menu

অপরাধ দমন করতে হলে র‌্যাব-পুলিশকে আইনি প্রক্রিয়ায় থাকতে হবে

  • ঢাকা , শুক্রবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৮

ব্যাংক থেকে বের হতেই ভুয়া র‌্যাবের খপ্পরে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। র‌্যাবের পোশাক পরিহিত সন্ত্রাসীরা এভাবে অতর্কিতে মানুষকে গাড়িতে তুলে নিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে অপহরণ করছে, চাঁদা আদায় করছে। গত দেড় মাসে ১৩টি ডাকাতির সঙ্গে জড়িত সাতজনকে গত রোববার রাজধানীর কাওলা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, গ্রেফতার হওয়া সাতজন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় র‌্যাব সেজে গত দেড় মাসে ১৩টি অপহরণ বা নকল চেকপোস্ট বসিয়ে টাকা আদায় করেছে। ১৩টি ঘটনায় তারা ৩০ লাখ ৭০ হাজার টাকা লুট করেছে। তাদের মূল টার্গেট ছিল ব্যাংক থেকে বের হওয়া লোকজন।

শুধু একটি চক্র গ্রেফতার হওয়ার পরই জানা গেল গত দেড় মাসে তারা র‌্যাবের ছদ্মবেশে ১৩টি ডাকাতি করেছে। অর্থাৎ এমন আরও চক্র যে এখনও সক্রিয় আছে এবং এ ছদ্মবেশী ডাকাত দলের কবলে পড়ে আরও যে কত মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছেন সেটা চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন নেই। আবার র‌্যাব বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে বা পোশাক পরা দুর্বৃত্তদের অপারেশনে কেউ যে নিখোঁজ বা গুম হচ্ছেন না সেটাও জোর গলায় বলা যায় না। কেননা, গ্রেফতার বা আটকের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দেশে পুলিশ কিংবা র‌্যাবের পরিচয়ে আটক, নিখোঁজ ও গুম-খুনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারেই বেড়েছে।

আমরা মনে করি, এই প্রতারক চক্র তখনই সংঘবদ্ধ হয়েছে, যখন তারা অব্যাহতভাবে দেখেছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরাই আইন ভঙ্গ করে যখন যেভাবে খুশি যাকে-তাকে গ্রেফতার করছেন, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির কোন রকম আইনি সুরক্ষা থাকছে না, যারা গ্রেফতার হচ্ছেন তারা কখন গ্রেফতার বা আটক হলেন তা পরিবারের সদস্যদের জানানোর প্রয়োজন বোধ করা হচ্ছে না। এমন কি অনেক ক্ষেত্রেই গ্রেফতার বা আটকের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে জড়িত তাও স্বীকার করা হয় না। আটককৃত বা গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি যে নিখোঁজ সে ব্যাপারে মামলাও নেয়া হচ্ছে না। দুঃখজনক হলেও সত্য, এ ধরনের ঘটনা ঘটছে অহরহ, যেন এটাই এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। যেন মানবাধিকার সুরক্ষার কোন নিয়ম দেশে নেই, আইনকানুন, বিধি-বিধান নেই। অর্থাৎ পুলিশ ও র‌্যাব যা করবে সেটাই আইন। সেটাকেই অলিখিত আইন বলে মেনে নিতে হবে।

কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেফতার করতেই পারে। তবে শুধু পুলিশের পোশাক পরলেই যে কোন ব্যক্তিকে পুলিশ বলে মেনে নিতে হবে এমন নিয়ম সংবিধানে নেই। সংবিধানের ধারা ৩৩ অনুসারে আইন হলো, কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার সময় পুলিশ তার পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে, অবশ্যই গ্রেফতারের কারণ জানাতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির করতে হবে। এ সম্পর্কিত আদালতের নির্দেশও রয়েছে।

এ আইনটি যথাযথভাবে অনুসরণ করছে না র‌্যাব, পুলিশ বা অন্য কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অনুসরণ করে না বলেই তাদের পোশাক পরে বা পোশাক ছাড়াই র‌্যাব, ডিবি, পুলিশের নামে অপরাধ করছে দুষ্কৃতকারীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজেরাই যতদিন আইনভঙ্গের এ নীতি অব্যাহত রাখবে। ততদিন দুষ্কৃতকারী চক্র ততদিন তাদের নাম, পোশাক ব্যবহার করে অপরাধ করেই যাবে। এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা বিঘিœত হতেই থাকবে।

সুতরাং র‌্যাব পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্যই আইন অনুসরণ না করে নাগরিকদের গ্রেফতারের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবে না। তাদের অবশ্যই সংবিধান এবং আদালতের নির্দেশ অনুসরণ করে গ্রেফতার বা আটক করতে হবে। শুধু এ প্রক্রিয়াই দুষ্কৃতকারীদের র‌্যাব-পুলিশের নামে অপরাধ করার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।