menu

মায়ানমারকেই

রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরার পরিবেশ তৈরি করতে হবে

মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮

রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরে যাওয়ার মতো সুষ্ঠু পরিবেশ মায়ানমারকেই সৃষ্টি করতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল আর মিলার। গতকাল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের দ্বিতীয় তিনি এই মন্তব্য করেন। এসময় বনায়নের অংশ হিসেবে বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি গাছের চারা রোপণ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তবে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের জন্য মায়ানমারের অভ্যন্তরে নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। মিলার বলেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার মতো সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে মায়ানমারকেই। এছাড়া নিরাপদভাবে ও স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য রোহিঙ্গাদের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক মহলে মায়ানমারের ওপর চাপ বাড়াবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে গিয়ে কক্সবাজারের পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তা অপূরণীয়। কীভাবে এ ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যায় এবং পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যায় এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সহায়তা করবে।

পরবর্তীতে কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার বেসরকারি ক্লিনিক সূর্যের হাসি ক্লিনিক পরিদর্শন করেন মিলার। তিনি এ ক্লিনিকের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও যুগোপযোগী করতে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বস্ত করেন। এ সময় মিশন ডিরেক্টরের ডেরিক ব্রাউন, সিওপি সিনিয়র ড. সুকুমার ও জেমস্ এল গ্রিফিন এনটিএর আবদুল মতিন ও শেখ নজরুল ইসলাম এবং ক্লিনিক ম্যানেজার অজয় কুমার চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার সকালে ৩ দিনের সফরে কক্সবাজার পৌঁছেন মিলার। প্রথম দিন নাইক্ষ্যংছড়ির কোনার পাড়ার শূন্য রেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্প ঘুরে দেখেন এবং রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। গতকাল টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং আজ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তার ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। কক্সবাজারে এটি মিলারের প্রথম সফর।

এক বছরেরও বেশি সময় আগে মায়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর অভিযান থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম। নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দিন কাটাচ্ছেন তারা।