menu

‘রুধিররঙ্গিণী’তে ‘হৃৎমঞ্চ’র যাত্রা শুরু

সংবাদ :
  • সাংস্কৃতিক বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বুধবার, ১৬ মে ২০১৮
image

হৃৎমঞ্চ’র ‘রুধিররঙ্গিণী’ নাটকের একটি দৃশ্য -সংবাদ

‘হৃৎমঞ্চ’ ঢাকার মঞ্চনাট্যাঙ্গনে নতুন রেপার্টরি থিয়েটার দলের নাম। যার প্রধান নাট্য-অভিপ্রায়ে আছে হৃদয়ের গভীরে লুকানো কথা ও কাহিনীকে মঞ্চে প্রকাশ করা। বাংলা নাট্যসাহিত্যিকে সমুন্নত করা এবং নাট্যকথাশিল্পের নতুন বিন্যাস ও শিল্প আর জীবনোপলব্ধির মধুর রসায়ন ঘটানোর আকাক্সক্ষা ও প্রয়াসের এই নাট্যদলটি শুরু করল নাট্যাঙ্গনে তার পথ চলা। গতকাল সন্ধ্যায় অক্ষরবৃত্ত ছন্দে লেখা বাংলার ওলটপুরাণ ‘রুধিররঙ্গিণী’ নাটকের উদ্বোধনী প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে শুরু হয় নাট্যদলটির পথচলা।

অভিজ্ঞতার প্রজ্ঞা ও নতুনের উদ্দীপনার একটা সম্মিলন হয়ে ওঠার ইচ্ছার প্রথম প্রকাশের এ নাটকের এক ঘণ্টার একটু বেশি সময়ের ভেলায় ভেসে আমরা দেখলাম, এক নারীর হৃদয়যাত্রার গল্প। যেখানে সরলভাবে উপস্থাপিত হলো-ইতিহাস, বাস্তবতা, পরিপার্শ্ব নিজের কথিত ভবিতব্য ও নিয়তির বাণী সবকিছুকে অস্বীকার করে মনে-প্রাণে ও শরীরে দুর্নিবারভাবে প্রেমকে অনুভব করতে চাওয়ার দৃঢ় সংকল্প। সে প্রেমের গল্প নিয়ে গতকাল রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হলো শুভাশিষ সিনহার রচনা ও নির্দেশনায় নতুন নাটক ‘রুধিররঙ্গিণী’র উদ্বোধনী মঞ্চায়ন।

বাংলা মঞ্চ নাটকের তিন প্রজন্মের তিন গুণী অভিনয়শিল্পী রোকেয়া রফিক বেবী, আবুল কালাম আজাদ ও জ্যোতি সিনহা অভিনীত এ নাটকটি ১৯ মে পর্যন্ত প্রতিদিন একই মিলনায়তনে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মঞ্চস্থ হবে। সে সঙ্গে আগামী ১৮ ও ১৯ মে বিকেল ৫টায় নাট্যকর্মী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ মূল্য ছাড়ে দুটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। নাটকটি মঞ্চায়নে সহযোগিতা করছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও শিল্পকলা একাডেমি।

নাটকটির রচয়িতা ও নির্দেশক শুভাশিষ সিনহা বলেন, নাটকটি নিয়ে আমার সহজের পথে। আমার পূর্ববর্তী কাজগুলো থেকেও এটি সরলতর। কিন্তু সুন্দরকে পাওয়ার বা পাওয়ার জন্য মরিয়া। শ্লাঘা-যন্ত্রণা-বেদনা-প্রেম-পরিহাস সবকিছুকে সুন্দরের অঙ্গে মুদ্রায় ভাষ্যে ধরার খেলায় মুখর। একটি গভীর ও সুক্ষ তন্ত্রীতে নাট্যমুহূর্তগুলোকে সহজভাবে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করেছি। তিনি বলেন, প্রায়শই বলা হয়ে থাকে, আমাদের সমকালীন নাট্যসাহিত্য দুর্বল, ‘রুধিররঙ্গিণী’ সেই মতকে খারিজ করবে বলেই আশা করা যায়। প্রাচ্যের নারীর মন ও শরীরের স্বাধীনে”চ্ছাকে নানা উছিলায় সমাজ যেভাবে দমন করে তার বিরুদ্ধে এটি একটি উলটোবাখ্যান বা এন্টিথিসিস। তিনি জানান, ভবিষ্যতেও নাটকটির আরও প্রদর্শনী করার ইচ্ছা রয়েছে। তবে একসঙ্গে একধিক প্রদর্শনী করা হবে।