menu

শিশু ধর্ষণে পরিচিতরাই জড়িত বেশি শিশুকে সচেতন করুন নিজে সতর্ক থাকুন

  • ঢাকা , বুধবার, ০৯ অক্টোবর ২০১৯

পরিচিতদের দ্বারাই মূলত শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে তুলনামূলক কমবয়সী শিশুরা প্রতিবেশীর হাতে ধর্ষণের শিকার হয় বেশি। আর কিশোরীরা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়।

দেশের সরকারি ১১টি ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) সেবা নেয়া ধর্ষণের শিকার শিশুদের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ওসিসিতে ৯৬৯ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে সেবা নিয়েছে। এর মধ্যে প্রতিবেশীদের হাতে ও প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে ৬২ শতাংশ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব শিশুদের সুরক্ষা দেয়া, কিন্তু রাষ্ট্র যদি তাতে ব্যর্থ হয়, যদি গুটিকয়েক দুর্বৃত্তের ভয়ে কোমলমতি শিশুদের ঘরের চার দেয়ালে আবদ্ধ থাকতে হয়, তবে এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কী হতে পারে! এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ধর্ষকদের বিচার না হওয়ায় অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। শিশুরা তুলনামূলক দুর্বল এবং প্রতিবেশী-পরিচিতজনের হাতের নাগালে থাকে। তাই তারাই হয় সহজ শিকার। আর কিশোরীরা কাছের গণ্ডি ভেঙে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে গেলে আবেগের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রের উচিত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশু ধর্ষণ প্রতিরোধে সহযোগী হওয়া।

সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে শিশু ধর্ষণ নিয়ে নানা ধরনের কাজ চললেও প্রতিরোধের বিষয়ে নজর কম। অবশ্য কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সীমিতভাবে এ বিষয়ে ধারণা দেয়া শুরু করেছে। তবে অভিভাবকরা এ বিষয়ে তেমন সচেতন নয়। এমনকি প্রতিদিন শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও নিজের সন্তানের সঙ্গে এমনটা হবে না বলে মনে করেন কোন কোন অভিভাবক।

যেহেতু পরিচিতজনদের কাছেই বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, সেহেতু এক্ষেত্রে সচেতনতার একটি বড় ভূমিকা আছে। অভিভাবকদের সচেতন হয়ে সন্তানকে ভালো স্পর্শ ও খারাপ স্পর্শের পার্থক্য বোঝাতে হবে। আত্মীয় বা পরিচিতজনের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এ রকম পরিস্থিতিতে কী করণীয়, সে সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে। শিশুদের কথা শুনতে হবে। প্রতিরোধের পাশাপাশি ধর্ষকের নৈতিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনেও কাজ করতে হবে।