menu

পৌরসভার দুরবস্থা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে

  • ঢাকা , মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নিজস্ব আয় না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দিতে পারছে না দেশের ৫৯ পৌরসভা। সর্বনিম্ন ১০ মাস থেকে ৬৪ মাস পর্যন্ত কর্মচারীদের বেতন বকেয়া রেখেছে এসব পৌরসভা। নিয়মিত বেতন পরিশোধ করতে না পারা পৌরসভাগুলোর পৃথক দুটি তালিকা করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় পরিবার নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এটা স্বীকার্য যে, পৌরসভাগুলো আগে নিজের আয়ে চললেও এখন আর তা সম্ভব হচ্ছে না। এর মূল কারণ তিনটি। প্রথমত, এমন অনেক পৌরসভা গড়ে উঠেছে যেগুলো নিজের আয়ের সংস্থান করতে সক্ষমই নয়। দ্বিতীয়ত, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন স্কেলের পরিবর্তন হয়েছে, সব কিছুতেই ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় আয় বাড়েনি। তৃতীয়ত, আগে সরকারের সহযোগিতাও ছিল আশানুরূপ। এখন সরকারের নীতি কঠোর হওয়ায় তার ছাপ পড়েছে।

পৌরসভাগুলোতে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে সেটা সরকারের ভুল পরিকল্পনারই ফল। অপরিকল্পিতভাবে, যথাযথ শর্ত না মেনে একের পর এক পৌরসভা সৃষ্টি হয়েছে। সেগুলো বন্ধ করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আবার পুরনো পৌরসভাগুলোর ব্যয় যে হারে বাড়ছে, আয় তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে পারছে কিনা, তার দেখভালও সঠিকভাবে করা হচ্ছে না। সরকারি কর্মচারী হয়েও বেতন না পাওয়ায় মাসের পর মাস তারা আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অনেক অনুপযোগী অঞ্চলকে পৌরসভা ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে শতভাগ কর আদায় হলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন পরিশোধ সম্ভব নয়। পৌর কর্মকর্তাদের নিয়োগ, বদলি ও শাস্তি দেয় সরকার। কিন্তু বেতন হয় পৌরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। আমরা মনে করি, অনুপযুক্ত নতুন পৌরসভাগুলো বন্ধ করা উচিত। আর এই অবস্থাতেই যদি রাখা হয় চায় তাহলে উচিত সরকারের তহবিল থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেয়ার ব্যবস্থা করা। তা না হলে প্রতিষ্ঠান ঠিকই থাকবে, তার ব্যয়ও হবে, কিন্তু নাগরিকরা যে সেবা পাওয়ার কথা তা থেকে বঞ্চিত হবেন।

স্থানীয় সরকার পর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই বেহাল দশার অর্থ কার্যত বিপুল জনগণের রাষ্ট্রীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়া। রাষ্ট্র যেখানে পৌরসভাকে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, সেখানে এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে না দেখার কোনো কারণ নেই। অপরিকল্পিতভাবে ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলার কারণে এবং আরও নানাবিধ নতুন ইস্যু যুক্ত হয়ে পৌরসভাগুলোর আয় বৃদ্ধি না পাওয়ায় যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা সমাধানের উদ্যোগ রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। পৌরসভার কাঠামো পুননির্ধারণ সময়সাপেক্ষ ও জটিল হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার দায়িত্ব নেয়াটাই সহজ সমাধান। নইলে এর ফলে মানুষ যে পৌর এলাকার প্রাপ্য সেবাগুলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তার দায় রাষ্ট্রের কাঁধেই বর্তায়। একদিকে কর-মূসক আদায়ে রাষ্ট্র শক্ত অবস্থান নিচ্ছে, অন্যদিকে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পঙ্গু অবস্থায় পড়ে থাকছে। এটা রাষ্ট্রীয় নীতির সঙ্গে মানানসই নয়। এসব প্রশ্নের যথার্থ উত্তর খোঁজার পাশাপাশি পৌরসভাগুলোর দুরবস্থা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। সুনির্দিষ্ট জনবলকাঠামো করে কেন্দ্রীয় সরকারকে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক সমস্যা সমাধান করতে হবে।

  • পবিত্র আশুরা

    আজ পবিত্র আশুরা। এ দিনটি মুসলিম জাহান শোকের দিবস হিসেবে পালন করে