menu

দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মসূচির সংস্কার প্রয়োজন

  • ঢাকা , বুধবার, ০৯ অক্টোবর ২০১৯

দেশে দারিদ্র্য কমার গতি মন্থর হয়ে গেছে। প্রবৃদ্ধি যেই হারে বাড়ছে, দারিদ্র্য সেই হারে কমছে না। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের দারিদ্র্য কমার এমন চিত্রই প্রকাশ পেয়েছে। ২০০০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রায় আড়াই কোটি মানুষ দারিদ্র্য সীমার উপরে উঠে এসেছেন। এর মধ্যে ২০১০ থেকে ২০১৬ সালে দারিদ্র্য সীমার উপর উঠে এসেছেন ৮০ লাখ মানুষ। অথচ এ সময়ের মধ্যে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। আবার গ্রামে দারিদ্র্য কমলেও, শহর এলাকায় তুলনামূলকভাবে দারিদ্র্য কমার হার অনেক বেশি মন্থর। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, প্রতিবেদনটি হালনাগাদ নয়। তিনি দারিদ্র্য প্রশ্নে বিশ্বব্যাংকের আশঙ্কাকে আমলে নেননি।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে সবশেষ তথ্যউপাত্ত না থাকতেই পারে। তবে যে কয়েক বছরের তথ্যউপাত্ত তারা দিয়েছে সেটাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। অর্থমন্ত্রী বিশ্বব্যাংককে দারিদ্র্যের তথ্যউপাত্ত হালনাগাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আমরা জানতে চাই, কাজটি সরকার নিজেই করছে না কেন। ২০২৭ সালের মধ্যে দেশকে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির তালিকায় স্থান দেয়ার চেষ্টা করছে সরকার। এ চেষ্টার অংশ হিসেবেই দেশে দারিদ্র্যের হালনাগাদ চিত্র সরকারের জানা উচিত।

আওয়ামী লীগ সরকার আমলে দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এটা কেউ অস্বীকার করছে না। সমস্যা হচ্ছে, অর্থনীতি যে গতিতে এগোচ্ছে, দারিদ্র্য সেই গতিতে কমছে না। বোঝা যাচ্ছে, অর্থনীতি বড় হওয়ার সুফল একটি গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে। আর যারা দরিদ্র ছিল তাদের কেউ কেউ হয়তো কোন মতে দারিদ্র্যের সীমারেখা পার করেছে। তবে তারা যে আবারও এই সীমার পেছনে পড়ে যাবে না সেটার নিশ্চয়তা নেই। যদিও অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যে, মানুষের আবার দরিদ্র হওয়ার ব্যবস্থা নেই। তবে আমরা বলতে চাই, সুষম উন্নয়ন আর সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে দরিদ্র বা স্বল্প আয়ের মানুষ বিপদে পড়বে।

দেশে কাক্সিক্ষত কর্মসংস্থান হয়নি। সরকার যদি শুধু শ’খানেক অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করে কর্মসংস্থানের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাবে বলে মনে করে তবে বিপদ ঘটতে পারে। পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে না। তার কোন প্রস্তুতিও দেখা যাচ্ছে না। সারা বিশ্ব যখন জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার তখন কারিগরি শিক্ষার মধ্যে আটকে আছে। সেই শিক্ষার মানও দুর্বল। জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নতি ছাড়া, উদ্ভাবনী শক্তি ছাড়া বড় অর্থনীতির দেশ হওয়া সম্ভব হবে না। দারিদ্র্য হ্রাসে বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য সরকারকে যুগের চাহিদা বুঝে কাজ করতে হবে।