menu

জাল এনআইডি তৈরির হোতাদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিন

  • ঢাকা , বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

জাল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার রাজধানীর সবুজবাগ ও গুলশান নির্বাচন কমিশন অফিসের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সিদ্ধার্থ শঙ্কর সূত্রধর ও আনোয়ারুল ইসলামকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইডিইএ প্রকল্প। গত রোববার ইসির উপ-সচিব এবং আইডিইএ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. নুরুজ্জামান খান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে, রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে এই দুজনসহ এনআইডি জালিয়াতি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা।

জাল জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মী সম্পৃক্ততার খবরটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, নির্বাচন কমিশনের ওই দুই কর্মীর যোগসাজশেই তৈরি করা হচ্ছিল জাল এনআইডি। ব্যাংক ঋণের আবেদনসহ নানা কাজে এসব জাল জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার হয়ে আসছিল। ইতোমধ্যে জাল এনআইডি দিয়ে একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণও নিয়েছে। অর্থাৎ এই চক্রের তৈরিকৃত জাল এনআইডির ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে, এর মাধ্যমে দুষ্কর্মের ইঙ্গিত প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং হয়ত সামনে আরও বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। এখনই এ ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। জালিয়াতির মূল হোতাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় কঠোর সাজা দিতে হবে।

এনআইডি তৈরির প্রক্রিয়ায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা প্রায়ই বলা হয় এবং এটি তৈরি যে সহজ নয়, এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা যে অনেক দৃঢ় সেটিও জোর গলায় বলা হয়। প্রশ্ন হলো, দুজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের পক্ষে কি করে এনআইডি বানানো সম্ভব হলো? দীর্ঘদিন ধরে, তারা নির্বিঘ্নে অপকর্মটি করছিল, তাদের শনাক্ত করতে এত দেরি হলো কেন? স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, এনআইডি নির্মাণ ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট ফাঁক আছে, সেই ফাঁকটাই খুঁজে বের করেছে অপকর্মকারীরা।

জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিখুঁত করতে হবে। এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। ভেতরের দুর্বলতাগুলো দূর করতে হবে। যারা এনআইডি তৈরি ও দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত তাদের ব্যাপারে নজরদারি বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে কোনরকম গাফিলতির সুযোগ রাখা যাবে না।