menu

শরীয়তপুরে নদীভাঙন ঠেকাতে মন্ত্রীদের তৎপরতা

আজ ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন

সংবাদ :
  • জেলা বার্তা পরিবেশন, বরিশাল
  • ঢাকা , রবিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০১৯

গত বছর বর্ষার শেষভাগে ফুঁসে ওঠা পদ্মার ভাঙনে নড়িয়া ও জাজিরার গ্রামের পর গ্রাম নদীতে চলে গেছে। সে সময়ে বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়েও বিশেষ মনযোগ আকর্ষণ করে। ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একনেকে অনুমোদন লাভের সাড়ে ৯ মাস পরে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রস্তাবটি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির অনুমোদন লাভ করে। এরও এক মাস ২০ দিন পর গত বছর ২৯ অক্টোবর নৌবাহিনীর অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান-খুলনা শিপইয়ার্ডের সাথে প্রকল্প বাস্তবায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের। ইতোমধ্যে খুলনা শিপইয়ার্ড ভাঙন রোধে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরুও করেছে। ভাঙন রোধে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিপুল পরিমাণ জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজও শুরু হয়েছে।

এ অবস্থাতেই আজ রোববার পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী শরীয়তপুরের ভাঙন কবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনে যাবেন। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে তারা সেখানে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।

শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া-জাজিরা পয়েন্টে ভয়াবহতম নদী ভাঙন রোধে এক বছর আগে ১ হাজার ৯৭ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে একটি প্রকল্প একনেকের চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করলেও এখনো তার পরিপূর্ণ নকশা প্রণয়ন সম্পন্ন হয়নি। অনুমোদনের ৯ মাস পরে গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রস্তাবনাটি’ ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন লাভ করে। গত ৯ ডিসেম্বর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে জিও ব্যাগ ফেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। এ অবস্থাতেই পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম একই মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এনামুল হককে সাথে নিয়ে আজ রোববার নড়িয়ার ভাঙন কবলিত এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিরোধ কার্যক্রমের অগ্রগতি তদারক করবেন। এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকসহ খুলনা শিপইয়ার্ডের এমডি এবং উচ্চপর্যায়ের সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাগণও উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে শরীয়তপুরের জাজিরা-নড়িয়া এলাকায় পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে গেছেন। বহু মানুষ বাস্তুহারায় পরিণত হয়েছে। পদ্মায় বিলীন হয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকার অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পের আওতায় ভাঙন কবলিত শরীয়তপুরের ঠাকুর বাজার, বাঁশতলা, কুন্ডের চর সংলগ্ন প্রায় ৯ কিলোমিটার এলাকায় ১ কোটি ৫৩ লাখ ৬ হাজার ৪০৭টি সিসি ব্লক, ৪৫ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতার ৫৩ লাখ ৬ হাজার ১২১টি সিসি ব্লক এবং ৫০ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতার ১ লাখ ১৭ হাজারটি সিসি ব্লক দিয়ে পদ্মা নদীর ৯ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধ করা হবে। পাশাপাশি ভাঙনের তীব্রতা হ্রাসে নদীর গতিপথ পরিবর্তনে ১০ কিলোমিটার এলাকায় ৩৩ লাখ ৩২ হাজার কিউবিক মিটার পলি অপসারণ করা হবে।