menu

গুম-নিখোঁজের প্রতিকার চাই

কোনদিন কী হবে

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮

গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান চেয়েছেন তাদের স্বজনরা। গত মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সমাবেশে সরকারের কাছে এ দাবি জানান তারা। ‘গুম হওয়া পাঁচ বছর শেষ, আর অপেক্ষা কতদিন’ শীর্ষক সমাবেশে উপস্থিত ছিল গুম হওয়া ৪০ ব্যক্তির স্বজনরা। সমাবেশে বক্তারা গুম হওয়ার কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন।

বন্দুকযুদ্ধ, ক্রসফায়ার, এনকাউন্টার প্রভৃতি নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়ে দেশে-বিদেশে সমালোচনা শুরু হলে দেশে গুম-নিখোঁজের ঘটনা ঘটতে থাকে। গত কয়েক বছরে গুম-নিখোঁজের ঘটনা অস্বভাবিক হারে বেড়েছে। গুম-নিখোঁজের ঘটনায় ভিকটিমের স্বজনরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। বিশ্লেষকরাও এ অভিযোগের ভিত্তি খুঁজে পেয়েছেন। তারা মনে করছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য-প্রমাণের যে সুযোগ রয়েছে সেই সুযোগ রহিত করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুম-নিখোঁজের পথ বেছে নিতে পারে। আমরা দেখেছি যে, গুম-নিখোঁজের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানাগুলো মামলা নিতে চায় না। সৌভাগ্যক্রমে যেসব ব্যক্তি নিখোঁজ অবস্থা থেকে ফিরে আসেন তাদের অপহরণকারীদের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর হতে দেখা যায় না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ভূমিকার কারণে অভিযোগ উঠেছে যে, গুম-নিখোঁজের নেপথ্যের ব্যক্তিদের আড়াল করাই তাদের উদ্দেশ্য। গুম হওয়া ব্যক্তির স্বজনরা বারবার সরকারের কাছে এর প্রতিকার চেয়েও তা পাননি।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ গুম বা নিখোঁজ হয়েছেন। সৌভাগ্যক্রমে যেসব নিখোঁজ ব্যক্তি ফিরে এসেছেন তাদের বেশিরভাগই এ নিয়ে মুখ খোলেননি। বিশ্লেষকরা বলছেন, অপহরণকারীরা অসীম ক্ষমতাধর বলেই তারা মুখ খুলছেন না। সাহস করে যে দু-একজন অপহরণকারীদের বিষয়ে আভাস দিয়েছেন তাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিকেই অভিযোগের আঙুল উঠে। সরকারকে যেমন বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ বা এর প্রতিকারে আগ্রহী মনে হয়নি, তেমন গুম-নিখোঁজের ঘটনা বন্ধ বা এর প্রতিকার আগ্রহী মনে হচ্ছে না। আমরা শুধু বলতে চাই, কোন নাগরিককে বিচারবহির্ভূত ভাবে হত্যা বা গুম করা হলে, দেশের কোন মানুষ নিখোঁজ হলে কোন গণতান্ত্রিক সরকার নিশ্চুপ থাকতে পারে না। শুধু পুলিশি রাষ্ট্রে এটা সম্ভব।

গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আমরা সরকারের কাছে এর প্রতিকার দাবি করছি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান রাষ্ট্রকেই দিতে হবে। গুম-অপহরণের সঙ্গে কে বা কারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া সরকারের দায়িত্ব। গুম-অপহরণ বা বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রতিকার করা না হলে সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগগুলো ভিত্তি পাবে।