menu

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স কার্যকর করুন আইনি প্রক্রিয়ায়

  • ঢাকা , শুক্রবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৯

চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় ইমরান হোসেন নামের এক মাদরাসার শিক্ষককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। গত সোমবার রাত ১২টার দিকে বাড়বকুন্ডু রেলওয়ে কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে। ইমরান সীতাকুন্ডু কামিল মাদরাসার ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক ছিলেন। মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন বলেই তিনি খুন হয়েছেন বলে পুলিশ-এলাকাবাসীর ধারণা।

পুলিশ জানিয়েছে, ইমরান রেলস্টেশন এলাকায় মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিভিন্ন সময়ে বাধা দিতেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মাদক কারবারিরা তাকে খুন করতে পারে।

সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত অভিযানে বিভিন্ন সময় বন্ধুকযুদ্ধে অনেক মাদক কারবারি ও ব্যবসায়ী আহত-নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। অথচ এখনও সীমান্ত দিয়ে মাদক আসছে এবং মাদকের মূলহোতারা অধরাই রয়ে গেছে। মূলহোতাদের না ধরে পুলিশ চুনোপুঁটিদের ধরছে, কাউকে কাউকে বন্ধুকযুদ্ধের নামে হত্যা করছে। এদের কেউ কেউ আবার ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। এবং পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। বলা যায় মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। শিক্ষক ইমরানকে প্রাণ দিতে হতো না।

ইমরান একজন সচেতন নাগরিক এবং শিক্ষক হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিন্তু মাদক ব্যবসায়ীরা তাকে বাঁচতে দিল না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদকের বিরুদ্ধে বর্তমানে যে অভিযান চালাচ্ছে, সেটা কার্যকর হচ্ছে- সেটা বলা যাবে না। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারা দেশে বর্তমানে মাদকসেবীর সংখ্যা কমবেশি ৭০ লাখ। এদের অধিকাংশই ইয়াবায় আসক্ত। এই মাদকসেবীরা আমাদের পরিবার ও সমাজে নানা অস্থিরতা ও অশান্তি তৈরি করছে।

ইমরান হত্যা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারকে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। যে অভিযান চলছে তাতে কোন ফল পাওয়া যাবে না। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করতে হলে মাদক ব্যবসার মূলহোতাদের ধরে আইনি প্রক্রিয়ায় এদের বিচার করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে এদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি বড় ধরনের পারিবারিক ও সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন। প্রয়োজন পাড়ায় ও মহল্লায় মাদক প্রতিরোধে কমিটি গঠন করা।