menu

স্মরণসভায় বক্তারা

শওকত ওসমানের লেখার বিষয় ছিল মানুষ ও মানবতাবাদ

সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বুধবার, ১৫ মে ২০১৯
image

গতকাল জাতীয় জাদুঘরে শওকত ওসমানের স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন রবীন্দ্র গবেষক আহমদ রফিক -সংবাদ

বাংলা কথাসাহিত্যে শওকত ওসমান বিশ শতকের শ্রেষ্ঠতম বাঙালিদের একজন ছিলেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক ছিলেন। তার রচনায় তুলে ধরা হয় বাংলা সাহিত্যের চিত্র। তিনি আজীবন সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ বিরোধী চেতনার উন্মেষ ঘটিয়েছেন। গতকাল রাজধানীর জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে শওকত ওসমানের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। স্মরণ সভাটির আয়োজন করে শওকত ওসমান স্মৃতি পরিষদ।

ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিকের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়কমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, জাতীয় কারিকুলাম ও টেক্সট বুক বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক কফিল উদ্দিন আহাম্মদ, বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী, কথাশিল্পী শওকত ওসমান স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক দিপু সিদ্দিকী ও গণগ্রন্থাকার অধিদফতরের মহাপরিচালক আবদুল মান্নান ইলিয়াস।

স্মরণ সভায় বক্তারা শওকত ওসমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্বরণ করে বলেন, প্রবাদ পুরুষ কথাশিল্পী শওকত ওসমান আজন্ম শোষকের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তার রচিত ‘ক্রীতদাসের হাসি’ সর্বকালের স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে গণজাগরণের দিশারী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বক্তারা আরও বলেন, তিনি (শওকত ওসমান) অত্যন্ত সাবলিলভাবে লেখালেখি করে বাংলা সাহিত্যকে আরও সমৃদ্ধ করেন তিনি মূলত কথাশিল্পী ছিলেন, কিন্তু তিনি লিখেছেন একাধারে সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায়। উপন্যাস, গল্প, নাটক, প্রবন্ধ, রম্য, স্মৃতিকথা এবং শিশুদের জন্যও লিখেছেন। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লিখেছেন একটি কাব্যগ্রন্থ ‘শেখের সন্তানরা’।

বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, লেখালেখি ও শিক্ষকতার বাইরে বাবা ভালো এসরাজ বাজাতেন। আমাকেও তার সঙ্গে গাইতে হতো। বাবার খুব পছন্দের ছিল ‘তুমি নির্মল কর মঙ্গল কর’ গানটি। শুদ্ধ মানুষ হিসেবে বাঁচতে হলে নিজেকে অনেক কিছু থেকে সরিয়ে রাখতে হয়। বাবা সেটা পেরেছিলেন। তিনি আরও বলেন, লোভ লালসা ছাড়া যে মানুষ হয়, সেটা বাবাকে (শওকত ওসমান) না দেখলে জানা হতো না। এই মাটিতে এ রকম মানুষ আরও আছেন। আমরা তাদের চিনতে পারি না। নিজেদের স্বার্থে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে তাকে নিয়ে আমাদের আলোচনা করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে আহমদ রফিক বলেন, শওকত ভাইয়ের মতো স্যাটায়ার সাহিত্য আর কেউ করতে পারেনি। তার রচনার বিষয় ছিল মানুষ ও মানবতাবাদ। তার সব কর্ম আবর্তিত হয়েছে বাংলার মানুষকে ঘিরে। তরুণদের সঙ্গে তার সংযোগ ছিল। তরুণদের তিনি সাহস ও লেখার প্রেরণা যুগিয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশেছেন এবং একসঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করতেন, যেন ভালো কিছু বের করা যায়। তিনি বলেন, সমাজের যেকোন মানুষের সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকে। এই মাটির কাছে আমাদের যে ঋণ, সেটা সবারই শোধ করা উচিত। শওকত ভাই সেটা করেছেন। আপনাদেরও সেই ঋণ শোধ করার সময় এসেছে এবং শোধ করতে হবে।