menu

পেট্রলবোমা হামলা প্রসঙ্গে

  • ঢাকা , শুক্রবার, ১২ অক্টোবর ২০১৮

গত বুধবার বগুড়ায় একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন তিন যাত্রী। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, একদল দুর্বৃত্ত লাঠিসোটা নিয়ে গতিরোধ করার চেষ্টা করে। এরপর তারা বাস লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল এবং পেট্রলবোমা ছুড়ে মারে। হামলার ঘটনায় পুলিশ যুবদলের এক নেতাকে গ্রেফতার করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধারণা করছে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে পেট্রলবোমা হামলা চালানো হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে সোনারগাঁয়ে ২০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ ঘটনায় ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এদিকে চাঁদপুরের কচুয়ায় পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৯টি ককটেল।

দেশে পেট্রলবোমা হামলার অপসংস্কৃতি শুরু হয় ২০১৩ সালে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনের সময় পেট্রলবোমা ব্যবহার করা হয়। পেট্রলবোমা হামলায় দেশে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। সহিংস আন্দোলনের বলি হয়েছেন সাধারণ মানুষ। এখন আবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে পেট্রলবোমা হামলার ঘটনা ঘটল। আমরা বলতে চাই, আদালতের রায় নিয়ে কেউ সংক্ষুব্ধ হতে পারেন। সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি এজন্য উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। আইন তাকে সে সুযোগ দিয়েছে। আইনি বিষয়ের মোকাবিলা করতে হবে আইনি পন্থায়। রায় পছন্দ হয়নি বলে পেট্রলবোমা ছুড়ে মারা বা সহিংস হামলা চালানো হবে সেটা হতে পারে না। কারও পছন্দমতো রায় দেয়া আদালতের কাজ নয়।

দেশে পেট্রলবোমা হামলার অপসংস্কৃতি যেন ফিরে না আসে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি চক্র সহিংস হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ঠ সহিংসতায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পেট্রল সন্ত্রাস প্রতিরোধে সে সময় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এখন থেকেই বোমাবিরোধী অভিযান চালাতে হবে। বোমা তৈরির কারিগরদের খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পেট্রলবোমা হামলায় কে বা কারা মদত দেয় সেটা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

কোন রাজনৈতিক দল তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ে বা চাওয়া পূরণের লক্ষ্যে জনগণকে জিম্মি করতে পারে না। কোন দল বা গোষ্ঠী কোন ইস্যুতে জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রদর্শন করবে না সেটা আমাদের চাওয়া। আইনি প্রশ্নে আইনি লড়াই চলতে পারে, রাজনৈতিক ইস্যুতে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন হতে পারে। এর প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন আছে। কিন্তু কোন সন্ত্রাসী কর্মকা-কে মেনে নেয়া যায় না।