menu

সিলেটে পত্রিকার সম্পাদকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বাদী ওয়ার্ড কাউন্সিলর

সংবাদ :
  • প্রতিনিধি, সিলেট
  • ঢাকা , রবিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০

সিলেটে সংবাদ প্রকাশ ও ফেসবুকে শেয়ার করায় স্থানীয় দৈনিক একাত্তরের কথা’র সম্পাদক, প্রকাশক, প্রতিবেদকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। মহানগর পুলিশের শাহপরাণ (রহ.) থানায় গত শুক্রবার রাতে মামলাটি করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও নগর আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ছালেহ আহমদ সেলিম।

শাহপরাণ (রহ.) থানার ওসি আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শেষে মামলাটি ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারায় নথিভুক্ত করা হয়েছে।

মামলায় আসামি করা হয়েছে পত্রিকাটির সম্পাদক চৌধুরী মুমতাজ আহমদ, প্রকাশক মো. নজরুল ইসলাম, প্রতিবেদক সাঈদ চৌধুরী, জিকরুল ইসলাম, মো. মুহিত, ‘অ্যাডমিন’ (পত্রিকার প্রশাসনিক কর্মকর্তা) আহমদ মারুফসহ ১৮ জনকে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার আসামিদের মধ্যে সাতজন সাংবাদিক রয়েছেন। পত্রিকাসংশ্লিষ্ট নন এমন চার পাঁচজনকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে। আসামিদের সম্পর্কে মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, ‘একে অপরের সহায়তায় অনলাইন পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা ও মানহানিকর এবং আইনশৃঙ্খলা অবনতি ঘটানোর সংবাদ ও তথ্য প্রকাশ করার অপরাধ।’

মামলার এজাহারে বলা হয়, ‘একাত্তরের কথা’ পত্রিকায় গত ২৮ নভেম্বর ‘ভয়ে চুপ উপশহর’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এই প্রতিবেদন অনলাইনেও প্রচারিত হয়। সম্পাদক-প্রকাশকসহ প্রতিবেদক ছয়জন প্রতিবেদনটি প্রচার করেছেন এবং বাকি ১১ জন সংবাদটি ফেসবুকে প্রচার করেন। এতে এলাকায় অস্থিরতা ও চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। সংবাদ প্রচার ও ফেসবুকে শেয়ার করে ‘ভাইরাল’ করায় সামাজিক মূল্যবোধ ও অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।

চৌধুরী মুমতাজ আহমদ সিলেটের একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারে গণমাধ্যমকর্মীরা যে হয়রানি শিকার হচ্ছেন, তার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মামলাটি। তার বিরুদ্ধে একটি নয়, পরপর কয়েকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে সাংবাদিকতার সব নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে।

মুমতাজ আহমদ বলেন, প্রকাশিত সংবাদে তিনি অসন্তুষ্ট হতেই পারেন। মানহানি বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রতিবাদ জানাতে পারতেন, মানহানির মামলা কিংবা প্রেস কাউন্সিলে নালিশ করতে পারতেন। তা না করে হয়রানি করতেই এই মামলা করেছেন। একটি সংবাদ প্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তা প্রচার করার মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কী করে প্রয়োগ হয়?

এর আগে ২ ডিসেম্বর রাতে পত্রিকার প্রকাশক নজরুল ইসলাম ও সম্পাদক চৌধুরী মুমতাজকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধরনের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের অভিযোগে কাউন্সিলর সেলিমের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একই আইনে একটি মামলা করেন নজরুল ইসলামের ব?্যক্তিগত সহকারী রানা মিয়া।