং কর্ম-ব্যর্থতা ছাত্রসমাজকে ধ্বংস করে দিতে পারে। অনেকেই ব্যর্থ হয়ে বিপথগামী হয়, নেশাগ্রস্ত হয়। হতাশার মরণ-কামড় বিষিয়ে তুলে জীবনকে। ছাত্রাবস্থায় কেউ বিপথগামী হলে তার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা অসম্ভব প্রায়। কারণ বাস্তবজীবনে বাড়ন্ত বয়সে যে যেটায় অভ্যস্ত হয়, পরবর্তী জীবন সেভাবেই গড়ে ওঠে।

সুস্থ, সুন্দর চিন্তা-ভাবনা ও মননশীল সমাজ ও দেশ গঠন করতে হলে ছাত্রসমাজকে হতাশামুক্ত করতে হবে। আর এই কাজটি করার জন্য প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থীদের জন্য সাইকোলজিক্যাল ল্যাব থাকা প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের মানসিক পরিচর্যা করার মাধ্যমেই হতাশা দূর করে শিক্ষার্থী আত্মহত্যার হার শূন্যের কোটায় আনা সম্ভব। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের সাইকোলজিক্যাল সাপোর্ট দেয়ার জন্য শিক্ষকদের আলাদা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পরিবারের পর একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষকদের সাথেই শিক্ষার্থীদের সময় কাটে। তাই ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কগুলোও সেভাবে গড়ে তোলা উচিত।

আনারুল ইসলাম

৪র্থ বর্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়