menu

মজুরি কাঠামোর অসঙ্গতিগুলো দূর করুন

  • ঢাকা , শুক্রবার, ১১ জানুয়ারী ২০১৯

মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের চলমান অসন্তোষ থামছে না। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকায় অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ছে। গত মঙ্গলবার সাভারে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে সুমন মিয়া নামে একজন শ্রমিক নিহত হন। সমস্যা সমাধানে মালিক-শ্রমিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় কমিটি হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে কমিটি হওয়ার পরও গত বুধবার সকালেই সাভারের গেন্ডা, উড়াইল ও হেমায়েতপুর এবং ঢাকার মিরপুরে শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বের হয়ে এসে বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যাতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষ দুর্ভোগের শিকার হয়েছে।

এটা স্পষ্ট যে, শ্রমিকের মজুরি নিয়ে পুরনো পথে হেঁটেছেন পোশাকশিল্পের মালিকেরা। তারা বাড়িভাড়া, যাতায়াত, খাদ্য ও চিকিৎসা ভাতা বাড়িয়ে দিলেও মূল মজুরি বা বেসিক বাড়াতে কৃপণতা করেছেন। গত পাঁচ বছরে শ্রমিকের মূল মজুরি ৫ শতাংশে হারে বৃদ্ধির বিষয়টিও আমলে নেয়া হয়নি। ফলে নতুন শ্রমিকের মোট মজুরি বা সর্বনিম্ন গ্রেডে ২ হাজার ৭০০ টাকা বৃদ্ধি পেলেও দক্ষ বা পুরনোদের তার অর্ধেকও বাড়েনি। মজুরি কাঠামোর এই কৌশলের জন্যই বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন শ্রমিকেরা। তবে পোশাকশিল্পের মালিকেরা ঠিকই সরকারের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করে নিয়েছেন। গত সপ্তাহে পোশাক রফতানিতে উৎসে কর দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত অর্থবছর উৎসে কর ছিল দশমিক ৭০ শতাংশ। মজুরি বৃদ্ধির অজুহাতে উৎসে কর তিন ভাগের এক ভাগে নামিয়ে এনেছে মালিকপক্ষ।

গতবারের মজুরি কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে মূল মজুরি বেড়েছে। বিষয়টি নিম্নতম মজুরি বোর্ডে দর-কষাকষির সময় একেবারেই অনুপস্থিত রাখা হয়। ফলে ওপরের গ্রেডের মজুরি তেমন বাড়েনি। আবার ওপরের ও নিচের গ্রেডের মজুরি পার্থক্য আগের চেয়ে কমে গেছে। এখন সহজ সমাধান হচ্ছে, গত পাঁচ বছরে শ্রমিকদের মূল মজুরি যেটুকু বেড়েছে, তা নতুন কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করে মজুরি দেয়া। মালিকদের যে ছাড় সরকার দিচ্ছে, তা জনগণের ভাগ থেকেই দিচ্ছে। আমরা মনে করি, এর ছিটেফোঁটা দিয়ে লাখো শ্রমিকের এবং তাদের সন্তানদের কল্যাণ সম্ভব। মজুরি বাড়লে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার তত্ত্ব স্বীকার করেও বলা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে দর-কষাকষির ব্যর্থতার দায়ভার কেন শ্রমিক একাই বইবেন? তাও আবার সেই শ্রমিক, যার পুষ্টি গ্রহণের হার ২০১১ সালের চেয়ে কমে গেছে ২০১৬ সালের খানা জরিপে।

শ্রমিক-মালিকরা পরস্পরের পরিপূরক, একে অপরকে ছাড়া চলে না। আবার তাদের স্বার্থের সংঘাতও রয়েছে। শ্রমিকপক্ষ চায় সুবিধা বাড়াতে, অন্যদিকে মালিকপক্ষের নজর মুনাফা বাড়ানোর প্রতি। এক্ষেত্রে নজর রাখা চাই, বিরোধ যেন অশান্তি ডেকে না আনে। ক্ষোভ-অসন্তোষ যেন মাত্রা না ছাড়ায়। কোন অসাধু চক্র যেন পোশাকশিল্প শ্রমিকদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্কতা কাম্য। নতুন বাণিজ্যমন্ত্রী শ্রমিক-মালিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে আগামী এক মাসের মধ্যে মজুরি বোর্ডের অসঙ্গতি ও ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করার কথা বলেছেন। আমরা আশা করব, দ্রুততম সময়ে কমিটি কাজটি শেষ করবে এবং তৈরি পোশাক খাতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনবে। আন্দোলনের কারণে যেন কোন শ্রমিকের বিরুদ্ধে মালিকেরা ব্যবস্থা না নেন, সেই নিশ্চয়তাও দিতে হবে।