menu

২৯৮টি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট

সংবাদ :
  • ইকবাল মজুমদার তৌহিদ
  • ঢাকা , রবিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০১৯

উচ্চ আদালতে নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিলের আবেদন জানিয়ে শীঘ্রই ২৯৮টি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন সংবাদকে এ তথ্য জানান। এ বিষয়ে খন্দকার মাহবুব বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে যিনি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি আইনসম্মতভাবে হননি, তার পদটি বাতিল করে যিনি আবেদন করেছেন তাকে সংসদ সদস্য ঘোষণা করা যেতে পারে অথবা পুরো নির্বাচনটিই বাতিল চেয়ে পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবি করা যেতে পারে। এ নিয়ে খুব শীঘ্রই ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট দেশি ও আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য নানা অনিয়ম, কারচুপি ও সহিংসতার অভিযোগ এনে গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট ও বামজোটগুলো। তাদের অভিযোগের (ভোট ডাকাতিসহ নানা অনিয়ম) প্রমাণসহ নানা চিত্র ডকুমেন্ট আকারে আদালত ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। এর আগে গত ৩-৪ দিন বিএনপি তাদের প্রার্থীদের মাধ্যমে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনভিত্তিক অনিয়মের চিত্র তথ্য-উপাত্ত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা নিচ্ছে বলে জানা যায়। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রার্থীদের কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই এ তথ্য জমা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দলটির একাধিক নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতা। এ নিয়ে খুব শীঘ্রই মামলা করা হবে বলেও জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। এদিকে গত শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত গণশুনানিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থীরা নির্বাচনে ভোট ডাকাতি ও কেন্দ্র দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেছেন। গণশুনানিতে ১৩১ জন প্রার্থী নির্বাচনের দিনে অনিয়মের কথা তুলে ধরেন। ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী সংবাদকে জানান, ইতিমধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশে ভোট ডাকাতির ভিডিও চিত্র এবং নানান ডকুমেন্ট পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও নির্বাচনের আইনগত বৈধতা প্রশ্নে আদালতে বিচার চাওয়ার বিষয়টি জোরালোভাবেও তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।

বিস্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে দলীয় প্রার্থীদের মাধ্যমে শতশত ভিডিও চিত্র বিএনপি সংগ্রহ করেছে। বিএনপির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের দাবি, আগে থেকে ভোট জালিয়াতির ইঙ্গিত পেয়ে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা ক্ষমতাসীন দলের দলীয় ব্যাচ লাগিয়ে ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করে। এ সময় তারা গোপনে নির্বাচনের নানা অনিয়মের চিত্র ও ভিডিও চিত্র ধারণ করে দলীয় হাইকমান্ডকে দেয়। যারা ভোটের রাতে ও ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে সরকারি দলের ব্যাজ পড়ে থাকবে আর অনিয়মের চিত্র গোপনে তুলে রাখবে তাদের জন্য তাৎক্ষণিক অর্থবরাদ্দও করে দলটি। এসব গোপন মাধ্যমে বিএনপি এরই মধ্যে কয়েকশ ভিডিওচিত্র হাতে পেয়েছে বলেও দলটির একাধিক নেতার দাবি। এসব ডকুমেন্টের ভিত্তিতেই আদালতে যাবে বিএনপি।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান দুদু সংবাদকে বলেন, আমরা একাদশ সংসদ নির্বাচনের সার্বিক বিষয়গুলো নিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোট, বামফ্রন্ট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও সরকারের বাইরে থাকা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করব। এদিকে নির্বাচনের পর থেকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পাচ্ছে না স্বজনরা। এ নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রেস ব্রিফিং করে অভিযোগও করেছেন। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক নেতা জানান, খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের সিনিয়র নেতাদের সাক্ষাতের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। সাক্ষাতের অনুমতি মিললে দলের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। কারাগার থেকে খালেদার নির্দেশনা নিয়েই বিএনপি মাঠে নামবে বলে দলটির সিংহভাগ নেতাদের দাবি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) বলেন, বামজোটের প্রার্থীরা হারলেও ভোটের চিত্র দেশবাসীকে একটি বড় বার্তা দিয়েছে। দলীয় সরকারের অধীনে যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না তা স্পষ্ট হয়েছে। ভবিষ্যতে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার কোন যুক্তিই এখন টিকবে না। দেশের সচেতন মানুষ, যে সব তরুণ ভোটাররা প্রথম বছরেই ভোট প্রয়োগের অধিকার বাস্তবায়ন করতে পারেনি তাদের কাছে এ ধরনের নির্বাচন কখনোই আর গ্রহণযোগ্যতা পাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গত শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাম গণতান্ত্রিক জোটের গণশুনানির বক্তব্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে বহু অভিযোগ আছে। এটি নজিরবিহীন একটি ভুয়া ভোটের নির্বাচন। বাম গণতান্ত্রিক জোট এবারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৩১টি আসনে ১৪৭ জন প্রার্থী অংশ নেয়। দিনব্যাপী ওই গণশুনানি অনুষ্ঠানে বাম দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়া ৮০ জন প্রার্থী তাদের নির্বাচনী এলাকায় ভোটের সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ওই গণশুনানিতে বামজোটের প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক কলঙ্কিত নির্বাচন। এমন কলঙ্কজনক নির্বাচন দেশের ইতিহাসে আর হয়নি।