menu

রমজানে দুস্থদের ১০ কেজি করে চাল দেবে সরকার

    সংবাদ :
  • নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
  • ঢাকা , বুধবার, ১৬ মে ২০১৮

রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় দেশের অতিদরিদ্র ও অসহায় দুস্থ পরিবারকে বিনামূল্যে ১০ কেজি করে চাল দেবে সরকার, যা বিতরণের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদেরও ভূমিকা থাকবে। অতিদরিদ্র ও দুস্থদের জন্য ৬৪ জেলার ৪৯১টি উপজেলার জন্য ৮৮ হাজার টন চাল এবং ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’ ক্যাটাগরির ৩২৮টি পৌরসভার জন্য ১২ হাজার ১৫৩ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মোট এক লাখ ১৫৩ টন চাল বরাদ্দ দিয়ে সম্প্রতি সব জেলা প্রশাসককে চিঠি পাঠিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর।

চিঠিতে বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসকরা ভিজিএফ বরাদ্দের বিষয়ে নিজ নিজ এলাকায় সংসদ সদস্যদের ‘অবহিত করবেন’। বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য আগামী ১৪ জুনের মধ্যে তুলে রোজার ঈদের আগেই তা বিতরণ করতে বলা হয়েছে চাল বিতরণ শেষ করার সাত দিনের মধ্যে ব্যয়ের প্রতিবেদন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরে পাঠাতে হবে। ভিজিএফ উপকারভোগী বাছাইয়ে ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক বরাদ্দকৃত ভিজিএফ কার্ডের সংখ্যা পুনঃবিভাজন করে তালিকা তৈরি করতে হবে।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, দুস্থ বা অতিদরিদ্র ব্যক্তি বা পরিবারকে এই খাদ্য সহায়তা দিতে হবে। তবে সাম্প্রতিক বন্যাক্রান্ত ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ ও অতিদরিদ্ররা অগ্রাধিকার পাবেন। সরকারের বেধে দেয়া ১২ শর্তের মধ্যে চারটি পূরণ করে এমন ব্যক্তি বা পরিবারকে দুস্থ হিসেবে গণ্য করে সহায়তা দিতে হবে।

সরকারের বেধে দেয়া ১২ শর্ত হলো; যে পরিবারের ভিটাবাড়ী ছাড়া মালিকানায় কোন জমি নেই। দিনমজুর, নারী শ্রমিকের আয় বা ভিক্ষাবৃত্তির উপর নির্ভরশীল। উপার্জনক্ষম পূর্ণ বয়স্ক কোন পুরুষ সদস্য নেই। স্কুলগামী শিশুকে উপার্জনের জন্য কাজ করতে হয়। উপার্জনশীল কোন সম্পদ নেই। প্রধান স্বামী পরিত্যক্ত, বিচ্ছিন্ন বা তালাকপ্রাপ্ত নারী। অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা, অস্বচ্ছল ও অক্ষম প্রতিবন্ধী। কোন ক্ষুদ্র ঋণপ্রাপ্ত হয়নি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়ে চরম খাদ্য বা অর্থ সংকটে পড়েছে। সদস্যরা বছরের অধিকাংশ সময় দু’বেলা খাবার পায় না। তারাই এই সুবিধা ভুক্ত হবে।

উল্লেখ্য, একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি যাতে ভিজিএফ কার্ড না পায়, সেভাবে অসহায় ও দুস্থদের তালিকা প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। উপকারভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৭০ শতাংশ মহিলার অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্ট জেলা পুনর্বাসন কর্মকর্তা ও উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা দায়ভার বহন করবেন।