menu

শাহবাগের মোড় চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের অভয়ারণ্য

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৭ মে ২০১৮

রাজধানীর শাহবাগ মোড় ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজদের ক্রাইম জোন। ছিনতাইকারীরা সকাল থেকে রাত ছিনতাই করে। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বারডেম হাসপাতালের মাঝখানের প্রধান সড়ক পারাপারের ফুটওভারব্রিজটিতেও দোকান বসে। ফুটওভারব্রিজ দিয়ে দুই হাসপাতালের কর্মকর্তা ও রোগীরা বেশি যাতায়াত করে। কিন্তু সেখানে মানুষের হাঁটার সুযোগ সেই। পুলিশকে বারবার অনুরোধ করলেও পুলিশ সেখান থেকে দোকান উচ্ছেদ করেনি। দোকান থেকে চাঁদা আদায় নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে এক চাঁদাবাজের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গত মঙ্গলবার ক্ষুদ্র দোকানি নুরনবী খুন হয়েছে। স্থানীয় জনতা হত্যাকারীকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করলেও পুলিশ বলছে সে মানসিক অসুস্থ। পুলিশের এমন বক্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে মানসিক অসুস্থ ব্যক্তি কিভাবে চাঁদাবাজি করে। এদিকে ক্ষুদ্র দোকানি হত্যার পর ওই ব্রিজ দিয়ে ডাক্তার, কর্মকর্তা ও পথচারীরা হাঁটতে ভয় পাচ্ছে, তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর ৩টি বড় হাসপাতালে যেতে হলে শাহবাগ মোড় অতিক্রম করতে হয়। এই তিনটি হাসপাতালের কর্মরত ডাক্তার, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সবাই সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে কর্মস্থলে যান। আবার দুপুর আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে অনেকেই শিফট ডিউটি শেষ করে বাসায় ফেরেন। তারা সবাই শাহবাগ চত্বর অতিক্রম করতে হয়। আবার অনেকেই হাঁটুর ব্যথা, পায়ের ব্যথাসহ ব্যথাজনিত কারণে ওভারব্রিজে উঠতে কষ্ট হয়। তারা সকালে ক্রসিং হেঁটেও পার হয়। ওই সময় সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র, মাদকসেবীরা ছেলেদের মোবাইল ছিনতাই, মেয়েদের ব্যাগ থেকে মোবাইল ও টাকা ছিনতাই করে। মেয়েরা যানবাহন চলাচলের মধ্যে ছিনতাইয়ের প্রতিবাদ করে কোন মতে রাস্তা পার হয়ে নিরাপদে কর্মস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করে। প্রতিদিন শাহবাগ মোড়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। মোবাইল ফোন, গলার ও কানের স্বর্ণালঙ্কার যাই পায় তাই নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্বে থাকলেও তারা ছিনতাই, পকেটমার দেখার সময় তাদের নেই। টেলিফোনেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাউকে পাওয়া যায় না। হাত নেড়ে গাড়ি পার করাই তার ডিউটি। পথচারীর চিৎকারে কেউ এগিয়ে আসে না। এটা নিত্যদিনের ঘটনা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বারডেম হাসপাতাল। পুলিশের সামনে বারডেম হাসপাতালের দক্ষিণ পাশে ব্রিজের নিচে ও ফুটপাতে নেশাগ্রস্তরা আড্ডা দেয়। রাস্তা দখল করে দোকান বসে। পুলিশ দেখেও দেখে না। এছাড়াও শাহবাগ মোড়ের ব্যাংকের সামনে ছোট বটগাছ তলায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নেশাগ্রস্ত ও ছিনতাইকারীরা অবস্থান নেয়। বাসে উঠার সময় তাড়াহুড়ার মধ্যে মেয়েদের ব্যাগে হাত নিয়ে মোবাইল ও টাকা নিয়ে যায়। ছিনতাইকারীদের প্রভাবশালী গডফাদারও রয়েছে। তারা ছিনতাইকারীদের নিয়ন্ত্রণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর দুই হাসপাতাল ও ফুটওভারব্রিজে বসা দোকান থেকে দলবাজরা নিয়মিত চাঁদা আদায় করে। দোকান বসার সুযোগ দিয়ে বিনিময়ে ১০০ থেকে ২০০ টাকা নেয়া হয়। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার ক্ষুদ্র দোকানি নুরনবীকে ওভারব্রিজের উপরে নির্মমভাবে হত্যা করে চাঁদাবাজ খায়রুল। এর আগে সেখানে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ঘটলে পুলিশ মামলা নেয়, তদন্ত করে। কিন্তু সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তার জন্য আগ থেকে অপরাধী দমন করলে আর অপরাধ করার সুযোগ থাকে না বলে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। সরকারে গোয়েন্দা সংস্থা শাহবাগ মোড়ে অপরাধ নিয়ে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। পুলিশের রমনা জোনের ডিসি মারুফ হোসেন সর্দার বলেন, শাহবাগে ফুটওভারব্রিজে আর যাতে দোকান না বসে সে ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেখানে পুলিশ টহল দিচ্ছে।