menu

রংপুরে রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশের মধ্যেও অনেক মাদকসেবী আছেন

ডিআইজি ফারুক

সংবাদ :
  • লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৭ মে ২০১৮

পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুখ বলেছেন, রংপুর বিভাগে পুলিশ, রাজনৈতিক দলের নেতা, সরকারি কর্মচারীদের অনেকেই মাদকসেবী আছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। তবে কোন পুলিশ সদস্য যদি মাদক ব্যবসায়ী হয় প্রমাণ পেলে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হবে। আর মাদকসেবী হলে ডোপ টেস্ট করা হবে প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুত করে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হবে। কোন মাদকসেবী পুলিশে চাকরি করার অধিকার নেই। তিনি গতকাল দুপুরে ডিআইজি কার্যালয়ে রংপুর বিভাগীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে পবিত্র রমজান ও ঈদ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন। ডিআইজি বলেন, পবিত্র রমাজান ও ঈদ উপলক্ষে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, রাহাজানি, চুরি, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, মহাসড়কে যান চলাচলসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি মার্কেটে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল জোরদার করাসহ পুরো বিভাগকে নিরাপত্তার চাঁদরে ঢেকে দেয়া হবে বলে জানান। এছাড়াও ঈদের আগে ও পরে মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসগুলো যাতে দুর্ঘটনা কবলিত না হয় সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ডিআইজি জানান, রমজান মাসে রোজাদারদের জিম্মি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ালে ভোক্তা অধিকার আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে রংপুর বিভাগের সকল মার্কেটে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। নারী যাত্রীরা বা মেয়েরা ইভটিজিংয়ের শিকার না হয় সেজন্য নারী পুলিশ ছাড়াও সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন করা হবে। এছাড়াও ব্যবসায়ীরা যখনই প্রয়োজন মনে করবেন তাদের টাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাংকে বা কোথাও নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশের সহায়তা চাইলে তা প্রদান করা হবে। এছাড়াও জাল টাকার ছড়াছড়ি রোধে পুলিশ শনাক্তকরণ মেশিন দিয়ে বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ঈদের আগে ও পড়ে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য প্রতিটি বাস টার্মিনালে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এছাড়াও রংপুর বিভাগ থেকে যেসব দূরপাল্লার বাস যাবে সেসব গাড়ি ছাড়ার আগে পুলিশ পরীক্ষা করে দেখবে প্রকৃত ড্রাইভার দিয়ে গাড়ি চালানো হচ্ছে কিনা। কারণ এ সময় ড্রাইভাররা ছুটিতে থাকে অধিক মুনাফা লাভের আশায় হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো হয় সেজন্য এবার সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে ডিআইজি বলেন, পবিত্র রোজা ও ঈদ উপলক্ষে পুরো রংপুর বিভাগকে নিরাপত্তার চাঁদরে ঢেকে দেয়া হবে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবের টহল থাকবে এছাড়াও হাইওয়ে পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশকে এ সময় আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সভায় রংপুর বিভাগের জেলার পুলিশ সুপার, র‌্যাব, রেলওয়ে ও হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।