menu

যানবাহন বাড়ছে সড়ক বাড়ছে না

বৃদ্ধি ও ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনাও কার্যকর নয়

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮

দেশে যানবাহন বাড়ছে কিন্তু সড়ক বাড়ছে না। উন্নত হচ্ছে না সড়ক অবকাঠামোও। সড়কের পাশে হাটবাজার, টোলপ্লাজার কার্যক্রমে ধীরগতি মহাসড়কে যানবাহনের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় সড়ক গবেষণাগারের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত এক যুগে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহনের গতি কমেছে ঘণ্টায় গড়ে ছয় কিলোমিটার। ২০০৪-০৫ সালে দেশের মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহনের গড় গতি ছিল ঘণ্টায় ৩৪ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার। ২০১৬-১৭ সালে তা ঘণ্টায় ২৮ দশমিক ৫৪ কিলোমিটারে নেমে এসেছে। যদিও প্রতি বছরই বড় অংকের অর্থ বিনিয়োগ হচ্ছে সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের হিসাব বলছে, গত ৯ বছরে নতুন সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নে বিনিয়োগ হয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।

গত ২০ বছরে দেশে যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। সে অনুপাতে সড়কের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা না হলে যান চলাচলের গতি কমবে, এটাই স্বাভাবিক। আবার রাস্তা যদি খারাপ থাকে, তাহলে গতি এমনিতেই কমে যাবে। এর বাইরে বিভিন্ন স্থানে কনস্ট্রাকশন কাজ চলার কারণেও গতি কমতে পারে। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে সড়ক সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। এখানে প্রথমে সড়কে সামান্য ফাটল দেখা দিলে আমরা আমলে নেই না। সে ফাটল বড় হয়ে যখন ছোট গর্তে পরিণত হয় তখনও কারও টনক নড়ে না। ছোট গর্ত বড় হয়ে যখন জনদুর্ভোগ তৈরি হয়, সে দুর্ভোগ নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয়; তখন আমাদের কর্মকর্তারা উদ্যোগী হন। প্রথমে যে সামান্য ফাটল দেখা দিয়েছিল, সেটা যদি তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত করা হতো; তাহলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

দেশে যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও সে অনুপাতে বাড়েনি সড়কের দৈর্ঘ্য, যদিও বছর বছর মোটা টাকা বিনিয়োগ করছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের হিসাব বলছে, গত ৯ বছরে নতুন সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নে ৪৬ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরেও ব্যয় হয়েছে ১৪ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ব্যয় হয়েছে আরও ১ হাজার ৭০৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। প্রশ্ন হলো, এ টাকা যাচ্ছে কোথায়? কেন সড়ক ব্যবস্থাপনার কোন দৃশ্যমান উন্নতি নেই? এত অর্থ ব্যয়ের পরও যদি সড়কের অসঙ্গতি ডালপালা ছড়ায় তবে এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক আর কী হতে পারে!

এটা মনে রাখা উচিত যে, জোড়াতালি দেয়া কাজ কখনই টেকসই হয় না। যেনতেন ভাবে সড়ক সংস্কারের অপসংস্কৃতি থেকে আমাদের অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে। নিয়ম হলো, প্রতিটি মহাসড়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী নিয়মিত তদারকি করবেন। কোথাও সমস্যা হলে, সড়কে বড় গর্ত হওয়ার আগেই তা নিজস্ব লোকজন দিয়ে সংস্কার করবেন টেন্ডারের অপেক্ষায় না থেকে। দেশে যদি সে নিয়মের প্রতিপালন হতো তাহলে হয়তো রাস্তার এত ক্ষতি হতো না, কিংবা অকারণে এত অর্থ অপচয় হতো না।

সরকার জনগণের থেকেই ট্যাক্স-ভ্যাট বাবদ অর্থ পায়। তাই সরকারি কাজের পরিকল্পনা এমনভাবে করা উচিত, যেন রাস্তা মেরামত করা হলে, সেটা অন্তত ৩ থেকে ৫ বছর ভালো থাকে। প্রয়োজনে একটু সময় নিয়ে কাজ করতে হবে। এটাও মনে রাখা জরুরি, উন্নত পরিকল্পনার ভিত্তিতে যে সড়কই নির্মাণ করা হোক না কেন, তাতে যেন স্বচ্ছতা থাকে। অর্থাৎ দুর্নীতি দূর করতে হবে সবার আগে। যান্ত্রিক-অযান্ত্রিক কিংবা স্বল্প ও অধিক দূরত্বের যানবাহন নির্বিশেষে সবার সহজে ও নির্বিঘ্নে চলাচলের সুবিধা থাকা উচিত। দিন দিন সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ছে। ফলে মহাসড়ক নিয়ে নতুনভাবে পরিকল্পনারও সময় এসেছে। সনাতন ধারার পরিবর্তে, কিভাবে সড়কের টেকসই উন্নয়ন ঘটানো যায়, সে ব্যাপারে গবেষণা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে।

আমরা আশা করব, সরকার এমন সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করবে যা হবে সাশ্রয়ী, টেকসই এবং যাতে মানুষ কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে; একই সঙ্গে যেখানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকবে কম।

  • গুম-নিখোঁজের প্রতিকার চাই

    কোনদিন কী হবে

    গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান চেয়েছেন তাদের স্বজনরা। গত মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক