menu

আবারও সুন্দরবনে রক্ষা

বনকে রক্ষা করবে কে

  • ঢাকা , শনিবার, ২৩ মে ২০২০

সুন্দরবনের কারণে সুপার সাইক্লোন আম্ফানের প্রভাব বাংলাদেশে অনেকটাই দুর্বল ছিল। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের উপকূল থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থানকালে আম্ফানের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটার। সুন্দরবন অতিক্রম করার পর এর গতিবেগ কমে হয় ঘণ্টায় ১৫১ কিলোমিটার। সুন্দরবনের প্রভাবে সুপার ঘূর্ণিঝড়টির গতিবেগ কমেছে ঘণ্টায় ৬৯ কিলোমিটার। তবে আম্ফান মোকাবিলা করতে গিয়ে সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে বরাবরই ঢাল হিসেবে কাজ করেছে সুন্দরবন। এর আগে সিডর ও আইলার সময়ও সুন্দরবন বাংলাদেশকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করেছে। বঙ্গোপসাগরে যতবারই ঘূর্ণিঝড় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হেনেছে ততবারই সুন্দরবন বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলাই করছে না এ বনভূমি। এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও এর বিপুল অবদান রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন-জীবিকাও এর ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। অথচ নানাভাবে সুন্দরবনকে ধ্বংস করা হচ্ছে।

সুন্দরবন ধ্বংস হওয়ার পেছনে কোন একক কারণ দায়ী নয়। এক সময় অসাধু বন কর্মকর্তাদের বন ধ্বংসের জন্য দায়ী করা হতো। এখন বন ধ্বংসের জন্য সরকারের নীতিনির্ধারকদেরই বহুলাংশে দায়ী করা হয়। বনসংলগ্ন শিল্প-কলকারখানা, রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদ-নদীতে নৌযান চলাচল প্রভৃতি কারণে সুন্দরবনের অস্তিত্ব বিপন্ন হচ্ছে। কোন সমালোচনাতেই বনবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না। যাদের বন রক্ষা করার কথা তারাই একে ধ্বংস করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এজন্য প্রশ্ন উঠেছে যে, সুন্দরবন দেশকে রক্ষা করছে কিন্তু বনকে রক্ষা করবে কে।

সুন্দরবন বাঁচলে দেশ বাঁচবে। বিষয়টা সরকারের নীতিনির্ধারকদের গভীরভাবে উপলব্ধি করতে হবে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। সুন্দরবনের ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ করা যাবে না। বনের ক্ষতি করে তথাকথিত উন্নয়নে দেশের সত্যিকারের মঙ্গল হবে না। প্রথমে বন রক্ষা করতে হবে, তারপর উন্নয়ন করতে হবে।