menu

রংপুরে দুই নারীর মৃত্যু নমুনা পাঠানো হয়েছে

এক যুবকের করোনা সন্দেহ কয়েক এলাকা লকডাউন

সংবাদ :
  • লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
  • ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বালারহাট খন্দকার পাড়া গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন সাজ্জাদ নামে এক যুবকের শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। নমুনা পরীক্ষায় করোনাভাইরাস পজিটিভ বলে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন ভূইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন এ ঘটনার পর খন্দকার পাড়া গ্রামটি লকডাউন করা হয়েছে। অন্যদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে রংপুরের কাউনিয়া ও মিঠাপুকুরে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের রক্তসহ অন্য উপকরণ নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

রংপুরের সিভিল সার্জেন ডা. হিরম্ব কুমার জানিয়েছেন, তারা দু’জনেই অসুস্থ ছিলেন তবে তাদের অসুস্থতার বিষয়টি সন্দেজনক হওয়ায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি। হারাগাছ মেট্রোপলিটান থানার ওসি রেজাউল করিম জানান, কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ খানসামা হাট গ্রামের মদন সুইপারের স্ত্রী মিনা রানী সুইপার শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে হারাগাছ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হয় সকালে সুইপার মিনা রানী মারা যায়। হারাগাছ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান ডা. শামসুজ্জোহা মারা যাবার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন সে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে কিনা তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তার নমুনা পরীক্ষার জন্য সংঘর্ষ করা হয়েছে। এ ঘটনারর পর মিনা রানীর স্বজনদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ভাংনি ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের ইকবাল হোসেনের স্ত্রী মোরশেদা বেগম শ্বাসকষ্ট জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে গত মঙ্গলবার টাঙ্গাইল হাসপাতালে মারা যায়। এরপর তার লাশ হাসপাতাল কতৃপক্ষ সেখান থেকে নমুনা পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আবার মরদেহটি মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেয়। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি মিঠাপুকুর হাসপাতালে আনার পর অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার ও মৃতের স্বজনরা গা ঢাকা দেয়। পরে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ডা. আবদুল হাকিম জানান, বিষয়টি সিভিল সার্জেনকে জানানোর পর মৃত নারীর নমুনা সংগ্রহ করে স্বজনদের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাবার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে সে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিল কিনা।

এদিকে সিভিল সার্জেন ডা. হিরম্ব কুমার জানান, দুটি মৃত দেহের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজের করোনা ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাবার পর পুরো বিষয়টির নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত যুবক সাজ্জাদ সম্পর্কে স্থানীয় বালারহাট ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস জানান, সাজ্জাদ নারায়ণগঞ্জে তার আত্মীয়র বাসায় বেড়াতে গিয়েছিল সেখানে কয়েকদিন অবস্থান করে গত ২০ মার্চ নাইট কোচে করে ঢাকা থেকে বাসায় আসে। কয়েকদিন ধরে হঠাৎ করে জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তার নমুনা সংগ্রহ করে রংপুর মেডিকেল কলেজের সদ্য স্থাপিত পিসিআরে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে সেখান থেকে করোনাভাইরাস পজিটিভ বলে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, আক্রান্ত যুবকটি তার বাসায় অবস্থান করছে। প্রতিবেদন পাবার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে পুরো এলাকা লকডাউন ঘোষণা করে লাল ঝাণ্ডা লাগিয়ে দিয়েছে।