menu

নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে কর-শুল্ক কমান

  • ঢাকা , বুধবার, ১৫ মে ২০১৯

আন্তর্জাতিক বাজারে দর কমে প্রতি টন নিউজিপ্রিন্টের দাম হয়েছে ৪২ হাজার টাকা। আর স্থানীয় বাজারে দর বেড়ে প্রতি টন নিউজপ্রিন্টের দাম হয়েছে ৪৫ হাজার টাকা। অথচ ১ মাস আগেও স্থানীয় বাজারে এটা ছিল ৩৬ হাজার টাকা। দেশীয় উৎপাদকরা যে হারে দাম বাড়িয়েছেন, মান সে হারে বাড়াননি। নিম্নমানের স্থানীয় নিউজপ্রিন্টে ছাপার কাজ সম্পন্ন করতে ঢের কাগজ গচ্চা দিতে হয়। এর মাশুল গুনতে হচ্ছে সংবাদপত্র শিল্পকে। কাগজ আমদানি করে সংবাদপত্র শিল্প যে দেশের বাজারে দরবৃদ্ধির খরচ বা নিম্নমানের নিউজপ্রিন্টে দেয়া ক্ষতি পুষিয়ে নেবে সেটারও উপায় নেই। সেই ৩১ শতাংশ কর-ভ্যাট দিয়ে নিউজপ্রিন্ট আমদানি করতে হয়। এ অবস্থায় সংবাদপত্র শিল্পের সংকট চরমে উঠেছে।

সারা বিশ্বেই সংবাদপত্র শিল্প কঠিন সময় পার করছে। ইউরোপ-আমেরিকার মতো দেশেও টিকতে না পেরে বিখ্যাত অনেক পত্রিকাই বন্ধ হয়ে গেছে। দেশেও অনেক পত্রিকা লোকসানের মুখে বন্ধ করে দিয়েছেন উদ্যোক্তারা। শুধু কাগজহীন সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গেই পত্রিকাগুলোকে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে না, সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গেও করতে হচ্ছে প্রতিযোগিতা। সংবাদপত্রের এ প্রতিযোগিতাকে আরও কঠিন করে তুলেছে স্থানীয় নিউজপ্রিন্টের দাম ও মান এবং আমদানিকৃত কাগজের বড় আকারের কর-ভার।

সংবাদপত্রের সংকট সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অবগত আছেন। কয়েকদিন আগে তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বিশ্বের অনেক নামিদামি পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের আগের মেয়াদে সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। শিল্প হিসেবে যেসব সুবিধা পাওয়া স্বাভাবিক সেসব সুবিধা দেশের সংবাদপত্রগুলো পাচ্ছে না। দেশীয় কাগজশিল্পকে সরকার প্রণোদনা দেবে তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু স্থানীয় কাগজ উৎপাদকরা সিন্ডিকেট করে কাগজের দাম বাড়িয়ে কাউকে বাড়তি দামে তা কিনতে বাধ্য করতে পারেন না। সরকারকে এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বলতে চাই, সরকারের ঘোষণা মোতাবেক সংবাদপত্রও শিল্প। এ শিল্প রাষ্ট্রীয় প্রণোদনার দাবি রাখে। স্বতন্ত্র শিল্প হিসেবে নিউজপ্রিন্ট আমদানির সুযোগ প্রশস্ত করা জরুরি। এজন্য আমদানিতে ভ্যাট, শুল্ক প্রভৃতি যৌক্তিক হারে নামিয়ে আনতে হবে। এ বিষয়ে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা আগামী বাজেটে এ আশ্বাসের বাস্তবায়ন দেখার অপেক্ষায় রইলাম।