menu

‘বাসযোগ্য নগর গড়তে পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়ন দরকার’

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , শুক্রবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৮

বাসযোগ্য টেকসই নগর গড়তে পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু ঢাকা নয়, বাইরের নগরী নিয়ে এমন পরিকল্পনা করার কথা বলেছেন তারা। তাদের মতে, পরিকল্পিত নগরায়নের ক্ষেত্রে নগরের বাসযোগ্যতা, নাগরিকের মানসিক স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু বিদ্যমান পরিকল্পনায় এসব বিষয় অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত। গতকাল বাংলামটরের প্ল্যানার্স টাওয়ারে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) ‘সমসাময়িক পরিকল্পনা ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। বিশ^ নগর পরিকল্পনা দিবস উপলক্ষে বিআইপির দশ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সেমিনার সভার আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনে সহযোগী হিসেবে রয়েছে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম, শেলটেক, ইস্টার্ন হাউজিং ও ব্র্যাক।

বিআইপির সভাপতি অধ্যাপক একেএম আবুল কালামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক তত্ত্বাধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। বিআইপির সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিআইপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আখতার মাহমুদ, বিআইপির সহসভাপতি ফজলে রেজা সুমন, ব্র্যাকের কর্মসূচি প্রধান হাসিনা মোশারেফা, নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি অমিতোষ পাল প্রমুখ। সেমিনারে বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা আধুনিক নগরায়ন নিয়ে তাদের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন। বিকেলে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিকল্পনা বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, নগরের পরিধি বৃদ্ধির বিষয়ে ধারণাগত বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। শহরের সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়ন জরুরি। একদিকে অতি ধনী অন্য দিকে অতি দরিদ্র অবস্থান হলে নগরের সামঞ্জস্যতা হারায়। পরিকল্পিত নগরায়নের ক্ষেত্রে নগরের বাসযোগ্যতা, নাগরিকের মানসিক স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু বিদ্যমান পরিকল্পনায় এসব বিষয় অনেক ক্ষেত্রেই উপেক্ষিত। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়ন হলেই সেটা হবে টেকসই নগর। তিনি আরও বলেন, নগর শব্দটা আমরা যখন ব্যবহার করছি, তখনই সব নগরের সমস্যা সামনে চলে আসে। প্রত্যেক নগরের মধ্যে বড় ধরনের কিছু বাস্তবিক প্রার্থক্য রয়েছে। আমাদের আরবন স্প্রেকট্রামের একটা ধারণা মাথায় নেয়া খুব জরুরি। ওই ধারণায় প্রত্যেকটা নগরীকে একইভাবে চিন্তা করার কথা বলা হয়েছে। আর এ জন্য শুধু ঢাকা নগরী নিয়ে পরিকল্পনা করলে হবে না, ঢাকার বাইরে অন্যান্য নগরীকে নিয়ে ভিন্ন পরিকল্পনা করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্য বিআইপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ট্যানারি স্থানান্তর হয়েছে বুড়িগঙ্গা নদীকে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু উল্টো হয়েছে। এখন ধলেশ্বরী নদী বুড়িগঙ্গার মতো হচ্ছে। সুতরাং এখন সরকারকে এ নদী বাঁচানোর উদ্যোগ নিতে হবে। বাসযোগ্য নগর গড়তে পরিকল্পিত নগরায়নের ওপর জোর গুরুত্ব দিয়ে অন্যান্য বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে নগর বাড়ছে। এতে তারা উৎসাহিত। পাশাপাশি চিন্তিতও। কারণ নগর ব্যবস্থাপনা পরিকল্পিত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে অনেক ঘাটতি রয়েছে। ফলে নগরগুলো বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নগর পরিকল্পনাবিদদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রয়োজন।