menu

মাদক প্রতিরোধে সত্যিকারের সদিচ্ছা চাই

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

ঢাকঢোল পিটিয়ে সাঁড়াশি অভিযান আর কথিত বন্দুকযুদ্ধের পর অনেকে ধরে নিয়েছিল, দেশে মাদক পাচার ও কেনাবেচা কমে যাবে। কিন্তু ফলাফল উল্টো। অভিযান শুরুর এক বছরের মাথায় এসে দেখা যাচ্ছে, মাদকের আমদানি ও কেনাবেচা কমেনি, বরং বেড়ে গেছে।

মাদকের ভয়াবহতা রোধে গত বছরের ৪ মে থেকে দেশব্যাপী অভিযানের ঘোষণা দেয়া হয়। তবে অভিযান শুরু হয় ১৫ মে থেকে। এ অভিযানে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ৩৫৮ জন মাদক ব্যবসায়ী। তাদের মধ্যে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ১০৬ এবং বিজিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ১২ জন নিহত হন। বাকি ৭১ মাদক ব্যবসায়ী নিজেদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দাবি করেছে।

মানুষ মেরে মাদক প্রতিরোধ করা যাবে না। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে মাদকদ্রব্যের প্রাপ্তি সহজলভ্য যাতে না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। যে কোন মূল্যে ঠেকাতে হবে মাদকের অনুপ্রবেশ। দরকার উৎস ধ্বংস করা। ইয়াবা আসে মায়ানমার থেকে। সরকারের উচিত মায়ানমারকে এ বিষয়ে চাপ দেয়া।

দেশেও যাতে মাদকদ্রব্য উৎপাদন হতে না পারে সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ নিতে হবে। সীমান্তের কোন পথ দিয়ে মাদক ঢুকছে, কোথায় কীভাবে যাচ্ছে, কারা পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে- সব তথ্যই থাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর হাতে। তারপরও বাহিনীগুলো মাদকদ্রব্য পাচার ও বিস্তার রোধে কেন কার্যকর ভূমিকা নিতে পারছে না সেটা আমরা জানতে চাই।

দুঃখজনক হলো, মাঝে-মধ্যে ছোটখাটো মাদক কারবারি ও মাদকের চালান ধরা পড়লেও তাদের মূল কুশীলবরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না, নাকি কোন ব্যবস্থা নেয়ার ইচ্ছা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসায় সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা জানার পরও ক্ষমতাসীন দল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ন্যূনতম কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। মাদক ব্যবসার গডফাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সরকার দেশ থেকে মাদক নির্মূল বা প্রতিরোধ করবে কিভাবে সেটা একটা বড় প্রশ্ন। ইতিপূর্বে দেশের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের যে তালিকা করা হয়েছিল তাতে প্রথম নামটি ছিল টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির। কিন্তু তালিকায় নাম আসা পর্যন্তই, এসব রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। বরং ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে তার স্ত্রীকে মনোনয়ন দিয়ে এমপি বানিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

সরকার যদি সত্যিকার অর্থেই মাদক প্রতিরোধ করতে চায় তাহলে দলমত নির্বিশেষ সব গডফাদারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। আইনি ফাঁক গলে তারা যেন বেরিয়ে যেতে না পারে সেটা নিশ্চিত করা জরুরি। মাদক ব্যবসায় জড়িত বা মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষক কেউ ক্ষমতাসীন দলের নেতা হলে তাকে বা তাদেরও কোন ছাড় দেয়া চলবে না। শুধু মাদক ব্যবসায়ী বা তাদের পৃষ্ঠপোষকদের তালিকা করাই যথেষ্ট নয়। জরুরি হচ্ছে, তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়া।