menu

সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করুন

  • ঢাকা , শুক্রবার, ১৫ মার্চ ২০১৯

দেশে সড়ক দুর্ঘটনা মহামারি আকার ধারণ করেছে। পত্রিকার পাতা খুললেই কিংবা টিভি চ্যানেলের সংবাদের দিকে চোখ রাখলেই প্রতিদিনই চোখে পড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহত হওয়ার খবর। দুর্ঘটনায় নিহতের স্বজনদের কান্না এখন যেন প্রতিদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে। ইরাক কিংবা আফগানিস্তানের ভয়াবহ যুদ্ধে যে প্রাণহানি হয়েছে, বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনা পরিস্থিতি তার চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়।

মৃত্যু মানুষের অলঙ্ঘনীয় নিয়তি; কিন্তু তাই বলে যদি প্রতিনিয়ত তরতাজা হাজারও প্রাণ দুর্ঘটনায় অকালে ঝরে যায়, তবে তা বেদনাদায়ক এবং একই সঙ্গে উদ্বেগের। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য সার্বিকভাবে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, নিয়ম ভঙ্গ করে ওভারলোডিং ও ওভারটেকিং করার প্রবণতা, চালকদের দীর্ঘক্ষণ বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, আনফিট গাড়ি চলাচল, ফুটপাথ দখল, হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো, রাস্তাঘাটের নির্মাণ ত্রুটি, যাত্রীদের অসতর্কতা, ট্রাফিক আইন না মানা, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জেব্রা ক্রসিং না থাকা এবং জেব্রা ক্রসিং গাড়িচালক কর্তৃক না মানা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার করা, মহাসড়কে স্বল্পগতি ও দ্রুতগতির যান একই সঙ্গে চলাচল, মাদক সেবন করে যানবাহন চালানো এবং মহাসড়ক ক্রসিংয়ে ফিডার রোডের যানবাহন উঠে যাওয়াই দায়ী।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দেশে আইন আছে কিন্তু আইনের প্রয়োগ সন্তোষজনক নয়। সড়ক দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত চালকদের সাজা ভোগের নজিরও দেখা যায় না। আইনের নানা ফাঁকফোকর আর পুলিশের মামলা জটিলতায় দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকদের তেমন কিছুই হয় না। অর্থাৎ এটা স্পষ্ট যে, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যতটুকু অগ্রসর হওয়া বা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া দরকার, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ তা করছে না।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সবার আগে প্রয়োজন আইনের কঠোর প্রয়োগ। এজন্য ট্রাফিক আইন আরও কঠোর করা যেতে পারে। বিশেষ করে রাস্তায় ফিটনেসবিহীন যানবাহন রোধে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। গাড়িচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে সর্বোচ্চ কঠোরতা অবলম্বন অত্যাবশ্যক। পাশাপাশি সড়ক সংস্কার, নতুন সড়ক নির্মাণ ও চালকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। দুর্ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এছাড়া আরও যেসব কাজ জরুরিভিত্তিতে করা দরকার তা হলোÑ ট্রাফিক আইন ও মোটরযান আইন সম্পর্কে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের, মসজিদ, মন্দির, গির্জায় জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করা, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ থেকে হাটবাজার অপসারণ করা, ফুটপাথ দখলমুক্ত করা, রোড সাইন (ট্রাফিক চিহ্ন) স্থাপন করা, জেব্রা ক্রসিং অঙ্কন করা। সর্বোপরি সড়ক দুর্ঘটনাকে একটি জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপকভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করলে দুর্ঘটনার পরিমাণ কাক্সিক্ষত হারে কমতে পারে।