menu

১০ বছরে একটি নদীও উদ্ধার হয়নি

বাপা

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

গত ১০ বছরে একটি নদীও পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি উল্লেখ করে পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বলছে, ভুল পিলার বসানোয় ‘একশন’ বাস্তবে ও শেষ বিচারে অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণই থেকে যাচ্ছে। প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে সরকারের নদী রক্ষার উদ্যোগে সুফল মিলছে না।

গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলে বাপা। বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাপার সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন। সংবাদ সম্মেলনে বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব মিহির বিশ্বাস, অধ্যাপক ড. আহম্মদ কামরুজ্জামান মজুমদার, বাপার যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল ও রিভারাইন পিপলের প্রধান নির্বাহী শেখ রোকনসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

আবদুল মতিন বলেন, হাইকোর্টের রায়ে নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’, ‘আইনি সত্তা’ ও ‘আইনি ব্যক্তি’ হিসেবে ভূষিত করা হয়েছে। আমরা সরকারি সকল দফতরকে সার্বিক সহযোগিতা দেয়ার পরও গত ১০ বছরেও একটি নদীও পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি। আমরা বিশ্বাস করি সরকার ইচ্ছে করলে নদী রক্ষা করতে পারে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর নদী রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সারাদেশে চার হাজার ৪৪৩ জন নদী দখলকারী চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকা ধরে পর্যায়ক্রমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের নদীগুলো শিল্পপতি ও ক্ষমতাসীনদের লুটপাটের কবলে। সরকারের ওপর মহল থেকে যে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে, তা নিচের স্তরে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। শুধুমাত্র প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে একদিকে নদী থেকে দখল উচ্ছেদ হচ্ছে, অন্যদিকে আবার দখল হচ্ছে। নদী রক্ষায় কোন সুফল মিলছে না।

কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ নদীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নদীগুলোকেও রক্ষায় কাজ করতে হবে। প্রতি বছর গড়ে ১টি নদী ও ১৫টি খাল বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। যা সারাবিশ্বের জন্য হুমকিস্বরূপ।

২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব নদী দিবস সামনে রেখে আগের দিন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ওই দিন সকালে ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে ঢাকায় ৭০টি সংগঠনের নেতকর্মীরা জমায়েত হয়ে পদযাত্রা শুরু করবে। এটি বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে সদরঘাট টার্মিনালে গিয়ে শেষ হবে। এরপর নদী রক্ষায় বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা হবে। এতে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকারের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বলে জানানো হয়।