menu

জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর

ট্রাম্পের অন্যায় পদক্ষেপ

  • ঢাকা , বুধবার, ১৬ মে ২০১৮

জেরুজালেমে আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন দূতাবাস খোলার দিন গত সোমবার ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৫৮ জন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ। বলা হচ্ছে, ২০১৪ সালে গাজা যুদ্ধের পর ১ দিনে এত ফিলিস্তিনি আর মারা যাননি। জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস না খোলার দাবিতে ১ মাসেরও বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ করছেন ফিলিস্তিনের নাগরিকরা। গত ৩০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত কমবেশি ১০০ মানুষ মারা গেছেন। হতাহতের এসব ঘটনা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমে তাদের দূতাবাস খুলল। গত সোমবার যখন ফিলিস্তিনিদের রক্ত ঝরছিল যুক্তরাষ্ট্র তখন দূতাবাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উদযাপন করছিল। জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উসকানিমূলক কার্যক্রম বললেও কম বলা হয়। ট্রাম্পের পূর্বসূরিরা দূতাবাস স্থানান্তরের কাজ থেকে দশকের পর দশক ধরে বিরত ছিলেন। এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটে যুক্তরাষ্ট্র তার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা ধরে রেখেছিল। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে দূতাবাস সরিয়ে নিয়ে স্পষ্টতই দখলদার ইসরায়েলের পক্ষাবলম্বন করলেন। বিবদমান দু’পক্ষের একটি পক্ষের দাবিকে স্বীকৃতি দেয়া হলে আর নিরপেক্ষতা বজায় রাখা যায় না। এ অবস্থায় ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের আর কোন ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে বলে আমরা মনে করি না।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলি দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছর ৬ ডিসেম্বর তিনি জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। বিশ্বজুড়ে তার এ ভূমিকার সমালোচনা হয়। গত ২১ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১২৮টি দেশ ট্রাম্পের উক্ত ঘোষণার বিপক্ষে ভোট দেয়। জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তর করা হলে ফিলিস্তিন সংকট যে আরও বাড়বে সে বিষয়ে বিশ্ব নেতারা ট্রাম্পকে সতর্ক করেন। ট্রাম্প কোন সতর্কবার্তাই আমলে নেননি। এমন হঠকারিতার ঘটনা নজিরবিহীন। আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে ট্রাম্প যে পদক্ষেপ নিয়েছেন- তা মেনে নেয়া যায় না। তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনাও লঙ্ঘন করেছেন। তার পদক্ষেপে একদিকে ফিলিস্তিন সংকট প্রকট আকার ধারণ করল, অন্যদিকে জাতিসংঘকে এক অকার্যকর সংস্থায় পরিণত করল। ফিলিস্তিনে সাম্প্রতিক হত্যাযজ্ঞের দায় ট্রাম্পের ওপরই বর্তাবে। গায়ের জোরে অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে তিনি দখলদারিত্বকেই সমর্থন করলেন। জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের ঘটনা ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবেই লিপিবদ্ধ থাকবে।

  • ইফতারসামগ্রী নিতে গিয়ে ১০ মৃত্যু

    পুনরাবৃত্তি বাঞ্ছনীয় নয়

    চট্টগ্রামে ইফতারসামগ্রী গ্রহণকালে পদদলিত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৯