menu

বন্যহাতি নিধন বন্ধ করুন

  • ঢাকা , রবিবার, ২২ নভেম্বর ২০২০

কক্সবাজারে মানুষের নির্মমতায় একের পর এক মারা যাচ্ছে বন্যহাতি। সংবাদে প্রকাশিত গত শনিবারের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি মাসে কক্সবাজারের চকরিয়া ও রামুতে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে ৩টি বন্যহাতি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে হাতির আবাসস্থল উজাড়, খাদ্য সংকট ও চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় লোকালয়ে হানা দিচ্ছে হাতি। যার ফলে বন্যহাতি ও মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে। নির্বিচারে হাতি শিকারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো। ২০১৭ সালের আগে কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া, রামু ও চকরিয়ার বনাঞ্চলে দল বেঁধে অবস্থান করত বন্যহাতির পাল। আবাসস্থল, খাদ্য ও চলাচলের পথ স্বাভাবিক থাকায় বনে দল বেঁধে ঘুরে বেড়াত বন্যহাতিরা। মাঝেমধ্যে এ দৃশ্য দেখাও যেত। কিন্তু এখন আর সেই দৃশ্য চোখে পড়ে না। পরিবেশবাদী সংগঠন এনভায়রনমেন্ট পিপল জানায়, ২০১৭ সালের আগে কক্সবাজার বনাঞ্চলে হাতির সংখ্যা ছিল প্রায় ৯২টি। আর গত ২ বছরে কক্সবাজার ও আশপাশের অঞ্চলে অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হয়েছে ১৩টি হাতির। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে গিয়ে উজাড় হয়েছে বনাঞ্চল। ফলে তাদের আবাসস্থল, খাদ্য সংকট ও চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় হানা দিচ্ছে লোকালয়ে।

নির্বিচারে বন উজাড়, বাণিজ্যিক বন, রাবার ও ফল বাগান সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ডে পাল্টে যাচ্ছে পার্বত্য তিন জেলার ভূমি ও জীববৈচিত্র্য। এতে বনাঞ্চলে দেখা দিচ্ছে হাতির খাদ্যসংকট। আবার হাতি চলাচলের নির্দিষ্ট পথগুলো অনিরাপদ হয়ে পড়ায় বিঘœ ঘটছে ওদের চলাচলে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেয়ায় বাধাহীন চলাচল করতে না পেরে হিংস্র হয়ে উঠছে হাতির পাল। এতে বসতি এলাকায় আসা হাতির সঙ্গে মানুষের সংঘাত বাড়ছে। পাহাড়ে খাবার সংকট হচ্ছে সব প্রাণীর, বন উজাড় ও নিরাপদ আশ্রয় না থাকায় হাতির পাল লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে।

অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্রমাগত অবক্ষয়ের কারণে মানুষ ও হাতির মধ্যে চলমান বিরোধ সম্পূর্ণ নিরসন করা সম্ভব নয়। শুধু উপযুক্ত কৌশলের যথাযথ প্রয়োগ করে সমস্যাটির ব্যাপকতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। মানুষ হিসেবে নিজেদের প্রয়োজনেই জীববৈচিত্র্য এবং প্রাণীকুল রক্ষায় আরও মনোযোগী হওয়া জরুরি। বনের পরিবেশে বেঁচে থাকা হাতির জন্য এখন সবচেয়ে প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ, প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক চারণভূমি ও হাতিবান্ধব বনাঞ্চল গড়ে তোলা। হাতির সুরক্ষার জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা দরকার। তাদের বসতি ও বিচরণ এলাকা রক্ষা করতে হবে। যাতে হাতি নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারে। হাতি যেসব গাছ খাবার হিসেবে পছন্দ করে সেগুলোর মাধ্যমে বনায়নের চেষ্টা করতে হবে।

বনাঞ্চলে কোন ধরনের স্থাপনা কিংবা দখল করতে মানুষজনকে যেতে দেয়া যাবে না। এ ব্যাপারে নজরদারি বাড়াতে হবে। যারা হাতি গুলি করে হত্যা করছে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া বাঞ্ছনীয়। যারা বনাঞ্চলে স্থাপনা কিংবা দখল করতে যাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।