menu

দিনলিপি : ২০১১

তানভীর মোকাম্মেল

  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১১

আশ্বিন ১৪, ১৪১৮

তারেক ও মিশুকের ব্যাপারে আগামীকাল ফিল্ম ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে মানববন্ধন, চলচ্চিত্রপ্রদর্শনী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ক্যাথেরীন এখন কাঠমুন্ডুতে আছে। ও থাকতে পারছে না। তবে ই-মেইলে জানিয়েছে ছবিগুলি পাওয়ার ব্যাপারে নাহিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে। সকালে মীরপুর রোডের ধানমন্ডী কলাবাগান অঞ্চলে হবে মানবন্ধন ও রাসেল স্কোয়ারে গণসঙ্গীত পরিবেশনা। দুপুরে ও বিকেলে ফিল্ম ইনস্টিটিউটে তারেকের কয়েকটা ছবির প্রদর্শনী হবে ও সন্ধ্যায় হবে আলোচনা অনুষ্ঠান। জাহাঙ্গীর তারেকের কাজের উপরে একটা পেপার পড়বে। আমি আর মুরাদ আলোচনা করব।

সুশীলবাবু বাংলাদেশ সম্পর্কিত ওঁদের প্রকাশনাটায় আমার “হুলিয়া” ছবিটার চিত্রনাট্য ছাপতে চেয়েছিলেন। আজ পাঠানো হোল।

মুশতাক ভাইয়ের কর্মচারী জাহাঙ্গীর ফোন করে জানাল আমার বার্মার ভিসাটা হয়েছে। যদিও এখনও আমার পাসপোর্টটা হাতে ফেরৎ পাইনি। যা হোক্ ভিসা হয়েছে, এখন টিকিটটা চূড়ান্ত করতে হবে।

অনেকদিন সাঁতার কাটা হয়নি। দুপুরে তাই বেশ কিছুক্ষণ সাঁতার কাটলাম।

সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১১

আশ্বিন ১৫, ১৪১৮

সকালে রাসেল স্কোয়ারে তারেক ও মিশুকের স্মরণে মানবন্ধন হোল। ফিল্ম ইনস্টিটিউট অ্যালামনি এসোসিয়েশনের উদ্যোগে। জনা পঞ্চাশেক ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিল। ভালই হয়েছিল কর্মসূচীটি।

সন্ধ্যায় ফিল্ম ইনস্টিটিউটে তারেক ও মিশুকের কাজ নিয়ে একটা আলোচনাসভা হোল। জাহাঙ্গীর একটা পেপার পড়ল। আমি আর মুরাদ আলোচনা করলাম। ঘরভরা শ্রোতা ছিল। আলোচনা অনুষ্ঠানটি বেশ ভালই হয়েছে বলব।

রাতে কলকাতায় ফোন করে মধূজার সঙ্গে কথা হোল। মধূজা জানাল যে ও বাংলাদেশের ভিসা পেয়েছে। তার মানে ও সাত তারিখে বাংলাদেশে আসছে এবং ওঁর কোর্সটি হচ্ছে। আশা করি কিছু ছাত্রছাত্রী ভর্তি হবে।

এদিকে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে ফিল্ম ইনস্টিটিউটের পঁচিশতম ফিল্ম অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্স। এ পর্যন্ত একুশজন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছে। আরো দু’একজন হবে বলে আশা করা যায়। সংখ্যাটা তিরিশ হলে আমার ভাল লাগত। কারণ তাহলেই কেবল খরচটা পোষানো যায়। ভর্তূকী দিতে হয় না।

অক্টোবর ০১, ২০১১

আশ্বিন ১৬, ১৪১৮

ফিল্ম ইনস্টিটিউটে আজ পঁচিশতম ফিল্ম অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল। মোট সাতাশজন ভর্তি হয়েছে। আজ চব্বিশতম কোর্সের সার্টিফিকেটও প্রদান করা হোল। তবে যেটা ভাল লাগছে যে ফিল্ম ইনস্টিটিউটে পঁচিশতম কোর্স শুরু করা গেছে। আমি সব সময় বিশ্বাস করে এসেছি যে ধারাবাহিকতাটা গুরুত্বপূর্ণ। বাঙ্গালীদের কাজে ধারাবাহিকতার একটা বড় অভাব থাকে। এটা আমাদের এক জাতীয় সমস্যা ! আমি এই সীমাবদ্ধতাটা কাটাতে চাই।

সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীর ও মনিস রফিক এসেছিল বাসায়। ওরা একটা প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল। তা’ হচ্ছে তারেকের উপরে ডিএফপি যে ছবিটা তৈরী করছে সেটা যেন আমি করি। বিষয়টা নিয়ে আমি কিছুটা চিন্তা করলাম। পরে ওদেরকে বললাম যে সবচে’ ভাল হয় যদি ক্যাথেরীন ছবিটা তৈরী করে। তারেককে ক্যাথেরীনের চেয়ে কেউ তো বেশী ভাল জানে না ! তাছাড়া এধরণের একটা ছবি মূলত: তৈরী হবে সম্পাদনা টেবিলে। আর ক্যাথেরীনের সম্পাদনা-ধারণা খুব ভাল। একটাই সমস্যা, ডিএফপি-র বাজেট তো কম। মাত্র চার লক্ষ টাকা ! এত কম টাকায় ছবি হওয়া মুশকিল। সেক্ষেত্রে আমাকে আর মোর্শেদকে তারেকের ছবিটার জন্যে কিছু অর্থ সংগ্রহে নামতে হতে পারে।

অক্টোবর ০২, ২০১১

আশ্বিন ১৭, ১৪১৮

ক্রেডিট কার্ডের শেষ টাকাগুলো আজ তুলে ছেলেদের এমাসের বেতন দিলাম। আর আমার কোনো টাকা নেই। এ মাসের বাড়ীভাড়া ও ফিল্ম ইনস্টিটিউটের ভাড়া কীভাবে দেব জানি না। তবে সবচে’ সমস্যায় পড়ব যখন আগামী মাসে “১৯৭১” ছবিটার চূড়ান্ত কাজ শেষ করতে ভারতে যাব। তখন আরো দু-আড়াই-লক্ষ টাকার প্রয়োজন পড়বে। এ টাকাটা কোথা থেকে পাব জানা নেই।

মতি ভাই ও বিনায়ক মিলে একটা তাত্ত্বিক পত্রিকা বের করেছেন দেখলাম। “প্রতিচিন্তা” নামে। তবে ভেতরে ভালো লেখা তেমন নেই। আসলে গভীর মননশীল লেখকের সংখ্যা এদেশে এত কম !

আজ ফিল্ম ইনস্টিটিউটে পঁচিশতম ফিল্ম অ্যাপ্রিসিশেয়ন কোর্সের প্রথম ক্লাসটি নিলাম। বিশ্বচলচ্চিত্রের ইতিহাসের উপর। বিকেলে ফিল্ম ইনস্টিটিউটে বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের তিনজন ছাত্রী আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। ওরা ফিল্ম ইনস্টিটিউট ও ফিল্ম সিটি সম্পর্কিত প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছে। আমার পরামর্শ চাইতে এসেছিল।

অক্টোবর ০৩, ২০১১

আশ্বিন ১৮, ১৪১৮

ঠিক হয়েছে ছয় তারিখে দশমীর দিন পিয়েরের সঙ্গে ধামরাইতে পূজা দেখতে যাব। বিশেষ করে বির্সজনের দিন যেতে চেয়েছি কারণ সারা দিন মন্ডপে ও নদীর পারে থেকে আমি ঢাকীদের কিছু স্থিরচিত্র তুলতে চাই। “জীবনঢুলী” ছবির জন্যে গবেষণার কাজে !

“লালন” ও “অচিন পাখী” যে রোমের লালন-উৎসবে দেখানো হচ্ছে সে ব্যাপারে আজ একটা প্রেস রিলিজ পাঠানো হোল। খবরটি ছাপার যোগ্য। তবে সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকা আমাদের খবর তেমন ছাপে না ! অনেক কম কাজ করেও অন্যরা যেমন প্রচার পায়, অনেক বেশী কাজ করেও আমাদের ইউনিট তেমনটি পায় না। প্রচারের আকর্ষণ আমার নিজের তেমন নেই। বরং আমার মনে হয় যে আমাদের শিল্পসৃষ্টির কাজে বেশী প্রচার-প্রচারণা বিঘœই ঘটায়। তবে আমার তরুণ সহকারীরা এতে বেশ ব্যথিত হয় এবং বঞ্চিত বোধ করে। ওদেরকে আমি গীতার ওই উপদেষ্টার কথা মাঝে মাঝে স্মরণ করাই “কর্মেই তোমার অধিকার, ফলে নয়।”

রাতে পূজা উপলক্ষে উত্তম-চিত্রাদের বাড়ীতে নেমন্তন্ন ছিল। চিত্রা নানারকম নিরামিষ রান্না করেছিল। অত্যন্ত সুস্বাদু সব খাবার।