menu

ঢাকার আশপাশের নদী রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিন

  • ঢাকা , শনিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

ঢাকার আশেপাশের দুই নদী আদি বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা এখন অস্তিত্ব সংকটে। দখল-দূষণে ঢাকার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এ নদী এখন হারিয়ে ফেলছে অতীত ঐতিহ্য। নদীর দুই তীর দখল করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান। একইসঙ্গে অপরিণামদর্শী পরিকল্পনা ও প্রকৃতিবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে নৌপথ হিসেবে এ দুই নদীর কার্যকারিতাও লোপ পেতে বসেছে। একালে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় চলাচলের জন্য এ দুই নদীর পানি প্রবাহের যে গ্রহণযোগ্যতা ছিল তা যেন কালের আবর্তে লোপ পেতে বসেছে।

আদি বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার বর্তমান চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। অবশ্য শুধু এ দুটিই নয়, তুরাগ, বালু, ধলেশ্বরীসহ ঢাকার আশেপাশের অন্যান্য নদী ও শাখানদীও যে দখলে-দূষণে মৃতপ্রায় সেটা সবাই জানে। সম্প্রতি নদী দখলদার উচ্ছেদে সরকারিভাবে বেশকিছু অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু এতে পরিস্থিতির বিন্দুমাত্র উন্নতি ঘটেনি। কোথাও কোথাও দখলদাররা কিছুদিনের জন্য নিষ্ক্রিয় থেকে পুনরায় তাদের প্রভাব বিস্তার করেছে। অনেকে নদীর জমিতে মসজিদ নির্মাণ করে উচ্ছেদ অভিযানে বাধা প্রদান করেছে। তাছাড়া এসব অভিযানে নদী দখলের রাঘববোয়ালরা থেকে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের বিরুদ্ধে কোনরকম ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। নদীর সীমানা নির্ধারণ করে পিলার বসানো হয়নি। নদীর পার বেঁধে দেয়া হয়নি। ফলে সরকারি উদ্যোগ কার্যত লোক দেখানো আয়োজনই থেকে গেছে।

বুড়িগঙ্গাসহ সব নদীদূষণ ও দখলমুক্ত করতে হলে সরকারের সঠিক পদক্ষেপ, কঠোর আইন ও বাস্তবায়নই শুধু পারে নদী বাঁচাতে। বুড়িগঙ্গা ও এর আদি চ্যানেল বাঁচাতে হলে সামগ্রিক পরিকল্পনা দরকার। কারণ এখানে শুধু অবৈধ স্থাপনা রয়েছে তা নয়। নদী গতিপথ পরিবর্তন করায় অনেকের বৈধ জমিও এখন নদীর সীমানা হয়ে গেছে। আইন অনুযায়ী নদীর জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করা যায় না। তাই অনেক বৈধ মালিকের স্থাপনা উচ্ছেদেরও প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া নদী তীরের প্রাচীন স্থাপনা সংস্কার করে সংরক্ষণ করা, নদীতে পানির প্রবাহ বাড়াতে খনন করা ও তীরের সৌন্দর্য্য সৃষ্টি করা জরুরি। এসব কাজের জন্য সদিচ্ছা ও দৃঢ়তা দুটোই প্রয়োজন।

নদীর পানির প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য সব ব্রিজ-কালভার্টের মুখ উন্মুক্ত করার বিকল্প নেই। দূষণ বন্ধ করতে হবে। নদীর যে স্থান দখল করে স্থাপনা গড়ে উঠেছে, সেগুলো দখলমুক্ত করে দখলদারদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সেই নদী খনন করতে হবে।

হাইকোর্ট জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে নদীর অভিভাবক ঘোষণা করেছেন। শুধু অভিভাবকত্ব দিয়ে নদী রক্ষা হবে না। এর জন্য আইন সংশোধন করে এ কমিশনকে জনবল কাঠামোতে এবং ক্ষমতায় স্বয়ংসম্পন্ন করে তুলতে হবে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে এমন ক্ষমতা দিতে হবে যে তার নির্দেশনা জেলা-উপজেলা প্রশাসন বাস্তবায়ন না করলে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। সরকার যদি নদীর দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়, তাহলে নদী রক্ষা করা কঠিন হবে না। এ জন্য শুধু জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নদীর পক্ষে থাকলে অল্পসংখ্যক দখলদার সরকারের ওপর রুষ্ট হলেও কোটি কোটি মানুষ সরকারের এ চেষ্টাকে সমর্থন করবে।