menu

গ্রাহকের কাছ থেকে তিতাসের অতিরিক্ত গ্যাস বিল আদায় বন্ধ করুন

  • ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২০

দেশে আবাসিক খাতে পাইপলাইনের প্রায় ৪০ লাখ গ্রাহক মাসে যে পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করছেন, তার চেয়ে অনেক বেশি বিল তাদের দিতে হচ্ছে বলে সংবাদ-এর এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, প্রতি মাসে একজন গ্রাহক গড়ে প্রায় ৩০০ টাকা বেশি বিল দিচ্ছেন। সে হিসাবে ৪০ লাখ গ্রাহকের কাছ থেকে মাসে ১২০ কোটি এবং বছরে ১ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা অতিরিক্ত বিল আদায় করা হচ্ছে। আর এ টাকা তিতাস গ্যাস কোম্পানিসহ গ্যাস বিতরণে নিয়োজিত ৬টি কোম্পানির কোষাগারে জমা হচ্ছে।

জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, আবাসিক খাতে পাইপে গ্যাস ব্যবহারকারীরা গড়ে যে পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করেন, তার বাণিজ্যিক মূল্য প্রদেয় বিলের চেয়ে কম। মাসিক বিল নিয়ে বিতরণ কোম্পানিগুলো লাভবান হচ্ছে, ঠকছেন গ্রাহকরা। তারা আরও বলেছেন, সারা দেশে এখনও ৫ লাখের বেশি অবৈধ সংযোগ চলছে। কিন্তু বিতরণ কোম্পানিগুলোর কোন সিস্টেম লস নেই।

সর্বশেষ গত বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া মূল্যহার অনুযায়ী আবাসিক খাতে একমুখী চুলায় প্রতি মাসে বিল ৯২৫ টাকা এবং দ্বিমুখী চুলায় ৯৭৫ টাকা। প্রিপেইড মিটারের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১২ টাকা ৬০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

সর্বশেষ যখন গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়, সেটা নিয়েও অনেক আলোচনা-সমালোচনা এমনকি আন্দোলনও হয়েছিল। কিন্তু সরকার কোন কিছুর পরোয়া না করে দাম বাড়িয়েছিল। সেটা মানুষের মাথার উপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এখন ৪০ লাখ গ্রাহকের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে এ অতিরিক্ত ৩০০ টাকা বাড়তি বিল দেয়াটা। গ্যাস এবং বিদ্যুৎÑ এ দুটি নিয়ে মানুষের ওপর রীতিমতো অত্যাচার চালানো হচ্ছে। এমনিতেই সারা বছর গ্যাসের অবৈধ সংযোগ এবং গ্যাস চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। আর এসবের সঙ্গে বিতরণ কোম্পানিগুলোর কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকে।

বস্তুত মিটার, পাইপলাইন এবং সিলিন্ডার গ্যাস- এর তিন রকম মূল্য দিতে হচ্ছে গ্রাহককে। যদি মিটারের মূল্যকে স্ট্যান্ডার্ড ধরা হয় তবে নিশ্চিতভাবেই পাইপলাইন এবং সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রয়ে গ্রাহকদের ঠকাচ্ছে তিতাস গ্যাস। একটি স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থায় তিতাসের এ লোক ঠকানো ব্যবসা সম্পর্কে তদন্ত করে সেটা বন্ধ করা হোক এটাই জনস্বার্থে আমাদের দাবি।